ড. আবদুল আলীম তালুকদার

পহেলা বৈশাখ বাংলা সালের প্রথম দিন। এই দিনটিকে বাঙালি সমাজ একটি সর্বজনীন লোক উৎসব হিসেবে পালন করে থাকে। এদিন আনন্দঘন পরিবেশে বরণ করে নেওয়া হয় নতুন বছরকে। অতীতে ফেলে আসা সব ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতার গ্লানি মুছে ফেলে নতুন করে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় উদ্যাপিত হয় বাংলা নববর্ষ।

প্রাচীনকাল থেকেই বাংলাদেশের মানুষ উৎসব প্রিয়। ঋতু-বৈচিত্র্যের মতো বাংলাদেশে উৎসবের বৈচিত্র্যও কম নয়। এদেশে প্রায় বারো মাসই নানান উৎসব লেগেই আছে। যেমন- ধর্মীয় উৎসব, সামাজিক উৎসব, সাংস্কৃতিক উৎসব, পারিবারিক উৎসব, বিভিন্ন বরণীয় ব্যক্তির স্মরণোৎসব ইত্যাদি। যে কোনো অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশীরা মেতে ওঠে উৎসবের আনন্দে। এ রকম বিভিন্ন উৎসবের আনন্দের মধ্য দিয়ে বাঙালির মানবতার মুল্যবোধ প্রকাশ পায়। এসব উৎসব পালনের ভেতর দিয়ে ফুটে ওঠে বাংলাদেশের মানুষের আবহমানকালের প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক জীবনবোধ। নিজের আনন্দ অন্য সবার মাঝে প্রসারিত করে বিলিয়ে দিয়ে নিজে আনন্দিত হওয়া- এ আকাক্সক্ষা বুকে ধারণ করে এদেশের মানুষ নানা পার্বণ উপলক্ষে স্বতঃস্ফূর্তভাবে উৎসবে মেতে ওঠে। বাংলা নববর্ষ বাংলাদেশের মানুষের জীবনে তেমনি একটি উৎসব।

বাংলা বছরের শেষ মাস চৈত্রের অবসানে বৈশাখ আসে, আসে নববর্ষ। পহেলা বৈশাখ বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিন। দিনটি আমাদের কাছে ‘নববর্ষ’ নামে পরিচিত। পৃথিবীর সর্বত্র নববর্ষ একটি ঐতিহ্য। নববর্ষে আমরা অতীত বছরের অবসান এবং নবাগত বছরের আবির্ভাবের মুখোমুখি এসে দাঁড়াই। বাংলা নববর্ষ আমাদের জাতীয় জীবনের গণমুখী ও সর্বজনীন উৎসব। এ দিনে বাংলাদেশের সকল ধর্মের ও সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ অতীতের সুখ-দুঃখ ভুলে গিয়ে নতুনের আহবানে সাড়া দিয়ে ওঠে। বৈশাখের প্রথম দিনটিতে মানুষের মনে জাগে নানা আশা, আকাক্সক্ষা ও আনন্দ। উত্থান-পতন, ভালো-মন্দ, আশা-নিরাশা, আনন্দ-বেদনায় ভরা মানব জীবন। তবু মানুষের আশাবাদী মন দুঃখ-বেদনার স্মৃতি ভুলতে চেষ্টা করে। নতুন বছরের নবীন সূর্য বিগত বছরের গ্লানি, হতাশা, বেদনা বিদূরিত করে জীবনকে সফল করে আনন্দের সিংহদ্বারে নিয়ে পৌঁছাবে- এ প্রত্যাশাতেই বিপুল আনন্দে বাংলাদেশের মানুষ নববর্ষকে আপন করে নেয়; নতুন উদ্দীপনায় সে যেন নতুন প্রাণ পায়। এই আবেগ আর উপলব্ধির প্রেক্ষিতে বাংলা নববর্ষ বাংলাদেশের সংস্কৃতিরও অঙ্গ বলে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলা নতুন বছরের দিনটি তাই এদেশবাসীর উৎসবের দিন।

