- শিক্ষকতা করতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় খুলুন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিরোধীদলীয় নেতা
- কথা বলতে না দিলে কিসের গণতন্ত্র: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরুর দিনেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সংসদ। শুরুর এক ঘন্টার মধ্যেই সরকারী ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সংসদ সদস্যদের ওপর হামলা নিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেন। একপর্যায়ে অধিবেশন কক্ষে হট্টগোল শুরু হয়। উত্তপ্ত হয় সংসদ। বেশকিছুক্ষণ ধরে চলতে থাকে এ হট্টগোল। বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্য ও অবশেষে স্পীকারের বার বার রুলিং ও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যের মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অধিবেশনের প্রথম বৈঠকের কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বীর বিক্রম।
সরকারের ছয় মাসের অপরাধ পরিস্থিতি তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সফল না ব্যর্থÑ এমন প্রশ্ন করাকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে হট্টগোল শুরু হয়। বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সফল না ব্যর্থÑ এটা শাহবাগ ও পল্টনে বলা যায়। সংসদে এ ধরনের প্রশ্ন চলে না।
হাসনাত আবদুল্লাহ সরকারের গত ছয় মাসের অপরাধ পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, তিনি সফল না ব্যর্থ। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি কোনো প্রশ্ন নয়, বরং ‘পল্টনের বক্তব্য’।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ছয় মাসে সংঘটিত প্রতিটি অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। কোনো অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নিÑ এমন নির্দিষ্ট উদাহরণ দিতে তিনি বিরোধী সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘স্পেসিফিক করে বলতে হবে, কোন অপরাধে শাস্তি হয়নি।’
পরে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম এক প্রশ্নে বলেন, বিরোধীদলীয় এমপিদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করে উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে আইনের শাসনের কবর রচনা করা হচ্ছে।
তার এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই সংসদে ব্যাপক হট্টগোল ও টেবিল চাপড়ানো শুরু করেন বিরোধীদলীয় সদস্যরা। তুমুল হট্টগোলের একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইয়েস, আই উইথড্র, আই উইথড্র (আমি প্রত্যাহার করছি)।
পরে স্পিকারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলিনি। আমি বুঝিয়েছি, এটা জাতীয় সংসদ। বাইরের বক্তৃতা এখানে চলে না। শুধু হাওয়াইভাবে, আমভাবে যদি বলা হয় যে এসব হচ্ছে-কোথায় ছিনতাই হয়েছে, আসামি গ্রেপ্তার হয়নি, কোথায় এমপির মামলায় আসামি ধরা পড়েনি, তার স্পেসিফিক (সুনির্দিষ্ট) প্রশ্ন ও বর্ণনা দরকার।
তিনি আরও বলেন, স্পেসিফিক প্রশ্ন করতে হবে, স্পেসিফিক উত্তর দিতে হবে। এটাই আমার উদ্দেশ্য ছিল।
স্পিকারের কাছে প্রটেকশন চেয়ে তিনি বলেন, মাননীয় সদস্য সারাদিন দাঁড়িয়ে থাকতে পারবেন, আমিও দাঁড়িয়ে থাকবো।
এ সময় জাতীয় সংসদে সরকার ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে তুমুল হট্টগোল ও একে অপরকে কথা বলতে বাধা দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেছেন, ‘আমি কিন্তু সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত।
পরে বক্তব্য দেন বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রথম থেকেই বিরোধীদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে অসংসদীয় মনোভাব প্রদর্শন করে আসছেন। সংসদকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেকে শিক্ষকের ভূমিকায় বসিয়ে বাকিদের ছাত্রের মতো শাসন করার দুঃসাহস দেখাচ্ছেন।
শফিকুর রহমান বলেন, শিক্ষকতা করতে হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় খোলা উচিত যেখানে পছন্দসই শিক্ষার্থীরা গিয়ে ভর্তি হবে। সরকারের এই ধরনের আচরণকে সংসদীয় ফ্যাসিবাদের রূপ হিসেবে অভিহিত করে শফিকুর রহমান জোর দাবি জানান, সংসদের সৌন্দর্য রক্ষা ও মর্যাদার তাগিদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবিলম্বে তার অসংসদীয় মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করতে হবে এবং কার্যপ্রণালী থেকে সেই বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করতে হবে। তা না হলে বিরোধী দলের সদস্যরা অপমান সহ্য করে সংসদে অবস্থান করবেন না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
