গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল। বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান গতকাল বৃহস্পতিবার রাত আটটার পর বিলের কার্যক্রম শুরু হলে এক অনির্ধারিত বক্তব্য দিয়ে সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেন। এ সময় তিনি বলেন, আমরা পুরা সংস্কার চাই, আমরা গণভোটের বাস্তবায়ন চাই এবং আমরা এইভাবে অসংবিধানিক কোনো প্রসেসের অংশ হতে চাই না, এজন্য আমরা এখন আর এই আলোচনায় অংশগ্রহণ করব না। এই পর্বে আমরা সংসদ থেকে বিদায় নিচ্ছি।

পরে সংসদে এ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, তারা পরিকল্পিতভাবে ওয়াক আউট করেছেন। তারা বিলের বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে কথা বলতে পারতেন। প্রয়োজনে নোটিশ দিতে পারতেন। কিন্তু তারা তা না করে ওয়াক আউট করে চলে গেলেন। আমি আহবান জানাবো, আপনারা ফিরে আসুন। গণতন্ত্রের ধারা চলমান রাখতে হবে। মত বিরোধ থাকবে। সকল বিষয়ে এখানেই আলোচনা হবে এবং সমাধান হবে।

এর আগে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিভিন্ন সংকট তীব্র আকার ধারণ করায় মানুষের যখন জনদুর্ভোগ আমরা লক্ষ্য করছিলাম, তখন তৎকালীন মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাথে আমি সরাসরি কথা বলেছিলাম এবং স্পিকারের দায়িত্বে আপনি ছিলেন, আপনার সাথেও আমি কথা বলেছিলাম। মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাথে কথা বলে উনার বরাবরে একটা অনুরোধ জ্ঞাপন করে একটা চিঠিও দিয়েছিলাম। সেই চিঠির কপি আপনাকেও দেওয়া হয়েছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেও দেওয়া হয়েছে। বলেছিলাম যে, এই সংসদটা আমাদের জাতীয় সকল কর্মকাণ্ডের মূল ভার যে দাবি রাখে, এই ধরনের একটা স্পর্শকাতর সময়ে সংসদের একটা বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করার জন্য। আমি জানি বিধি অনুযায়ী এই অনুরোধ জানানোর কথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর। তারপরেও আমরা দায়মুক্ত নই, দায়বোধের জায়গা থেকেই এই চিঠিটা ইস্যু করেছিলাম। কিন্তু আজ পর্যন্ত এর কোনো উত্তর পেলাম না। এটা কী হলো? দাবি ছিল সমাজে বিদ্যমান যে সংকট-সমস্যা, বিশেষ করে বিদ্যুৎ খাতে যে অব্যবস্থাপনাÑএকদিকে মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে না, লোডশেডিংয়ের জ্বালা, অন্যদিকে ভূতুড়ে বিলÑএর কোনো সদুত্তর নাই।

তিনি বলেন, গ্যাসেও তীব্র সংকট দেখা দিল। আবার গ্যাসের অপ্রতুলতার কারণে মানুষ আবার তেলের দিকে ধাবিত হলো। এই সব নিয়েই একটা জটিল পরিস্থিতি। আর এই সমস্ত পরিস্থিতির কারণেই দ্রব্যমূল্য হু হু করে বেড়ে যাচ্ছে, বেড়ে গেল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি... আজকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় তিনি একটা বিবৃতি দিয়েছেন, তিনি কিছু ডাটা তুলে ধরেছেন। আবার আমাদের বিরোধী দলের পক্ষ থেকেও এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে কিছু কথা বলা হয়েছে, তারাও কিছু তথ্যভিত্তিক বক্তব্য রেখেছেন।

