নুরুল আমিন মিন্টু, চট্টগ্রাম ব্যুরো : বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে শুরু থেকেই ছিল চাপ, উত্তেজনা আর নাটকীয়তা। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ শুরুতেই হোঁচট খেলেও ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়িয়ে বড় সংগ্রহ গড়ে তোলে। পরে বোলিংয়ে মুস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ভেঙে পড়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ। ব্যাটে নাজমুল হোসেন শান্তর দায়িত্বশীল সেঞ্চুরি এবং বল হাতে মুস্তাফিজের বিধ্বংসী স্পেলে শেষ পর্যন্ত দাপুটে জয় তুলে নেয় টাইগাররা, নিশ্চিত করে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ।
গতকাল বৃহস্পতিবার বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ইনিংসের মাত্র ০.২ ওভারে দুর্দান্ত এক লেংথ ডেলিভারিতে আউট হন ওপেনার সাইফ। অফ স্টাম্পের বাইরে পড়ে ভেতরে ঢোকা বলটি ব্যাটের বাইরের প্রান্ত ছুঁয়ে উইকেটরক্ষক টম ল্যাথামের হাতে ধরা পড়ে। কোনো রান যোগ না করেই প্রথম উইকেট হারায় দল (০/১)।
এরপর ২.১ ওভারে দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিদায় নেন তানজিদ হাসান। ব্যাক অব লেংথ বল রক্ষণাত্মকভাবে খেলতে গিয়ে ভেতরের প্রান্তে লেগে বলটি নিজের স্টাম্পেই আঘাত করে। এতে ৯ রানেই ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
৮.৩ ওভারে একইভাবে আউট হন সৌম্য সরকার। অফ স্টাম্পের বাইরে বলকে লেট ড্যাব করতে গিয়ে ভেতরের এজে স্টাম্প ভেঙে যায়। তখন স্কোর দাঁড়ায় ৩২/৩-শুরুর ধাক্কা আরও গভীর হয়।
তবে এরপর ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। মাঝের দিকে গড়ে ওঠে গুরুত্বপূর্ণ জুটি, যা দলকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে নেয়। কিন্তু ৩৮.১ ওভারে আবারও বিপত্তি। সেঞ্চুরির পথে থাকা এক সেট ব্যাটসম্যান বড় শট খেলতে গিয়ে বলের ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে লেগ স্টাম্পে আঘাত পেয়ে আউট হন। দলীয় রান তখন ১৯২/৪।
৪২.৬ ওভারে ইনিংসের সেরা পারফরমার নাজমুল হোসেন শান্ত বিদায় নেন। অফ স্টাম্পের বাইরে ফুল লেংথ বলকে সোজা ছক্কা মারতে গিয়ে ঠিকমতো টাইমিং করতে পারেননি। বলটি বাউন্ডারির ভেতরে স্মিথের হাতে ধরা পড়ে। গুরুত্বপূর্ণ ১০৫ রানের ইনিংস খেলে ফেরেন শান্ত (২২১/৫)।
শেষ দিকে দ্রুত উইকেট হারালেও দলীয় সংগ্রহ বাড়তে থাকে। ৪৭.৫ ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজ স্লগ সুইপ করতে গিয়ে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ তুলে দেন (২৫৬/৬)। ৪৮.১ ওভারে শরিফুল ইসলামের আউট নিয়ে কিছুটা বিতর্ক তৈরি হলেও রিভিউতে আউট প্রমাণিত হয় (২৫৭/৭)। ৪৮.৪ ওভারে আরেকটি উইকেট পড়ে (২৫৭/৮)।
শেষদিকে তৌহিদ হৃদয় ৩৩ ও মুস্তাফিজুর রহমান ৩ রানে অপরাজিত থেকে ইনিংস শেষ করেন। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৬৫ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ।
২৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। ৩.২ ওভারে মুস্তাফিজুর রহমানের বাউন্সারে অপ্রস্তুত হয়ে হেনরি নিকোলস উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দেন (৮/১)।
১৩.৩ ওভারে ১৪৬ কিমি গতির বল সামলাতে না পেরে উইল ইয়ং এজ দিয়ে আউট হন (৫৪/২)। ১৬.৫ ওভারে টম ল্যাথাম সুইপ করতে গিয়ে টপ এজ দেন, শরিফুল ইসলামের হাতে ধরা পড়ে ফেরেন ৫ রানে (৬১/৩)।
মাঝে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা হলেও ২৫.২ ওভারে কেলি কভারে ক্যাচ তুলে দিলে চাপ আরও বাড়ে (১০৮/৪)। ২৯.৫ ওভারে আরেক ব্যাটসম্যান নিজের ভুলেই বোল্ড হয়ে যান (১২৪/৫)।
৩২.৬ ওভারে দুর্দান্ত ইয়র্কারে ক্লার্কসনকে বোল্ড করে ব্যবধান আরও বাড়ান বাংলাদেশের বোলাররা (১৩৭/৬)। এরপর ৩৫.৫ ওভারে মিরাজের অবিশ্বাস্য ডাইভিং ক্যাচ ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় (১৫০/৭)।
৩৭.৩ ওভারে সহজ ক্যাচে আরেক উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড (১৫৪/৮)। ৩৯.৪ ওভারে মুস্তাফিজ আবারও আঘাত করেন, স্টাম্প ভেঙে তুলে নেন নিজের পঞ্চম উইকেট (১৬০/৯)।
শেষদিকে কিছুটা লড়াই করেন ফক্সক্রফট। তবে ৪৪.৫ ওভারে বড় শট খেলতে গিয়ে লং-অনে ক্যাচ দিলে তার ইনিংস থামে ৭৫ রানে। এতে ২১০ রানে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড।
ফলাফল : ৪৪.৫ ওভারে ২১০ রানে গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। ফলে ৫৫ রানের জয়ে ম্যাচ জিতে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। ম্যাচ সেরা হয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও সিরিজ সেরা হয়েছেন নাহিদ রানা।