পরবর্তী সময়ে জাতীয় সংসদের নিরপেক্ষতা রক্ষা এবং কার্যপ্রণালী বিধি বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়ে বক্তব্য রাখেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রকে সচল এবং জনগণের এই প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর রাখতে হলে রুলস অব প্রসিডিউর কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। তিনি বিরোধীদলীয় নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাকবিতণ্ডা এবং বিরোধী দলের সদস্যদের হট্টগোলের কড়া সমালোচনা করে বলেন, সরকারি দলের ত্রুটি-বিচ্যুতি তুলে ধরার পূর্ণ স্বাধীনতা বিরোধী দলের রয়েছে, কিন্তু একজন মন্ত্রীকে বক্তব্য শেষ করতে না দিয়ে সমস্বরে চেঁচামেচি করে বিচার বাণী স্তব্ধ করে দেওয়া কোনো সুস্থ সংসদীয় রীতি হতে পারে না।
নিজের ৪০ বছরের দীর্ঘ সংসদীয় অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্পিকার অতীতের তিক্ত ইতিহাস ও অতীতে স্পিকারকে হত্যার মতো নির্মম ঘটনার কথা তুলে ধরেন এবং অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি ভালো সংসদ উপহার দেওয়ার আহ্বান জানান। বিরোধীদলীয় নেতার উদ্দেশ্যে স্পিকার স্পষ্ট করেন যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে কোনো অসংসদীয় শব্দ থাকলে তা পরীক্ষা করে দেখে এক্সপাঞ্জ করা হবে, তবে সংখ্যাধিক্যের ভিত্তিতে কোনো পক্ষকে চাপ দেওয়া তার উদ্দেশ্য ছিল না। বক্তব্য দেওয়া এবং শোনার মধ্যে পরমতসহিষ্ণুতা না থাকলে দেশে গণতন্ত্র ব্যর্থ হবে বলে স্পিকার সতর্ক করে দেন।
স্পিকারের বক্তব্যের পর পুনরায় আলোচনায় অংশ নেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি কার্যপ্রণালী থেকে বক্তব্য বাদ দেওয়া বা পরীক্ষা করে দেখার অতীতের বিভিন্ন দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অসংসদীয় বক্তব্য স্পষ্ট এবং তা বারবার ঘটে চলেছে। স্পিকার সংসদকে সঠিকভাবে পরিচালনার দায়িত্ব পালন করলেও ট্রেজারি বেঞ্চে সদস্য বেশি থাকা সংক্রান্ত স্পিকারের মন্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানান বিরোধীদলীয় নেতা। সংসদকে সংখ্যা বা গুণে বিভক্ত করার পক্ষপাতী নন উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ভালো কাজে বিরোধী দল সবসময় সরকারের সঙ্গে একাত্ম থাকবে এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যেন স্পিকার সংসদ সদস্যদের কোনো ধারায় বিভক্ত না করে সমান মর্যাদায় সংসদ পরিচালনা করেন।
এদিকে অধিবেশনে নিজের ক্ষোভ তুলে ধরে পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলেন প্রবীণ সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। বাজেট বক্তৃতায় একটি রূপক গল্প বলার কারণে তার বক্তব্যের কিছু অংশ এক্সপাঞ্জ করায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং স্পিকারের কাছে জানতে চান কোন শব্দটি অসংসদীয় ছিল। সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী আক্ষেপ করে বলেন, তার দাড়ি ও ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে কটাক্ষ করে তার ব্যক্তিগত ইজ্জত ও সংসদের মর্যাদায় আঘাত হানা হয়েছে। তিনি প্রবীণ সদস্য হিসেবে তার সম্মান রক্ষার দাবি জানান এবং বিষয়টির সুরাহা ও বিচার চেয়ে স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিক নোটিশের জবাব প্রার্থনা করেন।
সবশেষে সার্বিক পরিস্থিতির পর্যালোচনা করে স্পিকার সমাপনী বক্তব্য দেন। মনিরুল হক চৌধুরীর বিষয়ে স্পিকার জানান, ঘটনার সময় তিনি না থাকায় বিষয়টি কার্যপ্রণালী দেখে পরীক্ষা করবেন এবং অসংসদীয় কিছু থাকলে ব্যবস্থা নেবেন।
একই সঙ্গে সব সংসদ সদস্যের উদ্দেশ্যে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা জারি করে স্পিকার বলেন, যেভাবে একে অপরকে বাধা দেওয়া হচ্ছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। স্পিকার যখন কোনো সদস্যকে বসতে বলেন, সেই আইন বা রীতি না মানলে সংসদ বেশিদিন সচল রাখা সম্ভব নয়। সংসদ পরিচালনায় চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেওয়ায় গভীর হতাশা ব্যক্ত করে এবং সব পক্ষকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে স্পিকার আসরের নামাজের জন্য অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন।
সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু চলবে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এ অধিবেশন শুরু হয়। শুরুতে স্পিকার গত ২০ আগস্ট দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান। এর পর তিনি শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এর আগে গত ১৫ জুলাই সংসদের দ্বিতীয় ও বাজেট অধিবেশন শেষ হয়। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে অধিবেশন বসতে হবে। সে অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এ অধিবেশন আহ্বান করে। অধিবেশনটি আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।