প্রাচীনকালে আমাদের দেশে অগ্রহায়ন মাস থেকে বছর গণনা হতো। এদেশের সহজ-সরল জনগণ তখনো চন্দ্রসূর্যের গতি অবলোকন করে বর্ষ গণনা করতে শেখেনি। তাই প্রকৃতির স্বভাব ও লক্ষণ দেখে তারা বর্ষ গণনা করত। ‘অগ্র’ অর্থাৎ শ্রেষ্ঠ, ‘হায়ন’ অথবা ব্রীহি বা ধান জন্মায় যে সময় সেটা অগ্রহায়ন। এ সময় কৃষকের ঘরে নতুন ফসল থাকত, ফলে রাজস্ব আদায় ও ঋণ পরিশোধের এটাই ছিল যথার্থ সময়। অতঃপর মুঘল সম্রাট জালালুদ্দীন মুহাম্মদ আকবরের রাজত্বকালে কৃষকদের ধান তোলার কাল ও রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে অগ্রহায়নের পরিবর্তে গণনা শুরু হয় বৈশাখ থেকে।

ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম শাসকগণ সর্বপ্রথম হিজরি সন গণনার রেওয়াজ চালু করেন। খলজী বংশীয় তুর্কী বীর ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজী বঙ্গদেশ জয় করেন ৬০০ হিজরি তথা ১২০৬ খ্রি.। তখন থেকে শুরু করে উপমহাদেশে মুঘল সম্রাট আকবরের রাজত্বকালের চান্দ্র বর্ষভিত্তিক হিজরি সন প্রচলিত ছিল। সরকারি কাজেও হিজরি সন ব্যবহার করা হতো। হিজরি সন চান্দ্র সন বলে এ সনের সময়কাল সৌরবর্ষের চেয়ে কিছুটা কম অর্থাৎ ৩৫৪ দিন। অন্যদিকে, সৌর সনের বছর ৩৬৫ দিনে হওয়ায় প্রতি বছর চান্দ্রসনের সাথে ১০/১১ দিনের পার্থক্য হয়ে যেত। এর ফলে প্রতি বছরে দিনক্ষণ ও তিথি, নক্ষত্র, লগ্নভিত্তিক উৎসব, আচার-আচরণ, উৎসব-অনুষ্ঠানে দারুণ অসুবিধা দেখা দেয়। এছাড়াও চান্দ্রবর্ষের হিসেবে একই মৌসুমে একই মাস বিদ্যমান থাকে না, বিধায় উপমহাদেশে রাজকোষের খাজনা আদায়ের ব্যাপারে অসুবিধায় পড়তে হয়। সাধারণত কৃষকেরা প্রধান ফসল যখন তোলেন তখন খাজনা আদায় সুবিধাজনক। কেননা, ফসল মৌসুম ঋতুভিত্তিক আর হিজরি সন চান্দ্রভিত্তিক। কিন্তু চান্দ্রবর্ষে মাস এগিয়ে যায় বলে খাজনা আদায়কারী রাজ কর্মচারীরা ও প্রজারা উভয়ই অসুবিধার সম্মুখীন হন। এ সকল অসুবিধার কথা সম্রাট আকবরের দরবারের নবরত্ন ও অন্যান্য সভাসদদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়।

সভাসদদের আলোচনার ভিত্তিতে মুঘল সম্রাট আকবর সৌর মাসভিত্তিক বর্ষ গণনার কথা চিন্তা করেন। তার রাজত্বের ২৯ বছর পূর্তিতে তিনি তার দরবারের অন্যতম পন্ডিত জ্যোতিষ শাস্ত্রবিদ আমীর ফতেহ উল্লাহ্ সিরাজীকে হিজরি সনের সাথে সমন্বয় করে সৌর বর্ষভিত্তিক ‘ফসলি সন’ প্রবর্তনের নির্দেশ প্রদান করে রাজ ফরমান জারি করেন। তিনি সম্রাটের নির্দেশ মোতাবেক সৌর মাসভিত্তিক একটি নতুন সনের উদ্ভাবন করেন। এটি মৌসুমভিত্তিক সৌর সন। এর নাম দেয়া হয় ‘ফসলি সন’। সম্রাট আকবর ৯৯৩ হিজরি সন মোতাবেক ১৫৮৪ খ্রি. ১০ মার্চ মতান্তরে ১১ মার্চ ‘ফসলি সন’- এ ফরমান জারি করেন। পরবর্তীকালে এ ফসলি সনই বাংলা সন বা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিতি লাভ করে।

