স্পেনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত গাজীপুরের কালীগঞ্জের ইউসুফ হাসান আলিফের (২৭) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর কালীগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরগাঁও গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ সময় স্বজন, প্রতিবেশীসহ কয়েকশ’ মানুষ জানাজা ও দাফনে অংশ নেন।
শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে আলিফের লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাবা আ. মোতালেব ও পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ছেলেকে স্পেনে পাঠাতে বাবা আ. মোতালেব স্থানীয় এনজিওসহ বিভিন্ন উৎস থেকে প্রায় ২৯ লাখ টাকা ঋণ করেন। প্রতি মাসে তাকে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা কিস্তি পরিশোধ করতে হচ্ছে। পরিবারের স্বপ্ন ছিল ছেলে বিদেশে গিয়ে কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হবে, ঋণের বোঝা কমবে এবং একদিন ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরে আপনজনদের সঙ্গে সময় কাটাবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।
জানা গেছে, আলিফ প্রথমদিকে স্পেনে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই অবস্থান করছিলেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর গত ২৭ আগস্ট তিনি বৈধতা পান এবং কাজ শুরু করেন। এর কয়েকদিনের মধ্যেই অগ্নিকাণ্ডে তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৩০ আগস্ট রাত ১১টার দিকে আলিফ সর্বশেষ পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। ওই সময় তিনি ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার আশার কথা জানিয়েছিলেন। পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি জানান, তার আরও প্রায় ৩০ মিনিট দায়িত্ব পালন করতে হবে। এরপর রাত ১২টার দিকে আবার ফোন করবেন বলেও জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ফোন আর আসেনি। পরদিন ৩১ আগস্ট পরিবার তার মৃত্যুর খবর জানতে পারে।
আলিফের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের পাশাপাশি প্রতিবেশীরাও তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। মাত্র কয়েকদিনের বৈধ কর্মজীবন শুরু করেই তার অকাল মৃত্যু পরিবারকে যেমন শোকের সাগরে ভাসিয়েছে, তেমনি বিদেশে পাঠাতে নেওয়া বিপুল ঋণের বোঝাও পরিবারের সামনে নতুন সংকট তৈরি করেছে।
কালীগঞ্জের ইউএনও এটিএম কামরুল ইসলাম শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি পরিবারের পাশে থাকার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইনানুগ প্রশাসনিক সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।