মীম মিজান

আজ যা নতুন কালের আবর্তনে তাই একদিন বনে যায় স্মৃতি। তবে সে স্মৃতি যদি মানুষের হয়, মননের হয় কিংবা নিত্য প্রয়োজনে হয়; তাহলে সেটির গুরুত্ব কালান্তরি। এমনই গুরুত্বপূর্ণ ও কালান্তরি স্মৃতি আমাদের লোকজ সংস্কৃতির অংশ বাঁশ, বেত, কাঠ, পাট, পাতা, বিভিন্ন ধাতুর তৈরি গৃহস্থালি ও শৌখিন জিনিসপত্র। এসব আমাদের বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন মেলায় সম্ভার নিয়ে হাজির হয়। বছরের অন্যান্য সময়ে কমবেশি পাওয়া গেলেও এসময় নজরে পড়ার মতো উপস্থিতি থাকে সেগুলোর। তবে কালের যে অভিঘাত আর কর্পোরেট পুঁজির নানা কূটকৌশলের জালে লোকজ এসব পণ্য ও কুটির পণ্যগুলো প্লাস্টিকের বাহারি রঙের ক্ষতিকর লোভনীয় সামগ্রীর বানে টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে। আমরা এমনই হয়ে গেছি যে, আর বেশি বেশি বাঁশ চাষ করছি না। যে বাঁশ আমাদের প্রকৃতিকে বাঁচাতে সাহায্য করে পাশাপাশি আমাদের ঘর সংসার সাজাতেও কাজে লাগে। অনুরূপ গাছ, বেত ইত্যাদিও কমে যাচ্ছে। বাস্তবতার মুখে দাঁড়িয়ে আমাদের এগুলো রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। যাহোক, মেলায় লোকজ যে সামগ্রী এখনও পাওয়া যাচ্ছে সেগুলি নিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে একটি লেখা নিয়ে অবতীর্ণ হয়ে তাদেরকে আমাদের লোকজ ঐতিহ্যের সাথে পরিচয় করার প্রয়াস করছি।

বাংলার লোকজ ভিত্তির বাঁশ ও বেতের কারুকাজ

আমাদের হাজার বছরের সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হচ্ছে আমাদের লোকজ ঐতিহ্য। আধুনিক যান্ত্রিকতার এই প্রবল স্রোতেও আমাদের গ্রামীণ জনপদে এবং উৎসবের আমেজে আজও অম্লান হয়ে আছে বাঁশ ও বেতের নিপুণ কারুকাজ। একসময় যা ছিল কেবলই দৈনন্দিন ব্যবহারের প্রয়োজন, আজ তা আমাদের শিল্পের মর্যাদায় আসীন। বিশেষ করে পয়লা বৈশাখের মেলায় যখন চাঙারি, কুলা, ডালা আর ঝুড়ির পসরা বসে, তখন মনে হয় যেন বাংলার মাটির সোঁদা গন্ধ আর কারুশিল্পীর হাতের জাদু মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে।

বাংলার বাঁশ ও বেত শিল্পের কথা বলতে গেলে প্রথমেই যে নামগুলো মনে আসে, তা হলো চাঙারি, কুলা এবং ঝুড়ি-ডালা। এগুলোর প্রতিটি উপকরণের সাথে মিশে আছে কৃষিনির্ভর বাংলার জীবনধারা। বাঁশ এবং বেত, এদুটি প্রাকৃতিক উপাদানকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয় বাংলার কুটির শিল্পের একটি বিশাল অংশ। এটি কেবল পরিবেশবান্ধব নয়, বরং বাঙালির দীর্ঘদিনের স্বয়ংসম্পূর্ণ জীবনের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

শস্য ঝাড়া বা সবজি রাখার জন্য বাঁশের চটা দিয়ে বোনা চাঙারিগুলো বাঙালির ঘরে ঘরে এক অতি পরিচিত নাম। এটি কেবল একটি পাত্র নয়, এটি বাঙালির শ্রম আর কৃষিকাজের প্রতীক। বাঁশের সরু চটাগুলোকে নিপুণভাবে একটির ওপর অন্যটি সাজিয়ে যেভাবে চাঙারি বোনা হয়, তা এক গভীর ধৈর্যের কাজ। আমাদের আধুনিক প্লাস্টিক বা স্টিলের পাত্রের ভিড়ে চাঙারির গুরুত্ব আজও ফুরিয়ে যায়নি। এটি অত্যন্ত টেকসই এবং হালকা। পয়লা বৈশাখের মেলায় যখন নতুন বাঁশের চাঙারি সাজিয়ে রাখা হয়, তখন তার সোনালি আভা আর সুগন্ধ যেন মেলায় এক আলাদা স্নিগ্ধতা নিয়ে আসে। পরিবেশ রক্ষায় যখন বিশ্ব আজ ব্যাকুল, তখন আমাদের এই আদি ও অকৃত্রিম বাঁশের চাঙারি হতে পারে প্লাস্টিক দূষণের এক চমৎকার বিকল্প।