তিনি আরো বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন না থাকার কারণে শত শত কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছেÑকেউ ৭০০ বলছে, কেউ ৯০০ বলছে, কেউ ৯৫ টা বলতেছে, হোয়াটএভার মে বিÑকিন্তু বোঝা যাচ্ছে যে বিপুল সংখ্যক কারখানার উপরে এর একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কারখানা বন্ধ হওয়া মানে শুধু মালিকপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া না; লক্ষ লক্ষ শ্রমিক, যারা এখানে শ্রম বিনিয়োগ করে থাকেন, তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া। এর পাশাপাশি আমরা যারা দেশের সাধারণ জনগণ, কারখানার এই প্রোডাক্টসগুলো আমরা যারা ব্যবহার করি, তারাও ক্ষতিগ্রস্ত।

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপারে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তিনি বিবৃতি দিয়েছেন, তিনি একটা তথ্যও দিয়েছেন। কিন্তু আমরা যখন সমাজে যাই, তখন তার বাস্তবতা খুঁজে পাই না। এর আগে এখানে বিদ্যুৎ-জ্বালানি সম্পর্কেও বিভিন্ন সময় বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, যার সাথে কোনো মিল ছিল না। স্বয়ং স্পিকারের আসন থেকেও বলা হয়েছিল তখন যে, "আমার এলাকাতেই তো বিদ্যুৎ পাই না।" এটার সাথে আসলে আমরা কোনো মিল খুঁজে পাচ্ছিলাম না। সেই কঠিন সময়ে যখন জ্বালানি নিয়ে ভয়াবহ সমস্যা দেখা দেয়, তেল নিয়ে, তখন এই সংসদে একটুখানি আলোচনার ফলে একটা সমাধান বের হয়ে এসেছিল এবং সমাজ আতঙ্ক থেকে রক্ষা পেয়েছিল। আমরা এরকমই একটা সদিচ্ছা নিয়ে এই সংসদ অধিবেশনটা আহ্বান করার অনুরোধ জানিয়েছিলাম এবং আলোচনাকালে এটাও বলেছিলাম যে, এটার জন্য কয়েকদিনের প্রয়োজন নাই, কয়েকটা ঘণ্টার জন্য ডাকলেই হবে। কিন্তু দেখা হলো না।

তিনি বিল সর্ম্পকে বলেন, আজকে আমাদের সামনে এখন তিনটা বিল এসেছে, সেগুলো আজকে অবশ্য আলোচনা হবে না, উত্থাপনের জন্য এসেছে। কিন্তু এর মধ্য দিয়ে তার প্রক্রিয়াটা শুরু হবে। আমাদের এই সংসদটা আমরা সবাই বলে আসছি যে, এটা গতানুগতিক কোনো সংসদ না। এটা ভিন্নধর্মী একটা সংসদ এবং ২৪-এর রক্তের উপর দাঁড়িয়ে থাকা একটা সংসদ। আশা ছিল যে, সংসদের সূচনা থেকেই আমরা একটা ফ্রেশ স্টার্ট করতে পারব দেশের জন্য, জাতির জন্য। নতুন একটা সূচনা হবে, পরিবর্তনের একটা সূচনা হবে। সেই লক্ষ্যেই আমাদের সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সংসদ নির্বাচন অনুযায়ী, এর ফলাফল অনুযায়ী সংসদ আহ্বান করা হয়েছে; কিন্তু গণভোটের জন্য সংস্কার পরিষদের সেই সভা আর আহ্বান করা হলো না। এটা যখন উপেক্ষিত হলো, আমরা নোটিশ দিলাম, আলোচনা হলো তিন ঘণ্টা, তারপরে বিষয়টাই ওয়াকআউট হয়ে গেলÑওয়াকআউট মানে নো রেজাল্ট।