এদিকে অধিবেশনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। একই সঙ্গে ১৯৯১ সালের পর দীর্ঘ ৩৫ বছরের মাথায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়াকে দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক অনন্য এবং তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটেছে। শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে একটি গণতান্ত্রিক, শক্তিশালী ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে সংসদ সদস্যদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
স্পিকার নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মহান জাতীয় সংসদ ও ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, নতুন রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা ও পারস্পরিক সহযোগিতা সুদৃঢ় হবে এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা আরও বেগবান হবে।
এরপর স্পিকার অধিবেশনে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। নেপালের সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় শোক ও সমবেদনা জানানো হয়। এছাড়াও সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার ব্যারিস্টার মোহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকার, সাবেক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা সতীশ চন্দ্র রায়, মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ জাহান চৌধুরী, সাবেক চিফ হুইপ মোশাররফ হোসেন মিয়াসহ মোট ১২ জন সাবেক সংসদ সদস্য, কবি আল মুজাহিদী, চিত্রশিল্পী মোস্তফা মনোয়ার, অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক এবং ড. মকবুল হোসেনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়। এছাড়াও যাদের নাম বাদ পড়েছে তাদের নাম অন্তর্ভূক্ত করার কথা বলা হয়। পরে মরহুমদের স্মরণে স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং তাদের রুহের মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ মোনাজাত পরিচালনা করেন।
পাঁচ সদস্যের সভাপতিমন্ডলী: অধিবেশনে পাঁচ সদস্যের সভাপতিমন্ডলীর নাম ঘোষণঅ করেন স্পিকার। তারা হলেন- গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, জামাল নিজাম, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, নিলুফার চৌধুরী মনি এবং মো. মুজিবুর রহমান। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে তালিকায় থাকা নামের ক্রমানুসারে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যরা অধিবেশন পরিচালনা করবেন।
১০ সেপ্টেম্বর শেষ হবে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। সরকারি ছুটির দিন এবং ৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টায় অধিবেশন বসবে।
তবে প্রয়োজনে অধিবেশনের সময় ও কার্যদিবসসংক্রান্ত যেকোনো বিষয় পরিবর্তনের ক্ষমতা স্পিকারকে দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কার্য উপদেষ্টা কমিটির চতুর্থ বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান অংশ নেন।
এছাড়া কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, বিরোধীদলের উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, এ টি এম আজহারুল ইসলাম এবং বিরোধীদলের চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
স্পিকারের বিশেষ আমন্ত্রণে বৈঠকে অংশ নেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
সংসদ সচিবালয় থেকে জানানো হয়, বৈঠকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় (২০২৬ সালের তৃতীয়) অধিবেশনের কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য সময় বরাদ্দ ও অধিবেশনের স্থায়িত্বকাল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
একই সঙ্গে আগামী এক বছরের সম্ভাব্য অধিবেশনগুলোর দিন-তারিখ ও সময়কাল নিয়েও আলোচনা করেন কমিটির সদস্যরা।
চলতি অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে বিপুলসংখ্যক প্রশ্ন জমা পড়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উত্তর দেওয়ার জন্য ১৪২টি এবং অন্যান্য মন্ত্রীদের জন্য ২ হাজার ৬৭৬টিসহ মোট ২ হাজার ৮১৮টি প্রশ্ন পাওয়া গেছে।
পাশাপাশি, বিধি-৭১ অনুযায়ী মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশ পাওয়া গেছে ৮১টি এবং সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের (বিধি-১৩১) নোটিশ জমা পড়েছে ২৪৯টি।