একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, রংপুরের বদরগঞ্জে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে সহযোগিতা করায় জামায়াত নেতাসহ তিনজনকে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। শনিবার বদরগঞ্জ উপজেলার নাগেরহাট এলাকায় যমুনাশ্বরী নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালায়। অভিযানে বালু উত্তোলনের ড্রেজার মেশিনসহ সরঞ্জাম অকেজো করার কার্যকম শুরু করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানের সময় উপস্থিত লোকজনের সহায়তা চায় প্রশাসন। এ সময় জামায়াতে ইসলামী কুতুবপুর ইউনিয়ন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক তারাজুল ইসলাম এবং কুতুব উদ্দিন পীরের মাজার মসজিদের মোয়াজ্জিন নূর আলম ভ্রাম্যমাণ আদালতকে সহযোগিতা করেন। এতে তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হন অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মূল হোতা কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ওহিদুল ইসলাম, ফোকলা জামান এবং ওই এলাকার আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী ইলিয়াস আলী ও তাদের লোকজন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নাগেরহাট কুতুবিয়া দাখিল মাদ্রাসার সামনে মোয়াজ্জিন নূর আলমকে মারপিট করা হলে তিনি মসজিদের ভেতর আশ্রয় নেন। কিন্তু তাকে মসজিদ থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে এনে লাঠিপেটা করেন বিএনপি নেতারা। পরে আহত নূর আলমকে উদ্ধার করে বদরগঞ্জ হাসপাতালে নেওয়ার পথে নাগেরহাট বাসস্ট্যাণ্ডে তাদের পথরোধ করা হয়। এ সময় ওহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে ভ্যানে থাকা জামায়াত নেতা তারাজুল ইসলাম এবং ইমাম রওশন আলীসহ কুতুবপুর গাছুয়াপাড়া এলাকার এক যুকবকে আরেক দফা মারপিট করা হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ৫ আগস্টের পর বিএনপি নেতা ওহিদুল ইসলাম বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তিনি এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। তার চাঁদাবজি, জমিদখল ও বালু ডাকতির ঘটনায় এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। তার বিরুদ্ধে ফুলবাড়ী মিঠাপুকুর মহাসড়কে নিয়মিত চাঁদা তোলার অভিযোগও রয়েছে।
অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানকে কেন্দ্র করে যেসব ঘটনা ঘটে গেল, তা খুবই দুঃখজনক ও আপত্তিকর। প্রশাসনকে স্থানীয় জামায়াত নেতা এবং মুয়াজ্জিন সহযোগিতা করে তো কোনো ভুল কাজ করেননি। বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে তারা সঠিক কাজই করেছেন। বালু ডাকাতদের ভ্রাম্যমাণ আদালত যখন স্থানীয় নাগরিকদের সহযোগিতা চাইলেন, তখন তো সরকারী দল বিএনপির নেতা-কর্মীদের সবার আগে এগিয়ে আসা উচিত ছিল। কিন্তু তারা সেই কর্তব্য পালনে সমর্থ হননি, বরং যারা এগিয়ে এসেছিলেন তাদের ওপর সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা চালান। ভ্রাম্যমাণ আদালতকে তারা সমর্থন করবেন কীভাবে, নিজেরাই যে অপরাধী! বিএনপির পরিচয়ে বালু ডাকাত ও মাদক ব্যবসায়ীরা এখন যে সন্ত্রাস ও অপতৎপরতা চালাচ্ছে তা এক অশনি সংকেত। ৫ আগস্টের পর সন্ত্রাস ও ফ্যাসিবাদের এই রাজনীতি চলতে পারে না। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে ভেবে দেখা প্রয়োজন বিএনপি নেতাদের।
এখানে প্রশাসনের ভূমিকাও পর্যালোচনার দাবি রাখে। অবৈধ ভালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান এতটা দুর্বল কেন? সরকারি দলের নেতাদের কি তারা ভয় করেন? সরকারের অভয়নবাণীতে কি তাদের আস্থা নেই? আর তাদের সাহায্যে যারা এগিয়ে এলেন, সেই নাগরিকদের নিরাপত্তাও প্রশাসন দিতে পারলো না কেন? এই ঘটনার বার্তাটা কেমন হলো? প্রশাসন কি সঠিক বার্তা দিতে সক্ষম হবে?