তিনি বলেন, আমরা এখানে আসলে নিজের জন্য এই বিষয়টাই উত্থাপন করিনি, জাতির জন্য ছিল, যেখানে প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ 'হ্যাঁ' ভোটের রায় দিয়েছিল। এবং আমরা উভয় পক্ষ এখন যারা সরকারি দলে আছি, বিরোধী দলে আছিÑআমরা সবাই ছিলাম তখন গণভোটের পক্ষে। এবং 'হ্যাঁ'-এর পক্ষে আমরা কম হোক, বেশি হোক, আমরা সবাই ক্যাম্পেইন করেছি। কিন্তু এটা যখন বাস্তবায়িত হলো না, জনগণের মধ্যে একটা আতঙ্ক, একটা অনিশ্চয়তা, একটা সন্দেহ দেখা দিল। আমরা বারবার এই বিষয়টা বলে আসছি, তার কোনো প্রতিকার পেলাম না। এখানে বরঞ্চ তার বিকল্প হিসেবে বলা হলো যে, সংস্কারের বিষয় বা সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়টা যেহেতু সংবিধানে নেই, এজন্য এটা বেআইনি; আপনারা যে শপথ নিয়েছেন, এটা অবৈধ শপথÑউল্টো আমাদের উপরে আরেকটা বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হলো। অথচ এটা জনগণের দেওয়া রায়, উভয়ে মেনেছিলাম, সেই ভিত্তিতেই এই নির্বাচন হয়েছিল এবং যে অর্ডারের মাধ্যমে এই নির্বাচন হয়েছে, একই অর্ডারে লেখা ছিল যে, ৩০ দিনের ভিতরে সংসদ অধিবেশন ডাকতে হবে এবং একইভাবে সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান করতে হবে। উল্টো দায় এসে গেল আমাদের উপরে, আমরা ন্যায়ের পক্ষে, জনগণের পক্ষে থাকার পরেও।

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, আমরা তো এখানে জনগণের জন্য কথা বলেছি, এটা কোনো দলীয় সুবিধা নেওয়ার জন্য আমরা বলি নাই। বিরোধী দল এখান থেকে লাভবান হবেÑএমনও কোনো সম্ভাবনা নেই। ১৮ কোটি মানুষের রাইটের পক্ষে ছিল আমাদের এই কথাগুলো। যে কারণে ফ্যাসিবাদ যুগে যুগে জেঁকে বসেছিল এই জাতির ঘাড়ে, আমরা চেয়েছিলাম ওই জায়গাগুলো পরিষ্কার হোক। কিন্তু আমরা বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করলাম, গণভোটের রায় তো মানা হলোই না, ১৩৩ টা অর্ডিন্যান্স যেটা ছিল, এখান থেকে ২০ টাকে ল্যাপস করে দেওয়া হলোÑযেগুলো ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন, স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন, গুম কমিশন, পুলিশ সংস্কার কমিশন, নির্বাচন কমিশনÑএই বেসিক জায়গাগুলো, যেগুলো ঠিক না হলে ফ্যাসিবাদ থেকে এই দেশ এবং সমাজ মুক্তি পাবে না, সেগুলোই ল্যাপস করে দেওয়া হলো!

তিনি আরো বলেন, এখন আমরা দেখছি যে, সেগুলো আস্তে আস্তে বিভিন্ন কায়দায় আপনারা এখানেÑমানে আপনারা বলতে সরকারি দলÑএখানে নিয়ে আসছেন। আরেকটা বিষয় এখানে লক্ষণীয়, আজকের দিনটা হলো বৃহস্পতিবার। আমাদের কনসেনসাস অনুযায়ী এই দিনটা হচ্ছে বেসরকারি দিবস। বেসরকারি দিবসে সরকারি বিল আসে কিনাÑএটা আমি জানি না। আমাকে জানালে আমি খুশি হব। আজকের দিনটা হলো বেসরকারি সদস্যদের জন্য। হ্যাঁ, বেসরকারি সদস্য বিরোধী দলের হতে পারেন, সরকারি দলের হতে পারেনÑমন্ত্রীদের বাইরে যারা আছেন, তারা সকলেই আমরা বেসরকারি সদস্যÑআমরা সেই বিল আনতে পারি। এবং পেন্ডিং অনেকগুলো বেসরকারি বিল আছে। সেই বিলগুলো আজকে না এনে, আমি মনে করি যে এখানে অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। এবং আজকে এখানে যেভাবে সরকারি বিল উত্থাপন করা হচ্ছে, এটা বোধহয় কোনো ভালো নজির হবে না। হ্যাঁ, স্পিকারের জুরিসডিকশনের জায়গা থেকে যদি কিছু করার থাকে, সেটা আমরা জেনে নেব। কিন্তু আমরা এটাই জানতাম যে, বেসরকারি দিবসটা বেসরকারি সদস্যদের জন্য। এই সবকিছুতে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, সংসদকে ঠেলে একতরফাভাবে, একপেশে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমরা নীতিগতভাবে এই ধরনের বিলে আমরা অংশগ্রহণ করতে চাচ্ছি না।

