বাংলাদেশ লেখিকা সংসদ ও রিদওয়ান শিল্পীগোষ্ঠীর যৌথ আয়োজনে ‘জুলাই: বিপ্লবে ও বিজয়ে’ শীর্ষক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল ৪টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ লেখিকা সংসদের আহ্বায়িকা কামরুন্নেসা মাকসুদা প্রদীপ প্রজ্বলন ও ঘোষণার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় সংসদ সদস্য নাজমুন নাহার নীলু। এছাড়া বিশেষ অতিথি ও আমন্ত্রিত হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জুলাই বিপ্লবের শহীদদের মায়েরা, জুলাই যোদ্ধা, দেশের বিশিষ্ট কবি ও লেখিকাবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য নাজমুন নাহার নীলু বলেন, “লেখকেরা পরম ভাগ্যবান, কারণ তারা সমাজে যা কিছু সত্য ও সুন্দর—তা নিজেদের লেখনীর মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলেন। কিন্তু অশ্লীল রচনা কখনোই একজন প্রকৃত লেখকের পরিচয় হতে পারে না।” সাইবার বুলিং ও অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে লেখকদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “জুলাই বিপ্লব আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে অন্যায়ের কাছে মাথা নত করার কোনো সুযোগ নেই।” এ সময় তিনি ‘জুলাই সনদ’ দ্রুত বাস্তবায়ন এবং মতপ্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে জুলাই বিপ্লবের দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শহীদ শেখ ফাহমিন জাফর ও সাইদুল ইসলাম ইয়াসিনের রত্নগর্ভা মায়েরা। আন্দোলনকালীন নিজেদের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিকথা তুলে ধরেন জুলাই যোদ্ধা নূপুর চৌধুরী।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে বাংলাদেশ লেখিকা সংসদের আহ্বায়িকা কামরুন্নেসা মাকসুদা বলেন, “জুলাই আমাদের দিয়েছে নতুন এক স্বাধীনতা, কিন্তু কেড়ে নিয়েছে হাজারও মায়ের বুকের ধন। সেই প্রিয়জন হারানোর বেদনা ও ত্যাগের গল্পগুলোই লেখকদের গল্প, গান ও কবিতায় ফুটে বের হতে হবে; তবেই জুলাই বিপ্লবের প্রকৃত ইতিহাস সংসংরক্ষিত থাকবে।” একজন লেখককে সমাজের 'চোখ ও কান' উল্লেখ করে তিনি গণমানুষের আর্তনাদ ও অনুভূতি সাহিত্যে তুলে ধরার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন কবি ইমরানা সুমাইয়া, হালিমাতুস সাদিয়া মারদিয়া, নাফিসা ইয়াসমিন শিপু, শানমু হোসাইন, সানজিদা শারমিন তুহিন, রুবি আজাদ মারুফি, সৈয়দা নাসিমা আক্তার, আয়মানা সাওদা, নাদিয়া বিনতে মাহতাব ও নাজমা ফেরদৌসীসহ আরও অনেকে।
সবশেষে রিদওয়ান শিল্পীগোষ্ঠীর শিশুশিল্পীদের মনোজ্ঞ একক ও দলীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।