কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ১১ নং চরসাদীপুর ইউনিয়ন গঠনের পর থেকে এর বাসিন্দারা অবহেলা, বঞ্চনা আর দূর্ভোগের শিকার।উপজেলা সদরের সঙ্গে দূরুত্ব, অপ্রতুল যোগাযোগে ব্যবস্থা ও দূর্গম এলাকার ইউনিয়নটির অবস্থানই এই ভোগান্তির কারণ। অথচ ইউনিয়নটির পাশেই পাবনা উপজেলা সদরের অবস্থান। ইউনিয়নটির বাসিন্দারা চায় কুমারখালী নয়, তাদের পাবনা জেলার অন্তর্ভূক্ত করা হোক।
এদিকে পাবনার ভাড়রা ইউনিয়নের চরভবানীপুর গ্রামটি কুমারখালী উপজেলার ৩ নং জগন্নাথপুর ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হলেই সুবিধা বলে গ্রামবাসী মনে করে।
পদ্মা নদী পার হয়ে চরসাদীপুর গিয়ে দেখা যায়, ইউনিয়নটির ভৌগোলিক অবস্থান বিশাল পদ্মা নদীর উত্তর দিকে। ইউনিয়নটি থেকে কুমারখালী উপজেলা সদরের দূরত্ব পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে প্রায় ১৫-১৮ কিলোমিটার। ইউনিয়নটির বাসিন্দাদের দু-তিন ঘন্টা সময় লেগে যায় উপজেলা সদওে পৌছাতে।
এ অবস্থায় এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা, জমাজমির খাজনা-খারিজ করা, এলাকার উন্নয়ন, মামলা-মোকদ্দমা ও বিচারিক কার্যক্রমসহ চিঠিপত্র আদান-প্রদান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, পরিবার-পরিকল্পনা, সরকারী ত্রানসামগ্রী, যথাসময়ে পৌছানো ইত্যাদি কাজই অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল ব্যাপার। কৃষি ও পশু পালন এখানকার প্রধান পেশা। মহিষ, গরু, ভেড়া, ছাগলের খামার রয়েছে অনেকগুলো।
এদিকে ইউনিয়নটির মাত্র এক কিলোমিটার পূর্বে পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়ন, পশ্চিমে হেমায়েতপুর ইউনিয়ন ও উত্তরে পাবনা পৌরসভা। চরসাদীপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গিও আলম বয়েন জানান, ১৯৯৭ সালে ৯/১০ টি মৌজা নিয়ে চরসাদীপুর ইউনিয়ন গঠিত হয়। সে সময়ের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে ইউনিয়নবাসীর দূর্ভোগ কমছেই না। অথচ পুরো এলাকাই পাবনা সদর উপজেলার সঙ্গে গায়ে গায়ে লাগানো এবং পাবনা পৌরসভা থেকে মাত্র তিন-চার কিলোমিটারের মধ্যে।
১৯৬২ সালের এস এ সেটেলমেন্টের সময় নদীর অবস্থান অনুযায়ী এলাকা চিহ্নিত না করায় ইউনিয়নটি কুমারখালী উপজেলার সঙ্গে একীভূত হয়। শুরু হয় জনদূর্ভোগ। সাবেক এই চেয়ারম্যান আরও জানান, ইউনিয়নে মাত্র সাত কিমি রাস্তা পাকা, বাঁকী ২০ কিলোমিটার রাস্তাই কাঁচা। এখানে আছে সরকারী-বেসরকারী মিলিয়ে আটটি বিদ্যালয়, দুটি মাদরাসা ও তিনটি এতিমখানা।
এছাড়া রয়েছে ৩০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও তিনটি কমিউনিটি হাসপাতাল। কিন্তু অপ্রতুল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এসব প্রতিষ্ঠান তদারকি করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। অবহেলা, বঞ্ছনা ও দূর্ভোগের মধ্যে বসবাস করছে এলাকার ২০-২৫ হাজার মানুষ এখন নিজেদের একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ভাবছে। এলাকার বাসিন্দারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে দাবী জানিয়ে আসছি ইউনিয়নটি কুমারখালী নয়, পাবনার সদর উপজেলা সঙ্গে যুক্ত করা হোক। জনদাবী অনুযায়ী ইউনিয়নটি স্থানান্তরের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায়মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে অনেক আগেই, কিন্ত কোন সাড়া নেই সেখানে।
এদিকে পাবনার ভাঁড়রা ইউনিয়নের পদ্মাপাড়ের চরভবানীপুর গ্রাম কুমারখালী উপজেলার জগন্নাথ ইউনিয়নের সাথে, যা সদও থেকে মাত্র ৪/৫ কিরেলামিটার দূরে।
সরেজমিনে জানা যায়, সাড়ে পাঁচ হাজার লোকের বাস এ গ্রামে। এখানে আছে দুটি মাদরাসা, একটি মাধমিক বিদ্যালয় ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এখানকার খাজনা-খারিজ, অফিস-আদালত করতে পদ্মা পাড়ি দিয়ে পাবনা সদরে যেতে হয়। গ্রামের এক ব্যবসায়ী বলেন, বাজার-সদাই, সবই আমরা কুমারখালীতে করি। মাঝে মধ্যে জমির কামে পাবনায় যাতি হয়। কী যে কষ্ট হয়! আমাদের এই জায়গাটা যদি কুমারখালী নিয়ে নিতো তালি খুব ভালো হতো। স্থানীয় ইউপি সদস্য জানান, এই ওয়ার্ডটি কুমারখালী সদরের কাছাকাছি হওয়ায় ওই উপজেলার অন্তর্ভূক্তর করার চেষ্টা করছি। এ ওয়ার্ডটি একেবারে পাশ ঘেঁষে কুমারখালী ৩ নং জগন্নাথপুর ইউনিয়ন। আমাদের ওই ইউনিয়নের অন্তুর্ভক্ত করে নিলে ভালো হয়। কুমারখালীর এই চরসাদীপুর ও পাবনার চরভবানীপুর যেন বিচ্ছিন্ন দ্বীপ, সীমানা ঠিক করে নতুন ভাবে প্রশাসনিক এলাকার করার দীর্ঘদিনের দাবী দ্রুত বাস্তবায়ন হোক, এমনটাই প্রত্যাশা এলাকার সর্বস্তরের জনতার।