তিনি আরো বলেন, আমরা আশঙ্কা করছি যে, এর মাধ্যমে সংস্কারের যে মূল দাবি, সেটাকেই চাপা দেওয়া হবে। তা আমরা সেই চাপা দেওয়ার পক্ষে নাই। আমরা সংস্কারের মূল দাবির পক্ষে জোরালো এবং স্পষ্ট অবস্থান আমাদের, আমরা এখান থেকে সরিনি। আমাদেরকে অফিশিয়ালি এবং আনঅফিশিয়ালি, এই পার্লামেন্টের ভিতরে এবং বাইরে অনেকবার অনুরোধ করা হয়েছে যে, সংবিধান সংশোধনের কমিটিতে আসেন। একটা কমিটি এখানে পাস হয়েছে, আমাদের প্রতিবাদ ছিল, আমরা অংশগ্রহণ করি নাই, সব ঠিক আছে। ওইটা পাস হয়েছিল 'সংবিধান সংশোধন কমিটি' নামে। পরে আমরা যখন বললাম যে, 'সংবিধান সংশোধন কমিটি' নামে কোনো কমিটি হওয়ার কোনো বিধান নেই, আমরা পরে শুনলাম যে, এটার আগে একটা বিশেষ শব্দ বসানো হয়েছে। সেই বিশেষটা এখানে পাস করা হয়েছে কিনা, আমি জানি না। একটা কমিটি যদি আসলে এই হাউস থেকে পাস করানো হয়, তাহলে তার প্রত্যেকটি অক্ষরও এখান থেকে পাস করাতে হবে। সেটা তো হয় নাই! ওইটার পক্ষে আমরা ছিলাম নাÑএটা বড় কথা না, আমি বলছি যে এখানে প্রসিডিউরটাও মেইনটেইন করা হয়নি। এই সমস্ত বিষয় বিবেচনায় নিয়ে, এখন যে বিষয়টায় (বিল) আপনি উত্থাপনের দিকে যাচ্ছেন, আমরা যেহেতু এই আলোচনায় বৃহৎ স্বার্থে.আমরা পুরা সংস্কার চাই, আমরা গণভোটের বাস্তবায়ন চাই এবং আমরা এইভাবে অসংবিধানিক কোনো প্রসেসের অংশ হতে চাই না, এজন্য আমরা এখন আর এই আলোচনায় আমরা অংশগ্রহণ করব না। এই পর্বে আমরা সংসদ থেকে বিদায় নিচ্ছি। আমরা আবার ওয়াকআউট করছি। আমরা আবার যখন উপযুক্ত, তখন ইনশাআল্লাহ আমরা আসব, অংশগ্রহণ করব, জনগণের পক্ষে কথা বলব। চারটা নোটিশ আমরা জমা দিয়েছি, আমরা আশা করব সেই নোটিশগুলো জনস্বার্থে, জনদুর্ভোগ নিরসনের স্বার্থে সেই নোটিশগুলো আলোর মুখ দেখবে, এই সংসদে আলোচনার সুযোগ আমরা পাব। আমাকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ, আমরা এখন ওয়াকআউট করছি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলীয় নেতা আপনার সাথে কথা বলেছেন, ইনফরমালি বলতে পারেন। আপনি স্পিকারের দায়িত্বে ছিলেন। রাষ্ট্রপতির সাথে কথা বলেছেন, তিনি বললেন চিঠি দিয়েছেন, বললেন জবাব পেলেন না। যেই চিঠি দেয়ার এক্তিয়ারই নাই, চিঠির জবাব কিভাবে দেওয়া হবে? দ্বিতীয় হলোÑ যেই আলোচনাটা তারা এক সপ্তাহ আগে করতে চাইলেন, সেটা এক সপ্তাহ পরে করলে এমন কিছু অসুবিধা হতো না, সেটা আজকে সংসদ শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রের অনেক নির্বাহী বিভাগের অনেক কাজ থাকে। ইতিমধ্যে মহামান্য রাষ্ট্রপতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং শপথ গ্রহণ হয়েছে। অনেক রাষ্ট্রীয় ফাংশনস এগুলো করতে হয়েছে। তার ভিতরে তো সংসদ অধিবেশন ডাকার কোনো প্রস্তুতিই ছিল না। তারপরেও রিজনেবলি এগিয়ে নিয়ে এসে আজকে এই সংসদ আহ্বান করা হয়েছে। এটা একটা বাহানা হয়। আমি থাকলে এটাও অসংবিধানিক বলতাম। হয়তো আমি কোন শব্দ আজকে অসংবিধানিক বলেছি আমি নিজেই বুঝতে পারছি না। কারণ আমার ভাষা-জ্ঞান যতই খারাপ হোক, আমি খুব সচেতন থাকি যাতে কোনো আনপার্লামেন্টারি ওয়ার্ড এখানে ইউজ না করতে হয়।

