চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন রৌফাবাদ এলাকায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর রাজু হত্যা ও শিশু গুলীবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড তাজা গুলী এবং আসামীদের বহনকারী একটি সিএনজি অটোরিকশাসহ মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ৭ মে রাত আনুমানিক ৯টা ৪০ মিনিটে বায়েজিদ বোস্তামী থানার রৌফাবাদ শহীদ মিনারের পাশে বাঁশবাড়িয়া গলিতে আব্দুল হাইয়ের বাড়ির দেলোয়ারের ভাড়াঘরের সামনে কতিপয় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হামলা চালায়। এ সময় তারা গুলী করে রাউজান উপজেলার কদলপুর এলাকার বাসিন্দা মো. হাসান ওরফে রাজু (২৪)-কে হত্যা করে। তিনি মৃত আবুল কালামের ছেলে।

একই ঘটনায় পথচারী শিশু রেশমি আক্তার (১২) গুলীবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। সে বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। রেশমি রৌফাবাদ শহীদ মিনার কলোনির বাসিন্দা রিয়াজ আহমেদের মেয়ে।

ঘটনার পর নিহত রাজুর মা সকিনা বেগম বাদী হয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ৯ মে ৩২৬/৩০৭/৩০২/৩৪ ধারায় মামলা রুজু করা হয়।

ঘটনার পরপরই বায়েজিদ বোস্তামী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল করিমের নেতৃত্বে একাধিক টিম গঠন করে অভিযানে নামে পুলিশ। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে একে একে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করা হয়।

১১ মে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজার সদর থানার সুগন্ধা সি-বিচ এলাকা থেকে হত্যাকা-ে সরাসরি জড়িত সৈয়দুল করিম (২৭) নামে এক আসামীকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি মহেশখালী উপজেলার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে বায়েজিদের রৌফাবাদ এলাকায় বসবাস করতেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সৈয়দুল করিম স্বীকার করেন, তিনিই ভিকটিম হাসান ওরফে রাজুর বুকে গুলী করেন। পরে তার দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে তার বাসা থেকে হত্যাকা-ের সময় পরিহিত টি-শার্ট, ট্রাউজার এবং হত্যায় ব্যবহৃত একটি বিদেশী পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড তাজা গুলী উদ্ধার করা হয়।

একই সঙ্গে হত্যাকা-ে ব্যবহৃত সন্ত্রাসীদের বহনকারী সিএনজি অটোরিকশা (রেজি নং-চট্ট মেট্রো-থ-১৩-১২৫৭) উদ্ধার করে পুলিশ।

পরে ডবলমুরিং থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিএনজি চালক মো. আব্দুল মান্নান (৩৭)-কে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বায়েজিদের রৌফাবাদ ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনায় সহায়তাকারী মো. ইউনুচ মিয়া (২৪) ও মো. আয়াতুল্লাহ আলী আদনান (২১)-কে গ্রেফতার করা হয়।

পরবর্তীতে সিএনজি চালক আব্দুল মান্নানের তথ্যের ভিত্তিতে চান্দগাঁও থানার কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মো. আবু বক্কর ছিদ্দিক ওরফে খোকন (৪৮) এবং আজগর আলী (৩৯)-কে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামী সৈয়দুল করিমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ডাকাতির দুটি মামলা রয়েছে। আবু বক্কর ছিদ্দিক ওরফে খোকনের বিরুদ্ধে চুরি, হত্যাচেষ্টা ও মারামারিসহ মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। এছাড়া আজগর আলীর বিরুদ্ধে একটি চুরির মামলা রয়েছে।