মঞ্জুরুল ইসলাম

(সাবেক সভাপতি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির)

ইবরাহীম খলিল

২০২৪ ইং সালের আন্দোলনের উত্তাল সময়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন মো. মঞ্জুরুল ইসলাম। তার হাত ধরেই বাংলাদেশে জুলাইয়ের আন্দোলন সফলতা পেয়েছে। দৈনিক সংগ্রামকে শুনিয়েছেন তিনি জুলাইয়ের দেনা পাওনার কথা। ২০২৪ সালে ছাত্রশিবিরের মতো সংগঠনের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কি ধরণের বাধার সম্মুখীন হয়েছেন এমন প্রশ্নে মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, জুলাই আন্দোলনের আগে এবং পরের বাধা দুই রকম ছিল। আমি জুলাইয়ের আগে এবং পরের বছর ২০২৫ সালের জানুয়ারির এক তারিখ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলাম। আন্দোলনের আগে ২০২৪ ইং আওয়ামী লীগ নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এসেছে মাত্র। শুরুতে নির্বাচন কেন্দ্রীক একধরণের প্রেসার ছিল। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যাতে সফল হতে না পারে সেজন্য আমাদের নানা কর্মসূচি ছিল। বিএনপি জামায়াত ছিল। ছাত্রদের পক্ষ থেকে শিবির এককভাবেই বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে ছিল। সেই সময়ে একধরণের চাপ ছিল। আমরা জনশক্তিকে অপেনভাবে কাজ করতে দেওয়ার সুযোগ করে দিতে পারিনি। যারা ক্যাম্পাসে পড়াশোনা করতো; সন্দেহ হলেই তাদের গ্রেফতার করা হতো। আর কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বলতে গেলে অভ্যন্তরীণ কর্মসূচি-- যেমন প্রশিক্ষণমূলক প্রোগ্রাম, রিক্রুটমেন্ট এবং মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে নিজের মতো করে ডিজাইন করে বাস্তবায়ন করতে পারিনি। আরেকটা হলো দায়িত্বশীল শ্রেণি যারা ছিল- কেন্দ্রীয় সভাপতি থেকে শুরু করে দায়িত্বশীল পর্যায়ের যারা ছিল তাদের দৈনন্দিন চলাফেরা করাই কঠিন ছিল। তারা নিজের বাড়িতে থাকতে পারতো না। পরিচিত কোন মেসে থাকতে পারতো না। এটা ছিল আমাদের বড় ধরণের প্রতিবন্ধকতা। ক্যাম্পাসে চলাফেরায় একটু ভিন্ন রকম দেখলেই তারা আক্রমণ করতো। বলা যায় প্রতিনিয়তই বাধার সম্মুখীন হতাম। ৫ আগস্টের যে ব্যাপারটা দাড়ালো ছাত্রশিবির যে ধরণের প্রত্যাশা করে এবং ছাত্রদের যে ধরনের আকাক্সক্ষা ছিল তা লালন করে সামনে আসার যে চেষ্টাটা ছিল, তার বিরোধী সংগঠন যেমন বিএনপি এবং এর অঙ্গ সংগঠনগুলোর চাওয়া পাওয়াটা ভিন্ন রকমের ছিল। যেমন আমরা চাচ্ছিলাম যে সারাদেশে ক্যাম্পাসগুলোতে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নির্বাচনটা হউক। ৫টার মতো নির্বাচন আমরা করতে পেরেছি। বাকীগুলো হয়নি। আবার এধরনের নির্বাচনগুলো ছিল বড়দের নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা। যদি ডাকসুর কথা বলি নির্বাচনের দিন বড় ধরণের গোলমাল ছিল। ছাত্ররা