তিনি বলেন, তারা যখন মানে ওপেন এন্ডেড কথা বলেÑ যে, দেশে চুরি-ছিনতাই হচ্ছে, এই ব্যাপারে আপনার বক্তব্য। স্পেসিফিক করে বলতে বলেছিলাম, তাহলে আমি উত্তর দেব। বলেছে, কোনো একজন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যের ওপর আক্রমণ হয়েছে, মামলা হয়েছে, উল্টো তার লোকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কোন সংসদ সদস্য, কোথায় আক্রমণ হয়েছে, কোথায় গ্রেপ্তার হয়েছে বললে আমি জবাব দিতে পারতাম। ওপেন এন্ডেড কথার তো কোনো জবাব হয় না! সেজন্য আমি বলেছিলাম যে, জনসভায়, বাইরে, শাহবাগে, গুলিস্তানে অনেক কথা বলা যায়; কিন্তু সংসদে বলতে গেলে সেটা স্পেসিফিক, নির্দিষ্টভাবে, বিধি মোতাবেক বলতে হবে। যাই হোক, আমি একটি স্টেটমেন্ট দিয়েছি বললেনÑআমি আজকে কোনো স্টেটমেন্ট দেইনি! এগুলো ডাটা আমাদেরকে রেডি রাখতে হয়, আমরা প্রস্তুত হয়েই আসি। এবং সেরকম ডাটা প্রশ্নের উত্তরে-জবাবে, সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে-জবাবে আমরা বলেছি, কোনো বিবৃতি দেইনি। তিনি বললেন আমি বিবৃতি দিয়েছি, বিরোধী দলীয় নেতা। তিনি এই সুযোগে গ্যাস, বিদ্যুৎ, তেল ইত্যাদির কথা বলে গেলেন। এখানে গ্যাস, তেল, বিদ্যুতের জন্য তারা গত সেশনেও সময় চেয়েছিলেন, সম্ভবত তার আগের সেশনেও।

তিনি বলেন, সহযোগিতা যদি করতে চান, আসুন। আবারও ৬৮ বিধিতে আলোচনা হতে পারত, ৬২ বিধিতে আলোচনা হতে পারতÑসেই প্রস্তাব তো দিলেন না! কারণ ওয়াকআউট যে করতে হবে পরিকল্পিতভাবে, সেজন্য। আমি এখানে বলতে শুনলাম কারখানা বন্ধ হয়েছে, আপনারা নিয়ে আসেন তথ্যভিত্তিকÑকোথায় কারখানা বন্ধ হয়েছে, কয়টা বন্ধ হয়েছে গ্যাসের কারণে, বিদ্যুতের কারণে। হ্যাঁ, দেশে আমাদের মতো পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে, যারা গালফ থেকে তেল এবং গ্যাস নিয়ে আসে, সেই গালফের সরবরাহটা বিঘ্নিত হওয়ার কারণে পৃথিবীর বহু দেশে তেল-গ্যাসের মূল্য ডবল হয়েছে, বাংলাদেশে তো তা হয়নি! আমরা একটা ১৭-১৮ বছরের অপরিকল্পিত গ্যাস সাপ্লাই নির্ভর এই বিদ্যুৎ জেনারেশন সিস্টেমের মধ্যে চলছি, যেটা কারেকশন করতে আমাদের প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা পরিকল্পনা, সমস্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন করে ফেলেছিÑকোথায় এফএসআরইউ হবে, কোথায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হবে, কোথায় তেলভিত্তিক হবে, জরুরি ভিত্তিতে ফার্নেস অয়েল ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এখন শুরু করা হবেÑ সবকিছুর উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশে যাতে কোনো ধরনের সংকট না হয়, উৎপাদন-কারখানা যেন বন্ধ না হয়, কোনো ধরনের কোনো উৎপাদনশীলতা যাতে ব্যাহত না হয়Ñসেজন্য। এবং তার ওপর ভিত্তি করে যাতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি না হয়, সেগুলো আমাদের সবই নজরে আছে।