প্রত্যেকদিনই মা-চাচিদের হাতের স্পর্শ পায় কুলা

বাঙালির রান্নাঘর থেকে শুরু করে সামাজিক উৎসব সবখানেই কুলা এক অপরিহার্য অনুষঙ্গ। নতুন ধান ঝেড়ে পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে ধান শুকানো পর্যন্ত কুলার ব্যবহার গ্রামীণ জীবনের প্রাত্যহিক দৃশ্য। যদিও চাল ঝাড়ার কাজ অনেকটাই ধানভাঙার মেশিনেই সেড়ে নেয় অনেকে, তবুও সামান্য তুষ-গুড়া, চিটা ইত্যাদি বাছতে কুলোর ব্যবহার নিত্যকার। কিন্তু কুলার মাহাত্ম্য কেবল ব্যবহারিক প্রয়োজনেই সীমাবদ্ধ নয়। আমাদের সামাজিক ও সনাতন ধর্মীয় উৎসবে কুলার একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। সনাতনী বিয়ের বরণডালা সাজানো থেকে শুরু করে ধান-দূর্বা দিয়ে আশীর্বাদ করার সময় কুলা হয়ে ওঠে মাঙ্গলিক চিহ্ন। বৈশাখী মেলায় যে কুলাগুলো পাওয়া যায়, তার অনেকগুলোতে থাকে বর্ণিল আল্পনার ছোঁয়া। লাল, সবুজ, হলুদ আর সাদার সংমিশ্রণে শঙ্খ, লতা-পাতা বা মাছের নকশা আঁকা এই কুলাগুলো আমাদের লোকজ চিত্রকলার এক অনন্য উদাহরণ। ড্রয়িংরুমের দেওয়ালে সাজিয়ে রাখা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার কুলার কোনো বিকল্প বাঙালি আজও খুঁজে পায়নি।

নিপুন বয়নের ঝুড়ি ও ডালা

গ্রামের প্রতিটি ঘরে আজও বিভিন্ন মাপের ও ধাঁচের ঝুড়ি ও ডালার ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। পাতলা করে যেগুলো তৈরি করা হয় সেগুলো ডালা বা ডালি। আর চালা ও ধারা দিয়ে যেগুলো তৈরি করা হয়, শক্তপোক্ত সেগুলোকে ঢাকি বলে। মাছ ধরা থেকে শুরু করে ফলমূল রাখা কিংবা শস্য পরিবহন সবক্ষেত্রেই বাঁশ বা বেতের তৈরি এই সামগ্রীগুলো অপরিহার্য। বয়নশৈলীর বৈচিত্র্য এই ডালা বা ঝুড়িগুলোকে একেকটি শিল্পকর্মে রূপান্তর করে। কোনোটি খুব ঘনভাবে বোনা, কোনোটি আবার কিছুটা ফাঁকা করে নকশা করা। এই সূক্ষ্ম কারুকাজগুলো আমাদের গ্রামবাংলার কারুশিল্পীদের জীবনযুদ্ধের কথা বলে। একটি ঝুড়ি বা ডালা যখন কোনো মেলায় ওঠে, তখন তার পেছনে থাকে কয়েক দিনের হাড়ভাঙা খাটুনি আর বংশপরম্পরায় চলে আসা মেধা। পাশাপাশি আমরা একটি প্রবাদ থেকে যে বস্তুটির সাথে পরিচিত হয় সেটির নাম হচ্ছে চালুনি। প্রবাদটি হচ্ছে, চালুনি বলে অন্যের পেছনে ছিদ্র। এটি সেই চালুনি যাতে খৈ ভেজে ঝাকিয়ে নিয়ে ধানের তুষগুলো বের করে ফেলতে হয়। কিন্তু আধুনিক যুগে বৃহৎ মুড়ির মিল এসে এটির ব্যবহার একবারেই কমে গেছে।

বর্তমান বিশ্বে যখন টেকসই উন্নয়ন বা ‘সাসটেইনেবল লিভিং’ এর কথা বলা হচ্ছে, তখন বাংলার এসব বাঁশ ও বেত শিল্প আমাদের জন্য আদর্শ হতে পারে। এটি পুরোপুরি প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি এবং পরিত্যক্ত হওয়ার পর সহজেই মাটির সাথে মিশে যায়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, কাঁচামালের অভাব এবং আধুনিক প্লাস্টিক পণ্যের সস্তা জনপ্রিয়তার কারণে এই শিল্পের কারিগররা আজ অনেকটা কোণঠাসা। তবু বৈশাখী মেলার মতো উৎসবগুলো আজও প্রিয় ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রেখেছে।

