ঘাম ঝরানো ম্যাচে মোহামেডানকে ৩-২ গোলে হারিয়ে দলকে ফেডারেশন কাপের শিরোপা জিতিয়ে দিলেও পুরস্কার নিতে আসেনি বসুন্ধরা কিংসের ফুটবলাররা। চলতি মৌসুমে এটা মোহামেডানের তৃতীয় শিরোপা। ক্লাব প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর এ নিয়ে দ্বিতীয়বার ঘরোয়া ফুটবলে ট্রেবল জয় করলো বসুন্ধরা কিংস। বুধবার ফাইনাল শেষে বুসন্ধরা কিংস এরেনায় স্বাগতিক ফুটবলারদের উল্লাসে মেতে ওঠার দৃশ্য ও দেখা যায়নি। পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে পর্যন্ত উঠলেন না চ্যাম্পিয়ন কিংসের ফুটবলাররা। তারা না আসায় শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে শুধু কোচ বায়েজিদ জোবায়ের নিপু এসে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি গ্রহণ করেন। এক কথায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান বর্জন করেছিল চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসের ফুটবলাররা।

ফেডারেশন কাপে ১২ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা, ফাইনাল ও টুর্নামেন্ট সেরা- তিনটি পুরস্কার জেতেন বসুন্ধরা কিংসের ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার ডরিয়েলটন। তিন ক্যাটাগরিতে সেরা হিসেবে তার নাম ঘোষণা করে পুরস্কার গ্রহণের আহ্বান জানানো হলেও ডরিয়েলটন আসেননি সেই পুরস্কার নিতে। কোচ বায়েজিদ জোবায়ের নিপু এসে পুরস্কার গ্রহণ করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত অনেক অনুরোধের পর টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার নিয়েছিলেন ডরিয়েলটন। এরপর কোচের হাত থেকে বাকি দুটি পুরস্কারও গ্রহণ করেন। চ্যাম্পিয়ন কিংসের ফুটবলারদের এমন আচরণ দেখে সবাই অবাক। প্রশ্ন ওঠে, কেন কিংসের ফুটবলাররা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান বয়কট করলো? কেন তারা ট্রফি নিতে এলো না?

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বসুন্ধরা কিংসের ফুটবলারদের পারিশ্রমিক বাকি পড়ে গেছে বেশ কিছুদিন ধরে। কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তারা নির্ধারিত পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না। এর প্রতিবাদেই ফেডারেশন কাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরও ট্রফি নিতে মঞ্চে ওঠেননি কিংসের ফুটবলাররা। বসুন্ধরা কিংসের ফুটবলাররা বেশ কিছুদিন ধরেই এ প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। সর্বশেষ ৭টি ম্যাচে দলটি মাত্র একজন করে বিদেশি (ডরিয়েলটন) খেলাচ্ছে। ফাইনালে তারা বিদেশি হিসেবে শুধু ডরিয়েলটনকে খেলিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে কোচ বায়েজিদ জোবায়ের নিপু সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বলেছেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরেই বেতনের দাবিতে আন্দোলন করছে কিংসের ফুটবলাররা। তবে শুধু পারিশ্রমিকের জন্য পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান বর্জন করেনি কিংসের ফুটবলাররা। মোহামেডানের ওপরও ক্ষোভের কারণে এমনটা করেছে। কারণ, এই ফাইনাল নিয়ে মোহামেডান অনেক পানি ঘোলা করেছে। এক পর্যায়ে তো বসুন্ধরা কিংস এই ফাইনাল খেলতে না চেয়ে বাফুফেকে চিঠিও দিয়েছিল। বলেছিল মোহামেডানকে এমনিই চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে দিতে। মূলত বকেয়া পারিশ্রমিক ও মোহামেডানের প্রতি ক্ষোভ- এসব কারণে ট্রফি নিতে আসেনি ফুটবলাররা।’