এবং প্রশাসন তাদের মতো করে নির্বাচনটা শেষ করবে, এরমধ্যে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপ ছিল। শুধু ঢাবি না, সারাদেশের প্রত্যেকটা সংসদ নির্বাচনে এরকম বাধা ছিল। ছাত্র রাজনীতির যে গুণগত সংস্কার আমরা চেয়েছিলাম শিবিরের পক্ষ থেকে, ছাত্রদলসহ কিছু সংগঠন তা চায়নি। আমরা চেয়েছিলাম যে ছাত্ররা কি চায়। সেটা আমরা শতভাগ বাস্তবায়ন করতে চাই। কিন্তু তারা চাইলো লেজুরভিত্তির রাজনীতি করা। উদাহরণ হিসেবে যদি বলি তারেক রহমান ঢাবি ক্যাম্পাসে যাচ্ছে, ছাত্রদল ফলাও করে নানা ধরণের কর্মসূচি নিয়ে বসে আছে। তাতে কি দেখা গেছে, তাদের নিজস্ব কোন এজেন্ডা নাই। বসে আছে অন্যদের এজেন্ডা নিয়ে। আমরা এধরণের রাজনীতি চাইনি। আমরা চেয়েছিলাম, ছাত্ররা কি চায়। তাদের পাল্স অনুযায়ী কাজ করতে। এই সংস্কারটা হয় কি-না। ৫ আগস্টের আগে বাধাটা ছিল এক ধরণের পরে দেখা দিলো আরেক ধরণের। বলা যায় সব সময়েই ছাত্র রাজনীতিটা বাধার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

প্রশ্ন. আপনার কাছে জানতে চাই, জুলাই আন্দোলনে ছাত্রশিবিরের সম্পৃক্ততাটা আসলে কবে থেকে ? এমন প্রশ্নে মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, জুলাইয়ের দুই তারিখ থেকেই শিবির সরাসরি আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মসূচিগুলো আসতে ছিল। প্রথমতো কোটা সংস্কার নিয়ে আন্দোলনের যাত্রা শুরু হয়। সেখানে দুই তারিখ থেকেই সমর্থন দেই। প্রথম ধাপ হলো ক্যাম্পাসগুলো ক্লাস বর্জনের মধ্য দিয়ে ২ তারিখ থেকে আন্দোলনে সম্পৃক্ততা শুরু করি। সংস্কার না হলে ছাত্র শিবিরের সব পর্যায়ের জনশক্তিরা ক্লাস করবে না। এই কর্মসূচি ঘোষণা করি এবং বৈষম্য বিরোধী বা কোটা সংস্কার আন্দোলনের সাথে আমরা একাত্মতা পোষণ করে আমরা যাত্রা শুরু করি।

প্রশ্ন. আন্দোলনের ডিজাইনটা কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে কিভাবে করেছিলেন? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, কোটা সংস্কারের আন্দোলনটা একভাবে দাঁড়ায়। এই কোটা থেকে যখন সরকার বিরোধী আন্দোলনে যাই; শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের টার্গেট ছিল যে, আন্দোলনটাকে আমরা লিড দিতে চাই। আমরা যদি বলি যে নেগেভি সেন্সে আমরা বলতে চাই না যে আমরা আন্দোলনটা নিয়ন্ত্রণ করতে চাই। আমাদের বক্তব্য ছিল যে আন্দোলনটা চলছে, সাথে থেকে কিভাবে আন্দোলনটাকে এগিয়ে নেয়া যায় সেই চেষ্টা করি। প্রথমেই তৎকালীন সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলামকে নিয়ে একটি কমিটি করি, সেই কমিটিতে ছিল নূরুল ইসলাম সাদ্দাম,সিবগাতুল্লাহ,মাহদি আল মাহমুদ এবং সাদিক কায়িমসহ ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে যে আন্দোলনটা শুরু হচ্ছিল সাদিক কায়িমসহ একটা কোর কমিটি করি। প্রথমত ঢাকায় আন্দোলন এবং পরে কমিটি আরেকটু বড় করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট করা হয়। প্রয়োজনে আরও কিছু যুক্ত করতাম। পরে আরও বড় কমিটি করে দেই। তারা পুরো বাংলাদেশের আন্দোলনের পলিসি মেইকিং করা, গাইড করার মতো কাজ ধারাবাহিকভাবে করতে থাকি।