হাতের শ্রমে শরীরকে শীতল করার হাতপাখা

আমাদের ষড়ঋতু আর বৈচিত্রের দেশে কত কত উৎসব। আর এগুলোর অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হলো মেলা। বিশেষ করে পয়লা বৈশাখের মেলা কেবল কেনাবেচার জায়গা নয়, এটি বাঙালির শৈল্পিক সত্তা ও হাজার বছরের লোকজ ঐতিহ্যের এক মিলনমেলা। কাঠফাটা রোদে ঘাম ঝরানো দুপুরে একঝলক শীতল বাতাস দেওয়া হাতপাখা থেকে শুরু করে মাটির সোঁদা গন্ধে ভরা তৈজসপত্র সবই যেন আমাদের অস্তিত্বের শিকড়কে মনে করিয়ে দেয়। মেলার ধুলোবালি, নাগরদোলার ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ আর কুটির শিল্পের এই সমাহার আমাদের নাগরিক জীবনের যান্ত্রিকতা ভুলিয়ে দেয়।

বৈশাখী মেলায় হাতপাখার বৈচিত্র্য থাকে দেখার মতো। যখন বিদ্যুতের দাপট ছিল না, তখন এই হাতপাখাই ছিল বাঙালির পরম বন্ধু। আজও এর আবেদন এতটুকু কমেনি, বরং এর শৈল্পিক রূপ আমাদের মুগ্ধ করে। মেলার সবচেয়ে আকর্ষণীয় হাতপাখা হলো নকশী পাখা। এটি কেবল বাতাস দেওয়ার সরঞ্জাম নয়, এটি এক টুকরো শিল্পকর্ম। সাধারণত সুতি কাপড় গোল করে কেটে বাঁশের কঞ্চির ফ্রেমে আটকানো হয়। এরপর তার ওপর রঙিন সুতো দিয়ে লতা-পাতা, ফুল-পাখি কিংবা গ্রামীণ জীবনের দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়। কোনো কোনো পাখার চারপাশ দিয়ে রঙিন ঝালর লাগানো থাকে, যা ঘোরানোর সময় এক অপূর্ব নান্দনিকতা সৃষ্টি করে। গ্রামের বধু-কন্যারা তাদের মনের মাধুরী মিশিয়ে এই নকশাগুলো করেন, যেখানে মিশে থাকে বাংলার চিরন্তন মমতা।

তালের পাতার পাখা হলো বাংলার সবচেয়ে প্রাচীন ও সহজলভ্য পাখা। এটি অত্যন্ত সাধারণ, কিন্তু এর কার্যকারিতা অতুলনীয়। তালের পাতা শুকিয়ে গোল করে কেটে কিংবা ভাঁজ করে এই পাখা তৈরি করা হয়। মেলায় অনেক সময় এই তালের পাতার পাখায় উজ্জ্বল লাল বা নীল রঙ দিয়ে জ্যামিতিক নকশা করা থাকে। এই পাখাটি হাতে নিলে যে প্রাকৃতিক ও শীতল বাতাস পাওয়া যায়, তা যেন শরীরের সব ক্লান্তি মুহূর্তেই ধুয়ে দেয়। বাঁশের সরু চটা বা বেত দিয়ে বোনা পাখাগুলোও মেলায় বেশ চোখে পড়ে। এগুলো যেমন টেকসই, তেমনি এদের বুননশৈলী অত্যন্ত চমৎকার। কখনো ডাব্লু আকৃতির, কখনো বা চতুর্ভুজাকৃতির এই পাখাগুলো কারুশিল্পীদের মুন্সিয়ানার পরিচয় দেয়। মেলায় এই পাখাগুলো স্তূপ করে রাখা থাকে, যা দূর থেকে দেখলে এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তৈরি করে।

মেঠোপথের ধারে মাটির হাঁড়িপাতিল

মেলার এক কোণে সারি সারি সাজানো থাকে মাটির তৈরি জিনিসপত্র। মাটির সোঁদা গন্ধ আর উজ্জ্বল রঙের প্রলেপ ছোট-বড় সবাইকে টেনে নিয়ে যায় সেই আদিম ঐতিহ্যের কাছে। আমাদের ছোটবেলার সঞ্চয়ের হাতেখড়ি হয় মাটির ব্যাংকের মাধ্যমে। হাতি, ঘোড়া কিংবা লাল টুকটুকে ফলের আকৃতির এই ব্যাংকগুলো কেবল পয়সা জমানোর পাত্র নয়, বরং এটি মিতব্যয়িতার এক পাঠশালা। একসময় বাঙালির ঘরে ঘরে মাটির সানকিতে খাওয়ার প্রচলন ছিল। মেলায় আজও পান্তা খাওয়ার জন্য সানকি কেনা হয়। আর সরা চিত্র তো বাংলার লোকচিত্রকলার এক অনন্য উদাহরণ।

