বাগেরহাটের মোংলায় সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধ বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বড় মেয়ে ও জামাইয়ের বিরুদ্ধে। আদালতে মামলায় জয় পাওয়ার পর নিজ ভিটায় ফিরতে গিয়ে আবারও হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী আলী হায়দার।
জানা গেছে, নব্বইয়ের দশকে শরণখোলা থেকে মোংলার চাঁদপাই ইউনিয়নের উত্তর মালগাজী গ্রামে বসতি গড়েন আলী হায়দার। ১৯৯৬ সালে তিনি ২০ দশমিক ৭৫ শতক জমি কিনে সেখানে বাড়ি নির্মাণ করেন। স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে সেখানে বসবাস করতেন তিনি।
পরবর্তীতে স্ত্রী মারা গেলে বড় মেয়ে নূর জাহান বেগমের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে নিজের ৮ কাঠা জমির মধ্যে ৪ কাঠা তার নামে লিখে দেন। স্থানীয়দের দাবি, মেয়েকে নিরাপদে রাখতেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
তবে ২০১৬ সালের পর থেকে পুরো জমির দখল নেয়ার চেষ্টা শুরু হয় বলে অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে আলী হায়দার, তার ছেলে ও অপর মেয়েকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়। এরপর দীর্ঘদিন ধরে তারা অন্যত্র বসবাস করছেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিচার চাইলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরে ২০২৩ সালে নূর জাহান বেগম তার বাবার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে চলতি বছরের ৩০ মার্চ আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন।
আদালতের রায় পাওয়ার পর আলী হায়দার ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে ফেরার চেষ্টা করলে আবারও হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় নূর জাহান বেগম ও তার সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে তাদের বের করে দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অভিযুক্ত নূর জাহান বেগম দাবি করেন, জমি কেনার পেছনে তিনি ও তার স্বামীর আর্থিক অবদান ছিল। তাই পুরো জমির ওপর তার অধিকার রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে আলী হায়দার বলেন, মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই জমি লিখে দিয়েছিলেন। এখন আদালতের রায় পাওয়ার পরও নিজ বাড়িতে ফিরতে পারছেন না। তিনি সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
মোংলা থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আদালতের রায় অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।