যখন বৈষম্য বিরোধীর ব্যানারে নাহিদ, আসিফ, হাসনাত, সারজিসসহ এরা যখন আন্দোলনে গ্রেফতার ছিল, তখন থেকে আমরা বলতে পারি, তাদের গ্রেফতারের সময় থেকে আমরা বলতে পারি যে শতভাগ ছাত্রশিবির আন্দোলনটাকে নিয়ন্ত্রণ করে। এরপর থেকে একদম শিবির নিয়ন্ত্রিত বা শিবিরের ডিজাইনে আন্দোলন পরিচালিত হতো। বিশেষ করে ছাত্রলীগ যখন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে আক্রমণ শুরু করে, তখন আমরা আমাদের ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের আশপাশে যেসব শাখা আছে, মহানগরী পূর্ব, দক্ষিণ, ঢাকা কলেজ শাখার জনশক্তিকে ঢাবিতে যখন ছাত্রলীগ আক্রমণ শুরু করে তখন অনেকটা সিদ্ধান্ত দেই যে সবাইকে ঢাকা ভার্সিটিতে বেক করতে হবে। সেদিন সন্ধ্যায় সেখানে পাঠাই। প্রথমে সাধারণ ছাত্ররা মার খায়। তখন আমাদের টার্গেট হয় ছাত্রলীগকে যেকোন মূল্যে ঢাবি থেকে বিতাড়িত করতে চাই। তখন ছিবগাতুল্লাহর নেতৃত্বে একটা টিম করি। সাথে মোজাফফর ছিল তখন তিনি ঢাকা মহানগর পূর্বের সভাপতি। তারা পুরো আন্দোলনটাকে লিড দেয়। এবং বাইরে থেকে আমরা। আমরা ছাত্রদের স্বার্থে বলা যায় যে, যেদিন বেশি আক্রমণ হয় তখন লাঠিসোটা সহ আমাদের জনশক্তি এবং শুভাকাক্সিক্ষদের ভেতরে প্রবেশ করাই। সেদিন অনেক মারামারি হয় এবং ছাত্রলীগকে ঢাবি থেকে বিতাড়ন করতে সক্ষম হই। এটা ছিল আমাদের বড় বিজয়।

প্রশ্ন. যখন সরকার নেট বন্ধ করে দেয় তখন আসলে আপনারা আন্দোলনটাকে কিভাবে লিড দিতেন ? জবাবে তিনি জানান, আমরা তিনভাবে সবার সাথে যোগাযোগ মেনটেইন করতাম। আমরা কিছু জায়গা নির্ধারণ করেছিলাম। আমি আমার পক্ষ থেকে একজনকে শাহবাগে পাঠিয়ে দিলাম তখন তার সাথে সিবগাতুল্লাহর দেখা হয়ে গেলো। সিবগাতুল্লাহকে একটা নির্দেশনা দিলাম। তার পাশে আরও ৫টা বাসা আছে। সে নিজ দায়িত্বে বাসাগুলোতে খবরটা পৌঁছে দিতো। আমরা সরাসরি কাজটা করতাম। ফজরের নামাজের পর সবার সাথে যোগাযোগের কাজটা করতাম। দ্বিতীয় বিষয়টা ছিল আমরা অফলাইন ফোন ব্যবহার করেছি। যে কয়দিন নেট বন্ধ ছিল সেই কয়দিন আমি ৭টা ফোন ব্যবহার করেছি। আমি তখন বসুন্ধরায় থাকতাম। প্রাইভেট বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব দিয়েছিলাম যে আমাকে বেশি করে সিমের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। এটা ওনাদের নিজস্ব যারা অনেক সিম ব্যবহার করতেন, তাদের সিমগুলো আমাকে দিয়ে গেছে। সিম দিয়ে একেকদিন একটু করে কথা বলতাম। আবার ফোন করার জন্য পাঁচ কিলো দশ কিলো দূরে যেতাম। থাকতাম বস্ন্ধুরাতে সেখান থেকে তিনশ.