- পলাতকদের বিষয়ে বিশেষ সেল গঠনের প্রস্তাব বিরোধীদলীয় উপনেতার
- আমাদের দায়ী না করে সহযোগিতা করুন -স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- কিলার বেনজীর দুবাই আছেন, তাকে ফিরিয়ে এনে বিচার করা হবে -পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দুবাই থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থতাকে ‘প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার গুরুতর ব্যর্থতা’ হিসেবে উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সংসদে উপস্থাপনের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় ছয়টি দেশের পাসপোর্ট পাওয়ার অভিযোগের তদন্তের অগ্রগতি এবং দেশে-বিদেশে তার অবৈধ সম্পদ জব্দে নেওয়া পদক্ষেপের বিস্তারিত প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে কার্যপ্রণালি-বিধির ১৪৭ বিধিতে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম এই সাধারণ প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
প্রস্তাবে বলা হয়, মানবতাবিরোধী অপরাধ, গুম, অর্থপাচার ও দুর্নীতির বহু মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদ ইন্টারপোলের রেড নোটিশে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়ার পর গত ১৪ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এরপর তার জামিনে মুক্তি এবং সেন্ট লুসিয়ায় যাওয়ার ঘটনা প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় গুরুতর ব্যর্থতার পরিচায়ক।
প্রস্তাবে ৩০ দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠানোসহ এ পর্যন্ত নেওয়া সব পদক্ষেপের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সংসদে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি প্রত্যর্পণের নথিতে কোনো আইনি বা পদ্ধতিগত ত্রুটি ছিল কি না এবং ব্যর্থতার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার দাবিও জানানো হয়েছে।
বেনজীর কীভাবে সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় ছয়টি দেশের পাসপোর্ট পেয়েছেন, তার তদন্তের অগ্রগতি এবং তাকে সেন্ট লুসিয়া থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা ও তার অবৈধ সম্পদ জব্দে নেওয়া পদক্ষেপের প্রতিবেদনও চাওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবের উপর আলোচনা শেষে সংসদে ভোটে এ সিদ্ধান্ত হয় যে, যতদ্রুত সম্ভব বেনজিরকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সংসদকে ও সকল সদস্যকে অবহিত করবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবিষয়ে সরকারকে দায়ী না করে সহযোগিতা করার জন্য বিরোধী দলের প্রতি আহবান জানান। আর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, বেনজির দুবাইয়েই আছে, তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করা হবে।
প্রস্তাব উত্থাপন করে মীর আহমাদ বিন কাসেম বলেন, ভুক্তভোগীরা অনেক প্রতিশ্রুতি ও বিবৃতি শুনেছেন, কিন্তু সরকার বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সত্যিকার অর্থে চেষ্টা করছে—এমন অনুভূতি তাদের মধ্যে তৈরি হয়নি।
তিনি বলেন, বেনজীর গ্রেপ্তারের খবর পাওয়ার পরপরই স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলরা দুবাই গিয়ে দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করলে এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শক্তিশালী আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক মানের ল ফার্ম নিয়োগ করে আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো ফাঁক না রাখার উদ্যোগ নেওয়া হলে সরকারের আন্তরিকতার প্রমাণ পাওয়া যেত।
মীর আহমাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে ব্যক্তিগতভাবে চিঠি দিয়ে বেনজীরকে ফেরত দেওয়ার আবেদন করতে পারতেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে প্রত্যর্পণ চুক্তির সীমাবদ্ধতা থাকলে দ্রুত নতুন চুক্তি বা কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগও প্রয়োজন ছিল। আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক—সব ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে তাকে ফিরিয়ে আনাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত ছিল।
তিনি বলেন, সরকার সব চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মন্ত্রী সংসদে এসে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করলে ভুক্তভোগীরা অন্তত বুঝতে পারতেন যে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করা হয়েছে।
মীর আহমাদ আরও বলেন, শুধু বেনজীর নয়, রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভিন্ন পর্যায়ে থাকা গুম, হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দৃশ্যমান পদক্ষেপও এখনো দেখা যাচ্ছে না। ভুক্তভোগীরা প্রতিশ্রুতি নয়, কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চান।
