আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গাজীপুরে জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর হাট। জেলার বিভিন্ন খামার ও গৃহস্থ বাড়িতে লালন-পালন করা দেশীয় গরু, ছাগল ও মহিষ প্রস্তুত থাকলেও চলতি বছর চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩০ হাজার কোরবানির পশুর ঘাটতি রয়েছে। তবে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পশু আসার মাধ্যমে এই ঘাটতি পূরণ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবার গাজীপুর জেলা ও সিটি কর্পোরেশন এলাকায় খামারি ও গৃহস্থরা মোট ১ লাখ ২ হাজার ২৬৩টি কোরবানির পশু প্রস্তুত করেছেন। অন্যদিকে জেলায় কোরবানির সম্ভাব্য চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ৫৩৬টি পশুর। সে হিসেবে প্রায় ২৯ হাজার ২৭৩টি পশুর ঘাটতি রয়েছে।
গাজীপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ নার্গিস খানম ও গাজীপুর সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ শাহিন মিয়া বলেন, 'জেলার খামারি ও গৃহস্থরা সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে গবাদিপশু লালন-পালন করেছেন। স্থানীয় উৎপাদনের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পশু আসবে। ফলে কোরবানির বাজারে কোনো সংকট হবে না বলে আমরা আশাবাদী।'
খামারিরা জানান, গবাদিপশু মোটাতাজাকরণে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও দেশীয় খাদ্য ব্যবহার করা হচ্ছে। পশুকে খাওয়ানো হচ্ছে খড়, খৈল, ভূষি, গুড়ের চিটা, লবণ, চাল-ডালের গুঁড়া, ছোলার গুঁড়া এবং চাষ করা নেপিয়ার ঘাস। তারা জানান, ক্ষতিকর কোনো রাসায়নিক বা স্টেরয়েড ব্যবহার ছাড়াই স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। বর্তমানে বাজারদরও স্বাভাবিক রয়েছে। ভারতীয় গরুর অবৈধ প্রবেশ বন্ধ থাকলে দেশীয় খামারিরা ন্যায্যমূল্য পাবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তারা।
সিটি কর্পোরেশন সহকারী সম্পত্তি কর্মকর্তা মোঃ আবুল খায়ের ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এবারের ঈদে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ১৬টি পশুর হাট বসছে। ইতোমধ্যে এসব হাটের ইজারা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া জেলার চারটি উপজেলায় আরও ৯৩টি পশুর হাট বসবে। সব মিলিয়ে জেলায় মোট ১০৯টি পশুর হাট প্রস্তুত করা হয়েছে।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ শওকত হোসেন সরকার বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় গাজীপুর সিটিকে একটি ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশুর হাট ব্যবস্থাপনা, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, জীবাণুনাশক কার্যক্রম এবং কোরবানি পরবর্তী বর্জ্য অপসারণে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির সকল বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নগরবাসী যেন কোনো ভোগান্তি ছাড়াই পরিচ্ছন্ন পরিবেশে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, সেজন্য সিটি কর্পোরেশনের সকল বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করবে।'
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, মোঃ সোহেল হাসান বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত সকল কার্যক্রম বাস্তবায়নে আমরা পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। কোরবানির পশু জবাই ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নগরজুড়ে ব্লিচিং পাউডার, জীবাণুনাশক ও পরিবেশবান্ধব পলিথিন বিতরণ করা হবে। দ্রুত বর্জ্য অপসারণের জন্য অতিরিক্ত শ্রমিক ও যানবাহন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের উৎসাহ দিতে প্রত্যেক শ্রমিককে তিন কেজি করে কোরবানির মাংস বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে বিশেষ মনিটরিং টিম কাজ করবে, যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে পশুর বর্জ্য অপসারণ, দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সুদীপ বসাক বলেন, 'ঈদ উপলক্ষে নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখা, হাট এলাকায় পানি নিষ্কাশন, রাস্তা সংস্কার এবং বর্জ্য পরিবহনের জন্য বিশেষ প্রকৌশল সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে। নগরবাসীর স্বস্তি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে প্রকৌশল বিভাগ সার্বক্ষণিক কাজ করবে।'
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসন, প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও সিটি কর্পোরেশনের সমন্বিত প্রস্তুতির ফলে এবারের ঈদুল আজহায় গাজীপুরে কোরবানির পশুর বাজার যেমন প্রাণবন্ত হবে, তেমনি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।