ইতালিতে হামলা ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। তাকে পানি, কোমল পানীয় ও ডিম ছুড়ে মারা হয়েছে, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। বাঁধন আরও জানান, তার হাত থেকে মোবাইল ফেলে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সময় তার ভাইয়ের শিশুসন্তানও সঙ্গে ছিল। হামলার পর স্থানীয় থানায় অভিযোগ করেছেন তিনি।
বাঁধনের অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকার কারণেই তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীদের কয়েকজন নিজেদের আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) কর্মী এবং ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন বলে জানান তিনি। অভিনেত্রীর অভিযোগ, তাকে জোর করে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে বলা হয়। সেই দৃশ্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার ও প্রকাশের চেষ্টা করেন হামলাকারীরা।
৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালিতে গেছেন বাঁধন। বর্তমানে তিনি মেস্ত্রে শহরে অবস্থান করছেন। সোমবার রাতে ভাই ও তার পরিবারের সঙ্গে তিনি স্থানীয় একটি পার্কে গেলে এ হামলা ও হেনস্তার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে বিস্তারিত জানান বাঁধন। পরে হামলা ও হেনস্তার কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। ভিডিওতে কয়েকজনকে বাঁধনের দিকে তেড়ে যেতে, তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি করতে এবং উত্তেজিতভাবে কথা বলতে দেখা যায়। তাদের কয়েকজন বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলে আখ্যা দেন। ফেসবুক লাইভে বাঁধন বলেন, এখানে আমি আমার ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে পার্কে গিয়েছিলাম। সেখানে আমাদের অনেক বাঙালি ভাই এসে আমাকে ফিজিক্যালি হ্যারাস করেছে। আমার শরীরে পানি, কোক ছুড়ে মেরেছে। এতে আমি একদম ভিজে যাই। বাঁধন জানান, তার ওপর হাত তোলা হয়েছে এবং কানের পাশেও আঘাত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তারা আমার শরীরে হাত তুলেছে, আমার ফোন ফেলে দিয়েছে। আমার কানের পাশে আঘাত করেছে।
ঘটনার সময় বাঁধনের ভাইয়ের শিশুসন্তান তাদের সঙ্গে ছিল। প্রকাশিত একটি ভিডিওতে শিশুটির কথা উল্লেখ করে হামলাকারীদের থামানোর চেষ্টা করতে শোনা যায়। জবাবে একজনকে বলতে শোনা যায়, কিসের আবার বাচ্চা, ওকে জয় বাংলা বলতে হবে। ভিডিওতেও কয়েকজনকে বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলতে এবং তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করতে শোনা যায়। বাঁধন বলেন, তারা বলেছে, আমি জুলাই যোদ্ধা। ইয়েস, আই অ্যাম। আমি অবশ্যই জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি। বাঁধনের ভাইয়ের স্ত্রীকেও ধাক্কা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমার গায়ে হাত তোলা হয়েছে। আমার ভাইয়ের স্ত্রীকেও ধাক্কা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বাঁধন বলেন, একজন আজমেরী হক বাঁধনকে দমানো এত সহজ হবে না। আপনারা আজ সারা বিশ্বের মানুষকে দেখালেন, বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী একজন অভিনেত্রীকে হেনস্তা করা হলো। হামলাকারীদের উদ্দেশে বাঁধন আরও বলেন, আপনাদের এই অসংলগ্ন আচরণ থেকে বেরিয়ে আসা উচিত ছিল, আপনারা তা করতে পারেন নি। আপনারা ভেবেছেন, এভাবে করেই হয়তো পরবর্তীকালে নিজেদের জায়গাটা ফের সুগঠিত করতে পারবেন। সেটা আমার মনে হচ্ছে না। ভিডিও বার্তায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের কথাও উল্লেখ করেন বাঁধন। তিনি বলেন, সজীব ওয়াজেদ জয়ও ভেনিসে আছেন বলে তিনি জেনেছেন। তার কাছে ঘটনাটি পৌঁছে দেওয়ার কথাও বলেন অভিনেত্রী। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন বাঁধন। আন্দোলনের পক্ষে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে কথা বলেছিলেন তিনি।
গণহত্যা ও লুণ্ঠনকারীরা পার পাবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
বিদেশে অবস্থানরত শেখ হাসিনাসহ গণহত্যা ও রাষ্ট্রীয় লুণ্ঠনে জড়িত অপরাধীদের আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল-এর সভাপতিত্বে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ কথা বলেন। সংসদের বৈঠকে বক্তব্য উপস্থাপনকালে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে স্পিকারকে অবহিত করেন যে, বৈষম্যবিরোধী জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ায় সম্প্রতি ইতালিতে গিয়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের তোপের মুখে পড়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। সেখানে জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকেই অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন করে তার ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। আখতার হোসেন আরও উল্লেখ করেন, এর আগেও তিনি নিজে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জাতিসংঘ কর্মসূচিতে অংশ নিতে আমেরিকা সফরে গেলে সেখানেও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা তার ওপর একইভাবে হামলা চালিয়েছিল।
তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনে যুক্ত সাধারণ মানুষ কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যারা বর্তমানে বিদেশে যাচ্ছেন, বিদেশের মাটিতে আওয়ামী গুন্ডারা তাদের ওপর হামলা, হেনস্থা ও হুমকি প্রদান অব্যাহত রেখেছে। এসব অপরাধীরা বিদেশে অপরাধ করে পার পেয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে এমন হামলাকারী আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের গুন্ডাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সরকারের দৃঢ় পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ আছে কিনা তা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চান রংপুর-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য। প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, ইতালির ভেনিস শহরে সংঘটিত এই ন্যক্কারজনক ঘটনার বিরুদ্ধে সরকার কঠোর কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে দেশের ভেতর হত্যা, লুণ্ঠন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে বিদেশে পালিয়ে থাকা শেখ হাসিনাসহ সকল আওয়ামী সন্ত্রাসীদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে সরকার বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করবে না বলেও তিনি এই মহান সংসদকে আশ্বস্ত করেন। আখতার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সংসদে তার প্রথম ভাষণে সকল জুলাই শহীদ ও আহত গণতন্ত্রপ্রেমীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বিদেশে জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়ে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, একজন জুলাই যোদ্ধার ওপর হামলা মানেই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর নগ্ন হামলা। ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি বলেন, সেপ্টেম্বর মাসের চার তারিখ সন্ধ্যায় ইতালির ভেনিস শহরের একটি পার্কে আজমেরী হক বাঁধন তার ভাই, বোন ও সন্তানকে নিয়ে অবস্থান করছিলেন। সে সময় বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত আওয়ামী লীগের কয়েকজন চিহ্নিত ক্যাডার তার ওপর অতর্কিত ও কাপুরুষোচিত হামলা চালায়। ঘটনা জানার সাথে সাথেই সরকার তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, তিনি নিজে সকালে পররাষ্ট্র সচিবের সাথে কথা বলেছেন এবং সংশ্লিষ্ট রোমস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। রোমের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে ইতিমধ্যেই ইতালীয় পুলিশ প্রশাসন এবং ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। মিস বাঁধন যাতে সর্বোচ্চ কনসুলার সহায়তা ও নিরাপত্তা পান তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ঘটনার শিকার আজমেরী হক বাঁধন ইতালি পুলিশে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করার পর সেই দেশের সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা আরও জোরদার করা হচ্ছে।
হুমায়ুন কবির জাতীয় সংসদে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, দেশের জনগণের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে নির্বাচিত এই সরকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনকারী, গণহত্যায় জড়িত এবং পালিয়ে থাকা আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে। শেখ হাসিনাসহ যেসব সন্ত্রাসীরা বিদেশে আশ্রয় নিয়ে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের সবাইকে আইনের দীর্ঘ হাত ব্যবহার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্সি গ্রহণসহ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বাংলাদেশ এখন অন্যতম শক্তিশালী ও কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ আর কোনো পরাশক্তির দাসত্ব বা গোলামি করবে না, বরং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এবং এই মহান সংসদের সমর্থনে স্বাধীন গতিতে এগিয়ে গিয়ে বিশ্বের বুকে একটি স্বকীয় প্রভাবশালী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
ইতালিতে নিরাপদে আছেন বাঁধন: সহকারী প্রেস সচিব
ইতালিতে হামলা ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। তবে তিনি বর্তমানে নিরাপদে আছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক। মঙ্গলবার ভোরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। ফেসবুক পোস্টে কে এম নাজমুল হক লেখেন, আজমেরী হক বাঁধনের সঙ্গে কথা হয়েছে।
তিনি নিরাপদে আছেন। মিলানে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সঙ্গেও কথা হয়েছে এবং তার সঙ্গে কনস্যুলেটের কর্মকর্তাদের যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি আরও লেখেন, ভেনিসে অবস্থানরত বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলাকারীদের শনাক্ত ও খুঁজে বের করতে ইতালিয়ান পুলিশকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবেন। বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সহযোগিতায় আগামীকাল এ ঘটনায় মামলা করা হবে।
পোস্টে হামলাকারীদের হুঁশিয়ার করে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব লেখেন, বাংলাদেশের পক্ষের কোনো শক্তির ওপর যেখানেই আক্রমণ হোক না কেন, সেখানকার প্রচলিত আইন অনুযায়ী এর দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। জানা গেছে, ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে বর্তমানে ইতালির মেস্ত্রে শহরে অবস্থান করছেন আজমেরী হক বাঁধন। সোমবার রাতে ভাই ও তার পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় একটি পার্কে ঘুরতে গেলে আকস্মিকভাবে হামলা ও হেনস্তার শিকার হন এই অভিনেত্রী।
মহিলা জামায়াতের নিন্দা
অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা, হেনস্তা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ। গতকাল মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানান জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের প্রচার বিভাগীয় সেক্রেটারি নাজমুন নাহার। বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিদেশের মাটিতে একজন নারী শিল্পী ও তার পরিবারের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা, গায়ে ডিম-পানি নিক্ষেপ এবং প্রকাশ্যে হেনস্তার ঘটনা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। রাজনৈতিক মতপার্থক্য যত গভীরই হোক, তা কাউকে কারও গায়ে হাত তোলা কিংবা প্রকাশ্যে অপমান করার অধিকার দেয় না। নাজমুন নাহার আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে অভিনেত্রী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আজমেরী হক বাঁধন ফ্যাসিবাদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রাজপথে নেমেছিলেন। এমন একজনের ওপর হামলা শুধু ব্যক্তি আক্রমণ নয়, বরং ভিন্নমত দমনের একটি ভয়ংকর নজির হয়ে থাকবে। বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে ইতালীয় প্রশাসনের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানায়। একই সঙ্গে ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসকে অবিলম্বে অভিনেত্রী বাঁধন ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। নাজমুন নাহার অভিনেত্রী বাঁধন ও তার পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নারীর মর্যাদা ও নাগরিক নিরাপত্তার প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামী সবসময় সোচ্চার থাকবে।
হামলা প্রমাণ করে তাদের খুনে মানসিকতা বিন্দুমাত্র বদলায়নি: এনসিপি
অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সংঠনটি বলছে, ভেনিসে একজন সুপরিচিত সাংস্কৃতিক কর্মী ও জুলাই যোদ্ধার ওপর হামলার মতো জঘন্য অপরাধ প্রমাণ করে যে, তাদের হিংস্র খুনে মানসিকতা বিন্দুমাত্র বদলায়নি। মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন এসব কথা বলেন। দলের দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা স্বাক্ষরিত এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে এনসিপির দুই শীর্ষ নেতা বলেন, দেশজুড়ে গণহত্যা ও জুলুম চালিয়ে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মুখে পতন ঘটা আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী দেশ থেকে পালিয়ে এখন বিদেশের মাটিতে বসে দেশের জুলাই যোদ্ধাদের ওপর রাজনৈতিক সহিংসতা ও সন্ত্রাসী হামলা ছড়ানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। ভেনিসে একজন সুপরিচিত সাংস্কৃতিক কর্মী ও জুলাই যোদ্ধার ওপর হামলার মতো জঘন্য অপরাধ প্রমাণ করে যে, তাদের হিংস্র খুনে মানসিকতা বিন্দুমাত্র বদলায়নি।’ নেতারা বলেন, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দণ্ডিত সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের ভেনিসে উপস্থিতিতে তার ঘনিষ্ঠ সন্ত্রাসীরাই এই হামলা চালিয়েছে। তার সঙ্গে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা চিহ্নিত সন্ত্রাসী ক্যাডাররাই মূলত ভেনিসের মাটিতে অভিনেত্রী বাঁধন ও তার পরিবারের ওপর এই ন্যক্কারজনক হামলা চালায়। তাকে জোরপূর্বক জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দিতে বাধ্য করে। এতে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ হয় যে, বিদেশে অবস্থানরত পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিবাদের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রত্যক্ষ মদত ও উসকানিতেই এই রাজনৈতিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও হামলা পরিচালিত হচ্ছে।’ নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেন বলেন, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাদের এই অব্যাহত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আবার প্রমাণ করলো যে, এই রক্তচোষা ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক রিকনসিলিয়েশন (পুনর্মিলন) সম্ভব নয়। যারা বিদেশের মাটিতেও জুলাই যোদ্ধাদের রক্তাক্ত করতে দ্বিধা করে না, তাদের স্থান কেবল আইনের কাঠগড়ায়। স্বৈরাচার পতন ঘটানো জুলাই যোদ্ধারা আমাদের জাতীয় সম্পদ; বিদেশের মাটিতে সন্ত্রাসী এই সংগঠনের ক্যাডাররা তাদের ওপর হামলা চালানোর যে দুঃসাহস দেখিয়েছে, তা কোনো অবস্থায়ই বরদাশত করা হবে না।’
এনসিপির নেতারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সরকারের প্রতি স্পষ্ট বার্তা জানিয়ে বলেন, ‘ইতালিয়ান সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে এই হামলায় জড়িত চিহ্নিত আওয়ামী সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে এবং তাদের ভিসা বাতিল করে বাংলাদেশে ডিপোর্ট (বহিষ্কার) করে আইনের আওতায় আনতে হবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অবস্থানরত সব জুলাই যোদ্ধা, প্রবাসী বিপ্লবী কর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জনগণের ট্যাক্সে পরিচালিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।’ তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘ভেনিসের এই সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতদের কূটনৈতিক ও আইনি মাধ্যমে বাংলাদেশে ডিপোর্ট করে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের মুখোমুখি করা না হলে বর্তমান সরকারকে কঠিন জবাব দিতে হবে। এনসিপি বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সব মঞ্চে ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।