তিনি বলেন, জুলাই-পরবর্তী রাষ্ট্রে শহীদ পরিবার ও ভুক্তভোগীদের প্রতি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। পাঁচ বছরের রাজনৈতিক স্বার্থ নয়, আগামী ৫০ বছরের জাতি গঠনের কথা মাথায় রেখে রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতি নির্ধারণ করতে হবে।
বিরোধী দলের উপনেতা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, এ বিষয়ে আমি মনে করি দু’টা প্রস্তাব আমার আছে এখানে। একটা হচ্ছে যে এটার জন্য একটা স্পেশাল সেল যদি করা যায়, যাদের কাজই হবে এই বেনজীর সহ অন্যান্য যারা ফ্যাসিস্ট পলাতক আছে বা বিদেশে আছে, তাদের ইস্যুটা কীভাবে সলভ করা যায়—তারা শুধু এখানেই কনসেন্ট্রেট করবেন। এটা আমার একটি প্রস্তাব। দ্বিতীয়ত হচ্ছে, ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ অনেক ক্রিমিনাল বাংলাদেশে ঢুকে পড়ছে, তারা চলে আসছে এবং ইউনিয়ন লেভেলেও আওয়ামী লীগের পরিচিত লোকেরা এখন মিছিল-মিটিং করতেছে এবং সংগঠিত হচ্ছে। আমরা অনেক সময় তাদেরকে চিহ্নিত করে পুলিশকে ইনফর্ম করি, কিন্তু পুলিশ সেভাবে কোনো রিঅ্যাক্ট করে না এবং তাদেরকে ধরে এনে আইনের আওতায় নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আসলে তারা মোটেই তৎপর না। এটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নলেজে আছে কি না আমি জানি না। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অবগতির জন্য বলছি, এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। সেজন্য যে সমস্ত ক্রিমিনাল আওয়ামী লীগের এখন বাংলাদেশে আছে, ইনফরমেশন পাওয়া যায়—পুলিশের প্রতি একটা উনার দৃষ্টি আকর্ষণ থাকা উচিত, নির্দেশ থাকা উচিত যে এ ধরনের ইনফরমেশন পেলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাকশনে যাবে, তাদেরকে অ্যারেস্ট করবে এবং আইনের আওতায় তাদেরকে সোপর্দ করবে। এই যে উইকনেস আমরা দেখছি, এটা কেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে স্পষ্ট বক্তব্য আসা উচিত। কারণ দুবাইয়ে যেটা হয়েছে, তারপরে সে সহজেই বেরিয়ে গেল। আমরা কি কোনো ল-ইয়ার এঙ্গেজ করেছিলাম কি না এবং পত্রিকায় দেখলাম এরপরে একটা লবিস্ট ফার্মকে সেখানে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তো এটা কোন সময়, তার আগে কি না? এটাকে এই আমাদের দেশে একটা কথা আছে মাননীয় স্পিকার যে—চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে। এখন বেনজীরের পালানোর পরেই কি আমরা অতটুকু করার জন্যই আমরা এখানে চিন্তা করছি? তো এটাকেও আমরা সেখানে পরিষ্কার করে জানতে চাই মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে।
তিনি বলেন, আমি মনে করি আওয়ামী লীগের ব্যাপারে, সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে, ফ্যাসিবাদীদের ব্যাপারে, স্বৈরাচারের ব্যাপারে আমাদের নরম হওয়া এবং আপস করার কোনো সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না। কারণ তারা যদি এখানে আবার ঢুকে পড়ে, তাহলে এটা বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য, গণতন্ত্রের জন্য, আমাদের মানুষের—দেশের মানুষের নিরাপত্তার জন্য এটা হুমকি হতে পারে। আমি আরেকটা প্রস্তাব করেই বক্তব্য শেষ করে দেব। সেটা হচ্ছে বেনজীর বা এ ধরনের ক্রিমিনাল যারা আছে, তাদের বাংলাদেশে অনেক সম্পত্তি আছে বৈধ এবং অবৈধ। আমরা মনে করি তাদের সমস্ত সম্পত্তি সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এখানে বিক্রি করে দিয়ে, যারা ভিকটিম হয়েছেন—এই ভিকটিমদের ফ্যামিলির কাছে সেটাকে ডিস্ট্রিবিউট করা উচিত, তাদেরকে কম্পেনসেট করার জন্য চেষ্টা করা উচিত। এই সুস্পষ্ট প্রস্তাবটি যেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী এবং গভর্নমেন্ট গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে একটা সঠিক উদ্যোগের মাধ্যমে এটাকে নিষ্পত্তি করতে পারে।
বেনজীরকে ফিরিয়ে আনার আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার যথাযথ কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ। তিনি সরকারকে দায়ি না করে সহযোগিতা করার জন্য বিরোধী দলের প্রতি আহবান জানান।
তিনি জানান, দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের ভিত্তিতে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে এনসিবি আবুধাবি তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি বাংলাদেশকে জানায়। ইউএই-এর আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়সীমার বহু আগেই—মাত্র চার দিনের মাথায়—বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিক এক্সট্রাডিশন রিকুয়েস্ট প্রেরণ করে।
