সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরে বেড়াচ্ছে একজন শিক্ষক। তিনি হলেন সীতাকুণ্ড যুবাইদিয়া মহিলা ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নুরুল কবির। সীতাকুণ্ডে শিক্ষক সমাজে যিনি এক নামেই পরিচিত। তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক। একজন কর্মঠ শিক্ষকও বটে। সীতাকুণ্ডে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যারা বিচরণ রয়েছে। কিন্তু তিনি আজ মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। মরণ ব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত। সারা জীবনের সঞ্চয় আজ একটু বাঁচার জন্য বিলীন করে দিতে হচ্ছে। অধ্যক্ষ নুরুল কবির ১৯৯০ সাল থেকে সীতাকুণ্ড পৌরসদরের যুবাইদিয়া মহিলা মাদরাসার দায়িুত্ব নেন। তিনি জীবনের সব সময় টুকু মাদরাসা প্রতিষ্ঠার কাজেই লাগিয়েছে। যার কারনে একটি ফোরকানিয়া মাদরাসা থেকে আজ ফাজিল মাদরাসায় রুপান্তরিত হয়েছে । তাও মহিলা মাদরাসা হিসেবে। তিনি মাদরাসাকে ভালবেসে দিন রাত পরিশ্রম করতে অব্যস্ত। তাকে রাতেও অফিস করতে দেখা যায়। সব মিলিয়ে মাদরাসাকেই তিনি নিজের একমাত্র কর্মস্থল মনে করত। মাদরাসার বেতনই ছিল তার একমাত্র আয়ের পথ। মাওলানা নুরুল কবির জানান অসুস্থতার মধ্যেও আমি মাদরাসায় চলে আসি। মাদরাসায় না উনার বাসায় বসে থাকতে ভাল লাগেনা। মাদরাসায় তার জীবন মাদরাসায় তার যেন মরণ হয়। মৃত্যুর আগে তিনি প্রতিষ্ঠাতাদের কাছে আকুতি মৃত্যুর পর যেন তার কবর মাদরাসা প্রাঙ্গনেই হয়।

মাওলানা নুরুল কবির এর বড় ছেলে শাকিব বিন কবির জানিয়েছে তার বাবাকে আওয়ামী সরকারের একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে কয়েক দফায়। জেল খানায় তিনি অসুস্থ হয়ে পরেন কয়েকবার। জেল থেকে আসার পর দীর্ঘদিন ধরে নন-হজকিন লিম্ফোমা (রক্তের ক্যান্সার) রোগে আক্রান্ত এবং বর্তমানে ৪র্থ বারের মতো রিল্যাপ্স করেছেন। বর্তমানে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে ডাক্তার আবু জাফর মোঃ সালেহ সাহেবের তত্ত্বাবধানে আছেন । তিনিই বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করাবেন। ১লা এপ্রিল থেকে ঢাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালে পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট শুরু হয়েছে। দুই সাইকেল কেমো শেষে উনার ইড়হব গধৎৎড়ি ঞৎধহংঢ়ষধহঃ (ইগঞ) প্রয়োজন, যার জন্য আনুমানিক ৩০ লক্ষ টাকা ইস্টিমেট দেওয়া হয়েছে । চিকিৎসা চলছে ঊাবৎপধৎব ঐড়ংঢ়রঃধষ, ঈযধঃঃড়মৎধস-এ। ভেবেছিলাম কেমোথেরাপির মাধ্যমে সেরে যাবেন, কিন্তু কেমো অফ হলেই তিনি নতুন ভাবে আরো আগ্রেসিভ ভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন তাই ডাক্তাররা বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট ছাড়া অন্য অপশন পাচ্ছেন না।দেশের বাইরেও (থাইল্যান্ড, চায়না, ইন্ডিয়া) চিকিৎসার অপশন দেখা হয়েছে, কিন্তু খরচ কোটির বেশী হওয়ায় দেশে চিকিৎসা চালাতে হচ্ছে আমাদেরকে। সীতাকুণ্ডের এই অধ্যক্ষ মহোদয়কে বাঁচাতে সকলের প্রতি আবেদন জানিয়েছে তার পরেবার। মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বিএসসি জানান ত্রিশ বছর শিক্ষকতা জীবনে মাদরাসার অধ্যক্ষ নুরুল কবির সাহেবকে মাদরাসার খেদমতে দিন রাত পরিশ্রম করতে দেখেছি। অধ্যক্ষের চিকিৎসা সহযোগিতায় হাত বাড়াতে সমাজের বৃত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান। ব্যাংক একাউন্ট - দিলোয়ারা বেগম (স্ত্রী), একাউন্ট নং- ২০৫০৭৭৭০২০৪১৩৯৯৮,ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি,এজেন্ট শাখা। বিকাশ ০১৭৪৬৫০০৯৬৬ (অধ্যক্ষের ছেলে-সাকিব), নগদ- ০১৮৩৩৮৯৭৪৫৭ (অধ্যক্ষের ছেলে-সাকিব)। যোগাযোগ -অধ্যক্ষ নুরুল কবির - ০১৮২৫-০৩৪১৪২।