পিরোজপুর সংবাদদাতা : গত ১৮ মার্চ পিরোজপুর সিভিল সার্জন এর উদ্যোগে ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (WHO) এর কারিগরি সহায়তা হাম রুবেলা প্রতিরোধে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পিরোজপুর জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে দুপুর ১২ টায় সিভিল সার্জন ডাক্তার মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে এই জরুরী সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানিজেশন এর সার্ভেইলেন্স এন্ড ইমুনাইজেশন মেডিকেল অফিসার ডাক্তার সাজিয়া নওশীন, পিরোজপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট রেজাউল ইসলাম শামীম, এবং সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার আরিফ হাসান উপস্থিত ছিলেন।

ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম সম্পর্কে ডাক্তার মতিউর রহমান বলেন, সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে দেশব্যাপী হাম প্রতিরোধে জরুরী ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ভ্যাক্সিনেশন কার্যক্রমকে সফল করার জন্য এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। এই বিশেষ কার্যক্রম আগামী ২০ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ১০ মেয পর্যন্ত ১১ কার্য দিবসে শেষ হবে। ১১ দিনের মধ্যে আট দিন হবে উপজেলা পর্যায়ে ছয়টিসহ মোট সাতটি স্থায়ী স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং তিনদিন হবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাসস্ট্যান্ডসহ জনবহুল গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে। তিনি জানান, আগামী ২০ এপ্রিল পিরোজপুর পৌরসভার করিমুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয়ে সকাল ৯ টায় এ কার্যক্রম শুরু হবে। সিভিল সার্জন বলেন, এ পর্যন্ত পিরোজপুরে ১১৯ জন শিশুকে সন্দেহজনক আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে যাদের নমুনা ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ১১ জনের রিপোর্ট পজেটিভ পাওয়া গেছে। এই ১১ জনের মধ্যে আবার সকলেই পিরোজপুরের ঠিকানা ব্যবহার করলেও সকলে পিরোজপুরে স্থায়ী বাসিন্দা নয়।

সিভিল সার্জন জানান, পূর্বে নয় মাসে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাসে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হতো কিন্তু বর্তমানে ছয় মাসের বাচ্চাদেরকেই এই ডোজ দেয়া হবে। তিনি জানান, ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী (৬ মাস - ৫৯ মাস) সকল শিশু এই টিকার আওতায় আসবে। পূর্বে টিকা নিয়ে থাকলেও, এই ক্যাম্পেইনের আওতায় শিশুদের ১ ডোজ এমআর (গবধংষবং-জঁনবষষধ) টিকা দেওয়া হবে।

মাদারীপুরে ৬ স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি, কোটি টাকার স্বর্ণালংকার লুট

রাজৈর (মাদারীপুর) সংবাদদাতা : মাদারীপুরে ৬টি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। এই ঘটনায় নগদ টাকাসহ কয়েক কোটি টাকার স্বর্ণালংকার লুট হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন। এই ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শীকে হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে আহত করেছে সংঘবদ্ধ ডাকাত দল। মাদারীপুরে ৬টি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। গত শনিবার ভোর রাতে মাদারীপুর সদর উপজেলার দুধখালী ইউনিয়নের হাউসদী বাজারে এই ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মাদারীপুর পুলিশ ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, শনিবার ভোর রাতে সদর উপজেলার হাউসদী বাজারের স্বর্ণকার পট্টিতে মুখোশধারী একদল ডাকাত নিউ প্রিয়াংকা জুয়েলার্স নামের একটি দোকান তালা কেটে প্রথমে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এসময় বাজারে মিলন মোল্লা নামের এক রাজমিস্ত্রি রাত্রিকালীন (নাইট শিফট) রাজমিস্ত্রির কাজ করছিল। বিষয়টি তিনি দেখতে পেলে ডাকাত দলের সদস্যরা তাঁকে মারধর করে বেঁধে রেখে পাশের আরও একটি মুদি দোকানসহ আরও ৫টি স্বর্ণের দোকানে একই ভাবে দোকানের আলমারি ও ক্যাশ বাক্স ভেঙে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। সকালে খবর পেয়ে মাদারীপুর সদর থানার একদল পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে । ডাকাতিতে ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন- শ্রী শ্রী জগদীশ ঠাকুর জুয়েলার্স, নিউ নারায়ন জুয়েলার্স, ভাগ্যশ্রী জুয়েলার্স, নিউ প্রিয়াংকা জুয়েলার্স, নিউ কণিকা জুয়েলার্স, মা লক্ষ্মী জুয়েলার্স ও মুদি দোকান জিয়া স্টোর। ভাগ্যশ্রী জুয়েলার্সের মালিক সেন্টু মাল বলেন, ‘আমার দোকানে ৩০ ভরি স্বর্ণ, ৫০০ ভরি রূপা ছিল এবং প্রায় এক লাখ টাকা ক্যাশ বাক্সে ছিল। সবই ডাকাতি করে লুট করে নিয়ে গেছে। আমি এখন সর্বস্বান্ত হয়ে গেছি। এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার কোনো শক্তি এখন আর আমার নেই। আমি এখন কী করব, কিছুই বুঝতে পারছি না।’ একই ধরনের কথা বললেন অন্য ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকরাও। এই বিষয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, হাউসদী বাজারের কয়েকটি স্বর্ণের দোকানের ডাকাতির খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। গুরুত্বসহকারে এই ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।