ইতিহাস পাঠে জানা যায়, মুসলিম ঐতিহ্যের হিজরি সনকে ভিত্তি করেই বাংলা সনের উৎপত্তি হয়েছে এবং বাংলা নববর্ষ প্রবর্তনের সাথে দু’জন বিখ্যাত মুসলমান শাসকের নাম অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। এদের একজন সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ্ (১৪৯৩-১৫১৯ খ্রি.) এবং অপরজন মুঘল সম্রাট মহামতি জালালুদ্দীন মুহাম্মদ আকবর (১৫৪২-১৬০৫ খ্রি.)। অধিকাংশ ঐতিহাসিকের মতে, মুঘল সম্রাট আকবরের আমলেই বাংলা সন সর্বভারতীয় বর্ষপঞ্জিতে অন্যতম সন হিসাবে স্বীকৃতি পায় এবং এই ঐতিহ্যিক ধারা প্রবর্তনের কৃতিত্ব একমাত্র মুসলমানদের।

ঐতিহাসিকদের মতে, বাংলা নববর্ষের সূচনা মুসলমানদের হাত ধরেই হয়েছিল এবং হিজরি সনের ওপর ভিত্তি করেই বাংলা সনের উৎপত্তি। সম্রাট আকবরের (১৫৫৬-১৬০৫ খ্রি.) শাসনামলে বাংলার কৃষকদের কাছ থেকে খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে হিজরি সনকে মূলভিত্তি ধরে প্রথম বাংলা সনের প্রবর্তন করেন। ১৬১০ সালে যখন ঢাকাকে সর্বপ্রথম রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হয় তখন রাজস্ব আদায় আর ব্যবসা-বাণিজ্যের হিসাব-নিকাশ শুরু করার জন্য পহেলা বৈশাখকে সম্রাট আকবরের অনুকরণে সুবেদার ইসলাম খান চিশতি তার বাসভবনের সামনে সব প্রজার শুভ কামনা করে মিষ্টি বিতরণ এবং বৈশাখী উৎসব পালন করতেন। তারই ধারাবাহিকতায় এই পহেলা বৈশাখ আজো আমাদের কাছে অতুলনীয় আনন্দের একটি দিন।

পারস্যের (বর্তমান ইরান) নববর্ষ উদযাপনের অনুষ্ঠান ‘নওরোজ’ এর আদলে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের সূচনাও করেন সম্রাট আকবর। ‘নওরোজ’ অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ ‘মিনাবাজার’। আর এ মিনাবাজারের আদলে বাংলা নববর্ষ উৎসবে যোগ হয়েছে বৈশাখী মেলা।

বাংলা নববর্ষ বহুমাত্রিকতায় পরিপূর্ণ। আগেকার দিনে নববর্ষের উৎসব-অনুষ্ঠান পল্লীকেন্দ্রিক এবং শুধু হালখাতা আর মেলার অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এখন তা পল্লীর সীমা ছাড়িয়ে শহরে ব্যাপ্ত হয়ে জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। এদিনে বাংলাদেশের ছোট-বড় শহর, উপশহর এমনকি গ্রামাঞ্চলে বসে বৈশাখী মেলা। মোসুমী ফলমূল, নানা রকম কুটির শিল্পজাতদ্রব্য, মাটি, কাঠ, বাঁশ, বেতের তৈরি প্রয়োজনীয় জিনিস ও খেলনাসামগ্রী যেমন: হাতি, ঘোড়া, গাড়ি, ঢাক-ঢোল, বাঁশি, মুড়ি-মুড়কি, বাতাসা ইত্যাদি কেনার ধুম পড়ে যায়। এসব মেলায় সাপখেলা, ঘুড়ি উড়ানো, নাগর দোলার আয়োজন থাকে। জাতীয় ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে নববর্ষের আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বেশ কিছুদিন যাবত পান্তা ভাত ও ইলিশ ভাজা খাওয়ার রেওয়াজ চালু হয়েছে।

