ইরানের দাবি মানা ছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে আর কোনও উপায় নেই বলে জানিয়েছে তেহরান। ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালেই-নিক এই মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ‘অধিকার’ স্বীকার না করে, তাহলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আরও বড় ‘পরাজয়ের’ মুখে পড়তে হবে। ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য ‘তৃতীয় আরোপিত যুদ্ধ’ থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র পথ হলো ইরানি জনগণের দাবি পূরণ করা। আল-জাজিরা, এপি, টাইমস অব ইসরাইল, অ্যাক্সিওস, তাসনিম নিউজ।

তিনি বলেন, “মার্কিনি ও ইহুদি শত্রুর জন্য যুদ্ধক্ষেত্র ও কূটনীতি-উভয় ক্ষেত্রেই এই তৃতীয় যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার একমাত্র উপায় হলো ইরানি জনগণের দাবি পূরণ করা।” রেজা তালেই-নিক আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ইরানের প্রস্তাব গ্রহণ করা এবং যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে মার্কিন জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য অতিরিক্ত ক্ষতি ও ব্যয় এড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া।

তার ভাষায়, “ইরানের প্রস্তাব গ্রহণ করার পাশাপাশি ট্রাম্পকে অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে, যাতে যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে মার্কিন জনগণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য আরও ক্ষতি ও ব্যয় বৃদ্ধি না পায়।”

কূটনৈতিক উত্তেজনার নতুন ইঙ্গিত ইরানি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই মন্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্র- ইরান চলমান উত্তেজনার নতুন রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য সাধারণত কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যেখানে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান কঠোরভাবে তুলে ধরে। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানি মুখপাত্রের এই মন্তব্যের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

ইরান আলোচনা থেকে ইসরাইলকে প্রায় পুরোপুরি বাদ দিলো যুক্তরাষ্ট্র : ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা থেকে ইসরাইলকে প্রায় পুরোপুরি বাদ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলের দুজন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির আগের আলোচনাগুলোতে ইসরায়েল মোটেও জড়িত ছিল না। যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের মধ্যকার এই আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে ইসরায়েল কোনও আনুষ্ঠানিক সূত্র থেকে জানতে পারেনি; বরং তারা আঞ্চলিক কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং নিজস্ব নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে এই অগ্রগতির বিষয়ে জানতে পেরেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের শুরুর দিকে ইরানি সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় রাখছিলেন এবং ওয়াশিংটনের সিচুয়েশন রুমে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। সেখান থেকে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করে সংবাদপত্রটি মন্তব্য করেছে, আলোচনা ককপিট থেকে এক ধাক্কায় ইকোনমি ক্লাসে নামিয়ে দেওয়ার এই ঘটনাটি ইসরাইলের জন্য গুরুতর পরিণতি বয়ে আনতে পারে।