কবির আহমদ, সিলেট ব্যুরো: আমের নগরী রাজশাহীর বাজারে পাকা লিচু ও আম পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া না গেলেও সিলেটের বাজারে অপরিপক্ব লিচু ও আমে সয়লাব হয়ে গিয়েছে। অনেকে ধারণা করছেন মেডিসিন মিশ্রিত পাকা লিচু ও আম খেলে মানুষের শারিরীক ক্ষতি হতে পারে। জেনেশুনেও চড়া দামে মৌসুমী এ ফলগুলো কিনছেন নগরবাসী। আজ বুধবার থেকে জৈষ্ঠ্য মাস শুরু হলেও এর আগ থেকেই সিলেটের বাজার দখল করে নিয়েছে অপরিপক্ব ফলমূল।
বিভাগীয় নগরী ও সিলেটের বিভিন্ন উপজেলা শহরের বাজারে ফজলি, ল্যাংড়া, খিরসাপাতসহ এবং চাপাইনবাবগঞ্জের বিখ্যাত লিচু সিলেটের বাজারে না আসলেও গোপালভোগ, হিমসাগর, ও গোবিন্দভোগ আম পাওয়া যাচ্ছে সিলেটের বাজারে। পাশাপাশি উচ্চদামে বিক্রি হচ্ছে থাইল্যান্ডের জাম্বু আম ও কয়েক প্রজাতির লিচুও। তবে কয়েকদিন যাবৎ সিলেটে ঝড়বৃষ্টি থাকায় স্থানীয় আমও বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিকেজি স্থানীয় প্রজাতির আম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৮০ এবং রাজশাহী এলাকার আম ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা। লিচু পাওয়া যাচ্ছে প্রতি আটি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা।
অপরদিকে গণকাল মঙ্গলবার সিলেটের বাজার ঘুরে দেখা যায় প্রতি একশ পিস লিচু বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়। তবে বাজারে এমন চড়া দামে ফল কিনতে একদিকে যেমন ক্রেতারা হিমশিম খাচ্ছেন তেমনি নির্ধারিত সময়ের আগেই এসব ফল বাজারে আসায় স্বাদ নিয়েও রয়েছে অভিযোগ।
ক্রেতারা বলছেন, দাম কমলে মানুষ বেশি করে ফল কিনতে পারবে। সবার খাওয়ার চাহিদাও বাড়বে। অন্যসব বছরের তুলনায় লিচুর দাম অনেক বেশি। আমের দামও অনেক বেশি। বিক্রেতারা বলছেন- প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফলন কমেছে রসালো ফল আম ও লিচুর। ফলে সঙ্গত কারণে একদিকে যেমন বাজারে আম এবং লিচুর সংকট তৈরি হবে তেমনি বিক্রিও হবে চড়া দামে। তবে মৌসুম পুরোপুরি শুরু হওয়ার পর দাম অপেক্ষাকৃত কমবে বলেও দাবি বিক্রেতাদের।
বাজার ঘুরে আরও দেখা গেছে মৌসুমের শুরুতেই ৬ থেকে ৭ প্রজাতির আম পাওয়া যাচ্ছে। এসব আমের মধ্যে হিমসাগর প্রতিকেজি ২৫০ টাকা, গোপালভোগ প্রতিকেজি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
১০ বছর ধরে সিলেটের কদমতলীতে ফলের ব্যবসা করছেন মো. কামাল উদ্দিন। তিনি জানান, এবছর ফলের দাম ভীষণ চড়া। যেসব ফল ১০০ টাকা কেজিতে গণবছর বিক্রি হয়েছে সে ফল পেতেই এ বছর গুণতে হবে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। প্রাকৃতিক দুর্যোগে এ বছর ফলের ফলন কম বলেও দাবি করেন এ ব্যবসায়ী। তবে ভরপুর মৌসুমে ফলের দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালেই থাকবেই বলে মনে করেন এ ফল ব্যবসায়ী।
ফয়ছল আলম নামের নগরীর বন্দরবাজারের লিচু ব্যবসায়ী বলেন, এবছর লিচুর দাম বেশি। পাইকারি বাজারে অতিরিক্ত দামে লিচু কিনতে হচ্ছে বলেই বেশি দামে বিক্রি করা লাগছে। নগরীর মদিনা মার্কেটে ফল কিনতে আসা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফারহানা আক্তার জানান, মৌসুমের শুরুতে আম, লিচুতে সিলেটের বাজার সয়লাব হয়ে গিয়েছে তবে ফলগুলো দেখে মনে হচ্ছে খুবই অপরিপক্ব। তিনি ২৫০ টাকা দিয়ে একটি কাঁঠাল কিনেছেন হোস্টেলে গিয়ে এই বৃষ্টির দিনে সহপাঠীদের নিয়ে খাবেন। তবে ঐ মেধাবী শিক্ষার্থী পরিপক্ব ফল চিিহ্নত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এবং বাজার মনিটরিং জোরদার করার দাবি জানান।