ফুট দিয়ে নারায়ণগঞ্জের দিকে চলে গেছি। সেখানে ৫/৭ জনের সাথে কথা বলে ফোন ফেলে দিয়ে এসেছি। কখনো কখনো ফোন সিম ব্যাটারি আলাদা করে নিয়ে এসেছি। আর আমার সাথে একটা ফোন সব সময় থাকতো। এটা একটা ধারা ছিলো। আরেকটা ধারা আমরা ব্যবহার করেছি। সেটা হলো নেট বন্ধ হয়ে গেছে, ওয়াইফাই কানেক্ট ্আছে। কিন্তু ওয়াইফাইয়ের নেট নাই। এক্ষেত্রে ইন্টারনালি একটা ওয়েবসাইট ডেবেলপ করেছিলাম ছাত্রশিবিরের দায়িত্বশীলদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য। এর মাধ্যমে শুধু কেন্দ্রের যারা সেক্রেটারিয়েট বডি ছিল; তাদের সাথে কেবল যোগাযোগ হতো। তাতে ছোটখাটো ম্যাসেজ আদান প্রদান করা যেতো। একাজটা সেই সময় করতে আমরা সক্ষম হয়েছিলাম। ছাত্রশিবিরের তথ্য প্রযুক্তি বিভাগ ওয়েবসাইটটা ডেভেলপ করেছিল।

প্রাইভেট বিশ^বিদ্যালয়গুলোকে মাঠে নামানোর ক্ষেত্রে শিবির কি ভূমিকা নিয়েছিল ? এমন প্রশ্নে মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, প্রাইভেটের অবদান নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তোলে। আমি বলবো জুলাইয়ে প্রাইভেটের অবদানটা অনেক বেশি আমার কাছে। কারণ ব্র্যাকের ছাত্রদের আন্দোলনে আমার সুযোগ হয়েছিল ওই সময়। আমি বসুন্ধরা গেইটে যমুনা ফিউচার পার্কের যে এলাকাতে রেগুলার আসতাম আন্দোলন দেখার জন্য কি হচ্ছে না হচ্ছে। পাবলিক ভার্সিটিগুলো যখন বন্ধ হয়ে যায়, ঢাকা জগন্নাথ জাহাঙ্গিরনগর ভার্সিটির শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের হয়ে যেতে যখন বাধ্য করেছিল; সেক্ষেত্রে আমাদের একটা পলিসি ছিল যে শিবিরের যে জনশক্তিদের ঢাকায় বাধ্যতামূলক রেখে দেওয়া। সাধারণ শিক্ষার্থীরা সেভাবে ছিল না। তখন আমরা প্রাইভেটের ছাত্রদের সাথে বসি। আমি সরাসরি বসুন্ধরায় যারা লিড দিচ্ছিল প্রাইভেট ভার্সিটির; তাদের একটা টিমের সাথে আমি বসি। তখন তারা আশ^স্থা করে যে ছাত্রশিবির যদি মাঠে থাকে, আমরাও মাঠে থাকবো। ছাত্রশিবির থাকলে আমাদের মধ্যে সাহস কাজ করে। তখন আমি আশ^স্থ করি যে ছাত্রশিবির আপনাদের সাথে আছে। আপনাদের মাঠে থাকতে হবে। ওই সময়ের দৃশ্যগুলো আমার কাছে আশ্চর্য মনে হয় যে, জুলাইয়ের আন্দোলনে সব ধরনের মানুষ অংশ নিয়েছে। দেখা গেছে একটা ছেলে হাফ প্যান্ট পড়ে আছে। সেও আন্দোলনে চলে আসছে। এক্ষেত্রে ছাত্রশিবিরের প্রাইভেট বিশ^বিদ্যালয় শাখা ভাল ভূমিকা রাখে। এবং সফলও হয় তারা।

২০২৪/২৫ এবং ২০২৬ ইং জুলাইয়ের মূল্যায়ন করতে গিয়ে সাবেক এই ছাত্র নেতা বলেন, ২০২৪ জুলাইয়ে মনে হয়েছিল আমাদের যে আকাক্সক্ষা বা দাবি সেটা পূরণ হবে। এই স্বপ্ন নিয়েই কিন্তু আমরা চলতে ছিলাম। ছাত্র সংগঠন, ছাত্ররাজনীতি এবং জাতীয় রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন যেন হয়। ২০২৪ আমার কাছে ভালই মনে হয়েছিল। মনে হয়েছিল আমাদের দাবিগুলো পূরণ হবে। ২৫/২৬ এসে যদি এক কথায় বলি জুলাইয়ের যে