সংসদে উত্থাপিত পয়েন্টগুলোতে মন্ত্রী আরও জানান, ইউএই কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত তথ্য ও নথিপত্রের চাহিদানুযায়ী সমস্ত আইনি সনদ ও অনুবাদ দ্রুত প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া আবুধাবিতে বাংলাদেশের পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য ‘হামদান আল কাবি অ্যাডভোকেটস অ্যান্ড লিগ্যাল কনসালটেন্সি’ নামের একটি শীর্ষস্থানীয় ল ফার্ম নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আদালত থেকে বেনজীর আহমেদের জামিন পাওয়ার খবরে ইমিগ্রেশন ও বর্ডার কন্ট্রোল পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর অনুরোধ করা হয়েছে। তার সেন্ট লুসিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার গুঞ্জনের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, কোনো রাষ্ট্র বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এর এখনো আনুষ্ঠানিক সত্যতা পাওয়া যায়নি।
সম্পদ ও পাসপোর্ট জালিয়াতির বিষয়ে তিনি বলেন, বেনজীর আহমেদের পাসপোর্ট জালিয়াতির ঘটনায় দুদকে পৃথক মামলা তদন্তাধীন রয়েছে, যেখানে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে তার সম্পদের খোঁজে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (গখঅজ) পাঠানো হয়েছে এবং দেশীয় সম্পদ আদালতের নির্দেশে ফ্রিজ ও ক্রোক করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, জামিন পাওয়া মানেই প্রত্যার্পণ প্রক্রিয়ার সমাপ্তি নয়। সরকার আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো ও পারস্পরিক সহযোগিতার নীতি অনুসরণ করে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
কিলার বেনজীর দুবাই আছেন, তাকে ফিরিয়ে এনে বিচার করা হবে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে জঘন্য হত্যাকারী হিসেবে আখ্যায়িত করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, বেনজির সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাইয়ে আছেন। আমাদের কাছে যে তথ্য আছে তাতে তিনি ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র সেন্ট লুসিয়ায় যাননি। তাকে দুবাই থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বেনজীর আহমেদ কিলার, হাজার হাজার নেতাকর্মীকে তিনি হত্যা করেছেন। দেশ ও জাতির দুশমন তিনি। বেনজীর সেন্ট লুসিয়ায় যাননি, তিনি দুবাইয়ে আছেন। আমাদের দূতাবাস সতর্ক আছে। আমরা কিছু করছি তার বিচারের জন্য। আমরা সবাই এক আছি। আমরা একসঙ্গে কাজ করছি।
তিনি বলেন, কেইস করে জঘন্য হত্যাকারীকে আনতে পারবো। মানুষ হত্যাকারীকে দেশে ফিরিয়ে আনবো। আওয়ামী লীগের যারা দেশের জেলে আছে তাদের বিচার হবে। আমাদের সাপোর্ট করেন আমরা ইনশা আল্লাহ বিচার করবো।’
প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেন, বেনজীরের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ভারতের সঙ্গে থাকা বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির কার্যকারিতা বাড়িয়ে বিদেশে অবস্থানরত অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, ১৪ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার কথা বলায় সংসদ সদস্যরা তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন। কিন্তু পরে তিনি কীভাবে জামিন নিয়ে অন্য দেশে চলে গেলেন, সেটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, বেনজীরকে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ কতটা সুচারুভাবে নেওয়া হয়েছে, তা সংসদে স্পষ্ট করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের পদক্ষেপ এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
আখতার হোসেন আরও বলেন, শুধু বেনজীরকে বিচারের আওতায় আনাই যথেষ্ট নয়; ভবিষ্যতে কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যাতে গুম, হত্যা বা মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়াতে না পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মার্জিয়া বেগম বলেন, বেনজীরের জামিন নিয়ে দেশত্যাগের ঘটনায় প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়েছে। তিনি বেনজীরকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে তার দেশ-বিদেশের অবৈধ সম্পদ জব্দ এবং গুম-হত্যাসহ অভিযোগগুলোর বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
জাগপা সভাপতি ও সংরক্ষিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান বলেন, ২০২৫ সালে ইন্টারপোলের মাধ্যমে বেনজীরের বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি এবং পরে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। তাকে গ্রেপ্তারের পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রত্যর্পণ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেন।
তিনি বলেন, বেনজীরকে দেশে এনে বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়েছে কি না, সেটি জাতি জানতে চায়।