সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় আলমগীর (২৮) নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসী যুবক নিহত হয়েছেন। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) সৌদি সময় অনুযায়ী ভোর ৬টার দিকে ডিউটিরত অবস্থায় রাস্তা পরিষ্কার করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আলমগীর কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের উত্তর ভাট্টা গ্রামের বাসিন্দা রমজান মিয়ার বড় ছেলে। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আলমগীর সৌদি আরবের আলিয়ান কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। প্রায় দেড় বছর আগে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে তিনি প্রবাসে পাড়ি জমান। শনিবার ভোরে কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে একটি দ্রুতগামী গাড়ি তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
কোম্পানির ফোরম্যানের মাধ্যমে নিহতের পরিবারটি এই মর্মান্তিক মৃত্যুর সংবাদ পায়।
নিহতের ছোট ভাই মো. রুবেল মিয়া বলেন, ফোরম্যান আমাদের ফোন করে বড় ভাইয়ের মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন। এখন আমাদের একমাত্র চাওয়া, সরকার যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে আমার বড় ভাইয়ের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে দেন।
নিহত আলমগীরের স্ত্রী স্বামীর মৃত্যুর খবরে পাগল প্রায় হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং সরকারের কাছে দাবি জানান তার স্বামীর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে দেন।
নিহত আলমগীরের মা সন্তান হারানোর বেদনায় পাগলের মতো আহাজারি করতে দেখা যায়। তার মা বলেন, সরকারের কাছে আমার একটিই অনুরোধ - তারা যেন দ্রুত আমার ছেলের মৃতদেহটি দেখার ব্যবস্থা করে দেন।
স্থানীয় এলাকাবাসীরা বলেন, অনেক দেন দেনা করে অনেক স্বপ্ন নিয়ে তারা তাদের বড়ো সন্তানকে প্রবাসে পাঠিয়েছেন। কিন্তু তার মৃত্যুতে তাদের মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
জরাজীর্ণ টিনের ছোট ঘরে তাদের বসবাস। এ মূহুর্তে একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেটিকে হারিয়ে তারা হতবিহ্বল হয়ে পড়েছে। কিভাবে ঋণ পরিশোধ করবে আর কিভাবে সংসার চালাবে।
স্থানীয় ব্যক্তিদের প্রত্যাশা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রধানমন্ত্রীর কিছু আর্থিক সহযোগিতায় হয়তো এই অসহায় পরিবারটির মুখে একটু হাসি ফোটাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারেন।
অন্যদিকে উপার্জনক্ষম ছেলেটিকে হারিয়ে তার পরিবার হতবিহ্বল হয়ে পড়েছে অন্য দিকে তার এই মৃত্যুর সংবাদে এলাকায় শোকের মাতম চলছে।