গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি’র এক শ্রমিক হত্যার রহস্য মাত্র ৫২ ঘণ্টার মধ্যে উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। ঘটনায় জড়িত দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছে।

নিহত বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম থানার ভাতগ্রামের মৃত নবাব আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম বুলবুল (৫২) বর্তমানে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার সফিপুর পূর্বপাড়া, আনসার একাডেমি তিন নাম্বার গেইট উত্তর পাশে নর্থ টাওয়ারএলাকায় বসবাস করতেন। তিনি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে একই এলাকায় থেকে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি-তে প্রোডাকশন হেলপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ এপ্রিল রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরেন তিনি। তার স্ত্রী মোছাঃ ফরিদা বেগম পার্শ্ববর্তী একটি কারখানায় নাইট ডিউটিতে থাকায় তাকে আনতে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বাসা থেকে বের হন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ হন। পরদিন ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে সফিপুর আনসার একাডেমির ১নং গেটের পূর্ব পাশে রাস্তার ধারে বৈদ্যুতিক খুঁটির গোড়ায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশের শরীরে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন এবং বাম উরুতে ছিদ্রযুক্ত জখম পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে রেজওয়ান আহমেদ শ্রাবণ কালিয়াকৈর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোঃ শরিফ উদ্দিনের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিবি) ও কালিয়াকৈর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে প্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৮ এপ্রিল রাত আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে অভিযান পরিচালনা করে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলো-সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর থানার হালাবাদি গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে মোঃ আফজাল হোসেন মাসুদ (২৫), বর্তমানে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার রাখালিয়াচালা এলাকায় বসবাসরত।

অপরজন জামালপুর জেলার হালুয়াবাজার এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে রিপন হোসেন মুন্না (২৪), বর্তমানে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার রাখালিয়াচালা এলাকার (আলমগীরের বাড়ির ভাড়াটিয়া) বাসিন্দা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামিরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তাদের দেখানো মতে নিহতের ব্যবহৃত একটি OPPO A5 2020 মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে আদালতে প্রেরণ করা হলে তারা উভয়েই ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গাজীপুর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের এক শ্রমিক হত্যার ঘটনায় দ্রুত রহস্য উদঘাটন করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।