এসির যুগে অকৃত্রিম শান্তির শীতল পাটি

বেত বা পাটি গাছ (মুর্তা/মোতা) দিয়ে বোনা শীতল পাটি বাঙালির এক পরম গৌরবের সম্পদ। মেলায় যখন বড় বড় রোলে এই পাটিগুলো সাজিয়ে রাখা হয়, তখন তার মসৃণতা আর বুনন দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। নামের সার্থকতা বজায় রেখে এটি গরমের দিনে শরীরকে শীতল রাখে। একেকটি শীতল পাটি বুনতে কারিগরের মাসের পর মাস সময় লাগে। পাটির ওপর বেতের সরু তন্তু দিয়ে যখন বিভিন্ন নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়, তখন তা কেবল একটি বিছানা থাকে না, হয়ে ওঠে একটি সজীব কবিতা। বাংলাদেশের এই শীতল পাটি আজ বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃত।

শিশুমনের সওয়ারি কাঠের খেলনা

প্লাস্টিক আর ইলেকট্রনিক বা ভিডিও গেমের যুগেও কাঠের খেলনার প্রতি ছোট্ট মানুষদের টান আজও অটুট। মেলার এক প্রান্তে শোনা যায় কাঠের টমটম গাড়ির ‘খটখট’ শব্দ। হাতে বানানো এই টমটম, কাঠের ঘোড়া কিংবা চাকাওয়ালা পাখিগুলো শিশুদের সহজ-সরল বিনোদনের উৎস। চাকা লাগানো একটি কাঠের ঘোড়া যখন একটি শিশু মেলা থেকে টেনে নিয়ে যায়, তখন তার মুখের হাসি যেন পুরো মেলার সার্থকতা প্রমাণ করে। এই খেলনাগুলোতে কোনো কৃত্রিমতা নেই, আছে কেবল কাঠের পরশ আর গ্রামীণ কারিগরের ভালোবাসা। ব্যাঙগাড়ি শিশুদের অন্যতম আকর্ষণ। ব্যাঙের মতো মোটকা শরীরে যখন মাটির দুটো চাকার মাঝখানে দুটো কাঠি খানিক পরপর আওয়াজ করে, শিশুমন তখন আনন্দে সওয়ার হয়ে আনন্দ রাজ্যে ভ্রমণে বের হয়।

দাদা-দাদিরা সারাবছর টাকা জমিয়ে মেলা থেকেই টিনের তৈরি ট্রাঙ্ক, পানের বাটা, সুপারি কাটার দস্তা, ফোকলা দাদুর জন্য পান-সুপারি গুড়া করার হামুর-গাইন, কড়াই সবগুলোই কিনতে টাকা দিয়ে পাঠিয়ে দেন নাতিদের। সুতরাং মেলাগুলোতে নানাভাবে সবারই উপস্থিতি থাকে। থাকে অংশগ্রহণ।

বৈশাখী মেলার প্রতিটি সামগ্রীই তা সে একটি মাটির খেলনা হোক কিংবা একটি নকশী পাখা সবই আমাদের বাঙালি পরিচয় বহন করে। লোকজ শিল্পগুলো কেবল গৃহস্থালি সামগ্রী নয়, এগুলো আমাদের পূর্বপুরুষদের জীবনদর্শনের প্রতিচ্ছবি। তারা শিখিয়ে গেছেন কীভাবে প্রকৃতির সাথে মিশে থেকে সুন্দর জীবন যাপন করা যায়। বর্তমান যুগে যখন বিশ্বায়নের প্রভাবে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি কিছুটা ফিকে হয়ে আসছে, তখন এমেলাগুলোই আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমরা কে। একুটির শিল্পগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা মানে কেবল কিছু পণ্য কেনা নয়, বরং হাজার বছরের একটি সভ্যতাকে টিকিয়ে রাখা। আসুন, এবারের নববর্ষে আমরা প্লাস্টিকের জঞ্জাল বাদ দিয়ে মেলা থেকে একটি নকশী পাখা, একটি মাটির ব্যাংক কিংবা একটি শীতল পাটি কিনে আমাদের লোকজ শিল্পীদের পাশে দাঁড়াই। তবেই সার্থক হবে আমাদের উৎসব, তবেই টিকে থাকবে বাংলার অমলিন ঐতিহ্য। এসামগ্রীগুলোর মাঝেই বেঁচে আছে আমাদের বাংলাদেশ।

লেখক : শিক্ষক, প্রাবন্ধিক ও গবেষক