শাহবাগের আন্দোলনের ফলেই উনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী : সার-বিদ্যুৎ সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। পরে সংসদ ভবনে প্রেস ব্রিফিংয়ে সরকারের বিরুদ্ধে ‘সংসদীয় স্বৈরতন্ত্র’ কায়েম ও বিরোধী দলের ওপর বৈষম্যমূলক আচরণের তীব্র অভিযোগ তোলেন বিরোধীদলীয় উপনেতা ও চিফ হুইপ।

প্রেস ব্রিফিংয়ে বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়ে বলেন, দেশে সার নাই, বিদ্যুৎ নাই, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবস্থা চরম নাজুক। আমরা আশা করেছিলাম সংসদে এই জনদুর্ভোগগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়গুলোকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলেছেন। উনার মনে রাখা উচিত, শাহবাগের গণআন্দোলনের ফল হিসেবেই উনি আজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পেরেছেন।

তিনি আরও বলেন, সরকার বিরোধী দলের সাথে যে আচরণ করছে, তা বিগত আওয়ামী লীগও করেনি। যে বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছিল, আজকে দেখা যাচ্ছে বিএনপি নিজেই বৈষম্যের চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাচ্ছে। বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের কোনো উন্নয়ন বরাদ্দ পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে না।

নাহিদ ইসলামের বক্তব্য : বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, সারাদেশে জনগণ চরম অনিরাপত্তায় ভুগছে। বিগত ১৮০ দিনের আইনশৃঙ্খলার হিসাব চাওয়া হয়েছিল, বিরোধী দলের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন ক্যাম্পাসে দমন-পীড়ন নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। কিন্তু সেসব প্রশ্ন করায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য মন্তব্য করেছেন।

স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি যোগ করেন, স্পিকার সংসদে স্পষ্ট পক্ষপাতিত্ব করছেন এবং উল্টো বিরোধী দলকে অসহিষ্ণু বলে অভিযুক্ত করছেন। আমরা জাতীয় সংসদে সরাসরি সংসদীয় স্বৈরতন্ত্র দেখতে পাচ্ছি।

সংসদে রুমিন ফারহানার ক্ষোভ ; দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, গ্যাস, বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে জাতীয় সংসদে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ (বিধি ৭১)-এর ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা এ প্রতিক্রিয়া জানান।

এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, সরকারের ১৮০ দিনের মধ্যে এই সরকারের প্রথম তিনটি কাজের একটি ছিল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, দুই নম্বরে ছিল দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং তিন নম্বরে হলো জ্বালানি খাতের নিশ্চয়তা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গেলে মুশকিল হচ্ছে আমাদের আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত যিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছেন, তিনি হয় ব্যঙ্গ করেন; আর না হলে বাকচাতুর্য দিয়ে পুরো বিষয়টিকে ঢেকে দিতে চান। কিন্তু সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বললে জানা যায়, বাংলাদেশে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যেমন তিনজন মন্ত্রী আছেন, ৬৪টা জেলায় ৬৪ জন আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকলে কেবল মন্দ হতো না।