আকাক্সক্ষা তা নিয়ে বললে -- আওয়ামী লীগের সেই পিরিয়ড্টা নাই; আওয়ামী লীগের সময়ে যে দু:শাসন ছিল, আমরা কথা বলতে পারতাম না, আমরা ওপেন মুভ করতে পারতাম না। বা ছাত্ররা কেউ কথা বললেই শিবির ট্যাগ দিতো বা গ্রেফতার করা হতো। হয়তো এই পরিস্থিতি নাই। কিন্তু জুলাইয়ের আকাক্সক্ষাতো বৈষম্যহীন দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিল। আমাদের জাতিগত দাসত্ব চাপিয়ে দেওয়ার পথ থেকে বের হয়ে সুস্থধারার রাজনীতির পথে আসা এটা আমরা ২৫ সালে এসে দেখিনি। ২৬ সালে এসে জুলাইয়ের আকাক্সক্ষাই নাই। যেমন জুলাইয়ের ্আকাক্সক্ষা ছিল জুলাই সনদ। হ্যাঁ ভোটের জন্মটাও কিন্তু জুলাইয়ের আকাক্সক্ষা থেকেই। এর কোন কিছুই বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আরেকটা বিষয় জুলাইয়ে যারা গণহত্যা চালায়, আজকে যদি বলি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের কথা, রাষ্ট্রপতিকে বিভিন্নজন বিভিন্ন ফ্রেমিং করছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন বলতেছেন রাষ্ট্রপতি একটি প্রতিষ্ঠান। তাকে কিছু বলা যাবে না। সাহাবুদ্দিনের রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে এবং পরে তার যে বড় বড় ফৌজদারি অপরাধগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার। সেও কিন্তু গণহত্যার সাথে জড়িত। হাসিনা সরাসরি গণহত্যার মূল হোতা। তার সাথে থাকা সহযোগি ১৪টা দল। তারা মিলেই কিন্তু গণহত্যাটা চালায়। সেই গণহত্যার যথাযথ বিচারটাও কিন্তু হচ্ছে না। আমরা দেখছি শহীদ পরিবার এখনো ট্রাইব্যুনালে যাচ্ছে। তারা বিচার চেয়ে স্মারকলিপি দিচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে ধর্না দিচ্ছে। একদিকে যেমন আকাঙ্খা বাস্তবায়ন হয়নি; অন্যদিকে যারা ভিকটিম শহীদ পরিবার কিংবা আহত পঙ্গুত্ববরণ করেছেন তাদের যে চাওয়া-পাওয়া তাদের দাবিগুলো পূরণ করা হচ্ছে না।

জুলাইয়ের স্মৃতি নিয়েও কথা বলেন ২০২৪এর আন্দোলনের এই ডিজাইনার। তিনি বলেন যেদিন ৫ আগস্ট হয়। আমি ছিলাম উত্তরাতে। আমার্দের টার্গেট ছিল ৩ আগস্ট হাসিনাকে বিদায় দেবো। আমরা অ্যাটাক করবো । হাসিনা যেখানে আছে সেখানে আমরা অ্যাটাক করবো। মানে গণভবনে অ্যাটাব করবো। অবশ্য প্লানটা আরও আগেই করা হয়েছিল। প্লানটা আরও আগেই ছিল। কিন্তু এক দুই তারিখে এসে ফাইনাল হয়। প্লান ছিল যে যেখান থেকে হাসিনা ডিস্টার্ভ করে অর্থাৎ গণভবনের দিকে একই সময়ে আমরা মুভ করবো। এজন্য আমরা দশটা পয়েন্ট ফিক্সড করেছিলাম। আমরা পয়েন্টগুলোতে সেটআপও দিয়েছিলাম। যেমন সাইন্সল্যাব,শাহবাগ, মোহাম্মদপুরসহ বাকী স্পটগুলো থেকে আস্তে আস্তে মুভ করবো। আমাদের প্লান ধরে সেদিন এগুচ্ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ আমরা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করি। সেদিন আমাদের প্রস্তুতি কম ছিল। অর্থাৎ গেদারিংটা সেদিন তুলনামূলক কম ছিল। আমাদের আনুসাঙ্গিক প্রস্তুতিও কম ছিল। পরে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় আমরা ফিরে আসি। সন্ধ্যার আগেই যদি মুভ করতে পারতাম। হঠাৎ করে মনে হলো যে জামায়াতের মহানগরী দক্ষিণের আমীর বার বার ফোন দিচ্ছিল যে, তোমরা মুভ করছো না কেন? তখন বুঝালাম যে সন্ধ্যা হয়ে গেছেতো তাই। সন্ধ্যায় যদি মুভ করি আর সেনাবাহিনী পুলিশ টুলিশ মিলে যদি ক্র্যাকডাউন দেয়; তাহলে আমাদের অনেক মানুষ মারা যেতে পারে। এজন্য আজ আর না। এর কারণ শাপলাচত্বরের ঘটনায় আমরা দেখেিিছ ম্যাসাকার হয় সন্ধ্যার পর। পরে আমরা ৬ তারিখ নির্ধারণ করি। এরপর আবার তারিখ পেছানো হয়। আমাদের মনে হলো বার বার সময় পেছাচ্ছে। আর সময় নেওয়া যাবে না। এই যে টাইম বেশি নেবো এটা আমাদের একধরনের আমার কাছে মনে হয় যে, কর্মসূচি ঘোষণার পর একধরণের ইমপ্যাক্ট তৈরি হয়। ৪ তারিখের পর সেনাবাহিনীর পজেটিভ ভূমিকা আমাদের সাহসী করে তোলে। প্রথম আমার কাছে পজেটিভ মনে হয় কুমিল্লাতে। কুমিল্লার সেনাবাহিনী দেখলাম তারা একটা নিরপেক্ষ জায়গায় অবস্থান নিলো। একদিকে ছাত্র জনতা অন্যদিকে আওয়ামী লীগ পুলিশ। মাঝখানে সেনাবাহিনী ঢাল হয়ে দাড়িয়ে আছে। তখন আমাদের মাঝে সাহস আরও বেড়ে যায় যে আমরা সফল হবো। ৫ তারিখে আমার স্পষ্ট মনে আছে হাসিনার পতনের পর উত্তরা থেকে শাহবাগ আসছিলাম। যাওয়ার কথা ছিল গণভবনে।পরে আমি আর সেখানে যাইনি। মন চাচ্ছিল না বলেই যাইনি। তখন আমার মন চাচ্ছিল যে গণভবনে না গিয়ে ঢাকা মেডিকেলে যাই। শিবিরের মহানগর উত্তরের তৎকালীন সেক্রেটারিকে বললাম যে গাড়িতো ব্যবহার করা যাচ্ছে না আমাকে বাইকে করে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। সেদিন মাগরিবের নামাজ ঢাকা মেডিকেলে পড়ি। সেদিন রাস্তায় শুধু মানুষ আর মানুষ। মানুষের জ্যাম ছিল। আমরা এলিভেটেড দিয়ে আসছিলাম। এলিভেটেডে কেউ বাধা দিচ্ছিল না। সেদিন ঢাকা মেডিকেলে প্রবেশের পর আমি আবেগপ্রবণ হয়ে যাই। এতো আহত পঙ্গুত্ববরণকারী ভাইয়েরা মেডিকেলে পড়ে আছে যে চিকিৎসাটাই হচ্ছে না। আমার সাথে থাকা ভাইয়েরা আমার অবস্থা দেখে বলে পরে আবার আসবো চলেন এখান থেকে দ্রুত বেক করি। আমার সাথে থাকা শাকিল আমাকে বললেন ভাই একটা ভিডিও বার্তা দেন। কারণ পুরো বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ভিন্নভাবে মিডিয়াতে নিয়ে আসতে পারে। যেমন: সংখ্যালঘুদের উপাসনালয়গুলো ভেঙ্গে দিতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাৎক্ষনিক ওরা আমাকে দাড় করিয়ে দিয়ে একটা নরমাল ফোনে ভিডিও ধারণ করলো। তখন আমি এক মিনিটের বক্তব্য দিলাম যে আমাদের ছাত্রশিবিরের সকল জনশক্তিরা সবাই সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়াবে। সেদিন ঠিক কি কারণে যেন মনে হলো যে আমাকে এই বার্তাটা দিতে হবে। সেটাই ছিল উপযুক্ত সময়।