মাত্র কিছুদিন আগে পতিত ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার দাবিতে জেলা প্রশাসকের দপ্তর অবধি চলে গিয়েছিলেন স্মারকলিপি নিয়ে। তবে বিষয়বস্তু জানার পর তাদেরকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আর গত সোমবার জাতীয় আইন সহায়তা দিবসের কর্মসূচির উদ্বোধনী পর্বের র‌্যালির প্রথম কাতারে ছিল তাদের অবস্থান। জাতীয় লিগ্যাল এইড কমিটির অর্থায়নে ক্রয়কৃত হলুদ শাড়ি তাদের পরনে, হাতে বর্ণিল কুলায় নানা শ্লোগান।

তবে হঠাৎই পরিস্থিতি পাল্টে যায়, যখন খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ আইনজীবীরা কর্মসূচিতে আসেন। আদালত অঙ্গনে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে চিহ্নিত, বিগত দিনে পিপি, এপিপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী এসব নারী আইনজীবীকে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির প্রথম কাতারে দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন অনেকেই। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দ্রুত তাদেরকে সরিয়ে দিয়ে অন্যদেরকে সামনে এনে র‌্যালি শুরু করা হয়। তবে এ নিয়ে চলতে থাকে নানা সমালোচনা।

খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির এডহক কমিটির সদস্য সচিব এডভোকেট নুরুল হাসান রুবা বলেন, কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে দেখি আওয়ামীপন্থী নারী আইনজীবীরা সেজেগুজে প্রথম কাতারে দাঁড়িয়ে আছে। বিগত দিনে এরা পালিয়ে যাওয়া আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট সাইফুল ইসলামের সহযোগী ছিল। গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিল। আদালত প্রাঙ্গণে আওয়ামী লীগের হয়ে নানা অনিয়ম করেছে। স্বাভাবিকভাবেই এতে সাধারণ আইনজীবীরা মারাত্মক ক্ষুব্ধ হন। অবশ্য পরে তাদেরকে সরিয়ে অন্যদের দিয়ে র‌্যালি করা হয়।

জানা গেছে, আওয়ামী আইনজীবীদের মধ্যে রুমানা তালহা, শাম্মী আক্তার, আক্তারুন্নেসা তিতাস, লিপি চৌধুরী, রিক্তা লতা, পালিত, শিপ্রা বিশ^াস, শিরিন লিপি, সাবেরা সুলতানা, খাদিজা ভুলু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। তাদের পরিহিত শাড়ি ও সাজানো কুলা কর্মসূচির ফান্ডে কেনা হয়েছে। কর্মসূচি সাজানোর ক্ষেত্রে আইনজীবী সমিতির মতামত নেয়া হয়নি।

খুলনা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সহকারী জজ ফারাহ দিবা ছন্দা জানান, ঘটনাটি সিরিয়াস কিছু নয়। র‌্যালির শুরুতে কয়েকজনকে নিয়ে আইনজীবীরা আপত্তি তুললে আমরা তাদেরকে বাদ দিয়ে কর্মসূচি করেছি। পরে সবকিছু স্বাভাবিক ছিল।