স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুরঃ একজন বাবা যিনি সন্তানের মুখে হাসি ফুটাতে সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন, সেই তিনিই এক রাতের বিভীষিকায় নিজের হাতে শেষ করে দিলেন সেই ছেলেকে। মাদকাসক্ত ছেলের নৃশংসতা, অপমান ও অব্যাহত নির্যাতনে ক্লান্ত পিতা শেষ পর্যন্ত রক্তাক্ত হাতে থানায় গিয়ে বললেন,”আর সহ্য হচ্ছিলনা আমি আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছি।”

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার প্রহলাদপুর ইউনিয়নের নানাইয়া আটিপাড়া গ্রামে মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) দিবাগত রাত তিনটার দিকে ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা। নিহত আনোয়ার হোসেন (২৫) ছিলেন মোহাম্মদ আলীর একমাত্র ছেলে।

থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনোয়ারকে একসময় মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়েছিল জীবিকা গড়ার জন্য। ফিরে এসে সে জড়িয়ে পড়ে মাদকে। নেশা থেকে ফিরে ফের পুনরায় বিদেশ যাত্রা, কিন্তু তাতেও কোনো লাভ হয়নি। দেশে ফিরে কেবলই বেকারত্ব, অলসতা আর মাদকাসক্তিতে দিন পার করছিল সে।

পরিবারের জমানো ৮ লাখ টাকা উড়িয়ে দিয়ে ফের টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে নিয়মিত বিরোধ শুরু হয়। পুকুরের মাছ বাবার অজান্তে বিক্রি করে দেয়, মঙ্গলবার বিকেলে গোয়ালঘরের ১১টি গরুকে লাঠিপেটা করে এবং বাবাকে বাধা দিতে গেলে তাকেও আঘাত করে।

রাতে সেই ছেলে যখন ঘুমিয়ে, তখন ক্ষোভে-হতাশায় পুড়ে যাওয়া বাবা মোহাম্মদ আলী ধারালো অস্ত্র হাতে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেন। পরে নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন মন্ডল জানান, “ঘটনার পরপরই আমরা অভিযুক্ত বাবাকে হেফাজতে নিয়েছি। ছেলের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর হয়েছে।”

ওই ঘটনায় গ্রামে নেমে এসেছে শোক আর স্তব্ধতা। সবাই বলছে একজন বাবা নিজের হাতে সন্তানকে শেষ করে দিয়েছেন, এমন দৃশ্য কেউ ভাবতেও পারেনি। কিন্তু প্রশ্নও উঠেছে নেশাগ্রস্ত এক সন্তানের লাগামহীনতার কাছে কতদিন মাথা নত করে বেঁচে থাকতে পারেন একজন অসহায় বাবা?