বাংলা নববর্ষ বাংলাদেশীদের তথা বাঙালিদের নিজস্ব উৎসব। এ উৎসব আমাদের অতীত ঐতিহ্যকে জাগ্রত করে, বর্তমানের মূল্যায়ন ঘটায়, জাতীর আগামী দিনের রূপরেখাটির দিক নির্দেশনা দেয়। তাই বাংলা নববর্ষ আমাদের গৌরব, আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্য, আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অঙ্গ। নববর্ষ উপলক্ষে সর্বজনীন উৎসবের মধ্য দিয়ে সারা দেশের এক অবিভাজ্য সাংস্কৃতিক রূপ ফুটে ওঠে।

কিন্তু এতদসত্ত্বেও একটি ঐতিহ্যবাহী শালীন উৎসবকে সুকৌশলে বিজাতীয় সংস্কৃতি গ্রাস করে ফেলে এদেশীয় কিছু ধর্মবিদ্বেষী তথাকথিত প্রগতিশীল ভিন দেশীয় এজেন্টদের পৃষ্ঠপোষকতায়। তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে ১৯৮৯ সালে এই উৎসবকে কলঙ্কিত করে বিজাতীয় কালচার ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র নামে বেহায়াপনার অপসংস্কৃতি সহজ-সরল ধর্মপরায়ণ বাংলাদেশী জনসাধারণের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়। সেখানে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও আধিপত্যের বিষয় গত ২৫-৩০ বছরে একটু একটু করে প্রবেশ করানো হয়েছে। সকল ভালো-মন্দ, মঙ্গল-অমঙ্গলের মালিক মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে বাদ দিয়ে বাঘ, হাতি, ঘোড়া, কুমির, ময়ূর, পেঁচাসহ বিভিন্ন প্রাণীর মূর্তিকে তারা মঙ্গলের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল- যা এই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের জন্য একটি কালিমাময় অধ্যায় এবং আমাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ বা চিন্তা-ভাবনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। শুধু তাই নয় ভিন দেশের এদেশীয় রাজনৈতিক দালালদের আদর্শ ও নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর কাজটিও এই তথাকথিত ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র নামে পালন করে আসছিল ঐ গোষ্ঠী। কিন্তু বর্তমান সরকার এ বছর মঙ্গল শোভাযাত্রার পরিবর্তে শালীনতার সাথে আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাথে মানানসই বৈশাখী শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে।

‘মঙ্গল’ শব্দটি বাংলাদেশের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছিল ভারতীয় আধিপত্যবাদ। দেবীর সন্তুষ্টির জন্য মধ্যযুগে মঙ্গলকাব্য লেখা হতো। মঙ্গলের জড়িয়ে রয়েছে মন্দির কালচার। যদিও বহুকাল আগে থেকেই বাংলা নববর্ষ শালীনতা ও আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে ধারণ করে পালিত হয়ে আসছে। এটি নতুন উদ্ভাবিত কোনো ঘটনা নয়। অথচ আমাদের দেশের কিছু আত্মবিনাশী, আত্মধ্বংসী বা দেশবিরোধী তথাকথিত বুদ্ধিজীবি আমাদের তরুণদের মোহগ্রস্ত করার জন্য এই উৎসবকে ব্যবহার করে।

আমাদের স্বর্ণালী অতীত ভুলে গেলে চলবে না। তাই সকল অপসংস্কৃতিকে পায়ে দলে সোনালী অতীতকে ফিরিয়ে আনার সময় এসেছে। আর এ কাজটি সফল করতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবে নেতৃত্বদানকারী তরুণ প্রজন্মকে এ দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হবে। তবে পাশে এসে দাঁড়াতে হবে সর্বসাধারণকে।

পরিশেষে বলা যায় যে, সম্পূর্ণ বিজ্ঞানসম্মত ও যুগোপযোগী হিজরিভিত্তিক বাংলা সন নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য গৌরবের। আর বাংলা ভাষাভাষী হিসেবে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় আমাদের প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ তথা বাংলা নববর্ষ চিরকাল আমাদের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

লেখক: কবি, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও প্রাবন্ধিক