নানাকে কুপিয়ে হত্যা

শিবালয় (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা : মানিকগঞ্জে নাতনিকে ইভটিজিং করার প্রতিবাদ করায় নানা আজগরকে (৫০) কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। গত ৩০ এপ্রিল সকালে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানার ওসি (তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার। এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে সেখানকার কর্তব্যরত ডাক্তার আজগরকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আজগর সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামের বাসিন্দা। সে পেশায় একজন মুদি দোকানদার।

স্থানীয়রা জানান, আজগরের নাতনিকে আলামিন নামের এক ছেলে রাস্তায় ইভটিজিং করতেন। সে কারণে আজগর সিংগাইর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পরে পুলিশ এ ব্যাপারে তদন্ত করতে যান। পুলিশ যাওয়ার পরে সন্ধ্যার দিকে আলামিন কয়েকজন সন্ত্রাসীকে নিয়ে আজগরকে দোকান থেকে বের করে কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তখন সেখানকার ডাক্তার তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জে ও এম তৌফিক আজম বলেন, এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির স্বজনদের পক্ষ থেকে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। আমরা আসামীদের ধরার চেষ্টা করছি।

মানিকগঞ্জে হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড : মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে দর্জি হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড ও আরেকজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

গত বুধবার দুপুর ১২টার দিকে আসামীদের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক সাবিনা ইয়াসমিন। আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর বুলবুল আহমেদ গোলাপ জানান, ২০১৬ সালের করা মামলায় প্রায় ৯ বছর পর এ রায়ে ন্যায়বিচার হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মো. পারভেজ হোসেন ওরফে সুমন শেখ ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত আলিম শিবালয় উপজেলার দক্ষিণখানপুর গ্রামের বাসিন্দা।

মানিকগঞ্জে সাটুরিয়া হেলে পড়া সেতুতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল : মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় গাজীখালী নদীর ওপর বিকল্প সেতুর একাংশ হেলে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এ সেতু দিয়ে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সাইনবোর্ড দেওয়া হলেও মানছে না কেউ।

জানা গেছে, গাজীখালী নদীর ওপর ২০১৩ সালে একটি সেতুর নির্মাণকাজ শুরুর তিন মাস আগে বিকল্প বেইলি সেতু নির্মাণ করা হয়। ২০১৫ সালের ১৫ অক্টোবর জনসাধারণের জন্য নতুন সেতু খুলে দেওয়া হয়। এ সময় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ বেইলি সেতুটি অপসারণ করেনি। ১২ বছরে সংস্কার না করায় সেতুটির এখন ভগ্নদশা। গত সপ্তাহে কয়েক দিনের বৃষ্টির পর সেতুটি হেলে পড়ে। এর পর মানিকগঞ্জ সওজ কর্তৃপক্ষ একটি সাইনবোর্ড দিয়ে দায় সারে। সাইনবোর্ডে লেখা ‘সাবধান, ক্ষতিগ্রস্ত বেইলি সেতু, সর্বসাধারণের চলাচল নিষেধ।’ তবু ঝুঁকি নিয়ে এ সেতু দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলাচল করছে।

সাটুরিয়া, ধামরাই ও নাগরপুরের মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন সাটুরিয়া ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমল্পেক্সে। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার হাটের দিন কয়েক হাজার মানুষ এ সেতু দিয়ে চলাচল করেন। গত কয়েক দিনে অনেক শিশু শিক্ষার্থী এ সেতু পারাপারের সময় গর্তে পড়ে আহত হয়েছে।

পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি কালের সাক্ষী : কারুকার্যখচিত বিশাল ভবন। দেয়ালের পরতে পরতে মনোহর সৌন্দর্য। মনোরম পরিবেশে ভবনের চারপাশে দাঁড়িয়ে সুন্দরী পরীর আবক্ষ মূর্তি। ছবির মতো সাজানো ‘পাকুটিয়া জমিদারবাড়ি’ এখন কালের সাক্ষী।

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া থেকে ১২ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে টাঙ্গাইলের নাগরপুরের কলমাই নদীতীরে ১৫ একর জমিতে জমিদারবাড়িটি। ঢুকতেই চোখে পড়ে পুরোনো মন্দির। লোকমুখে প্রচলিত, শরতের দিনে দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরিতে এখানে ব্যস্ত থাকতেন ভারতবর্ষের নামকরা কারিগররা। কালের বিবর্তনে স্থানটি এখন নির্জন। নেই আগের গৌরব-আভিজাত্যের ছাপ, এমনকি প্রতিমা তৈরির ব্যস্ততাও।

জমিদারবাড়ির পেছনে রয়েছে দীঘি ও দুটি পরিত্যক্ত কূপ। এ ছাড়া জমিদারবাড়ির বিশাল মাঠের এক কোণে নাটমন্দির। জানা যায়, নাগরপুরের সঙ্গে কলকাতার একটি বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা থেকে আসেন ধনাঢ্য ব্যক্তি রামকৃষ্ণ সাহা মণ্ডল। তিনিই ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে ব্রিটিশদের কাছ থেকে বিপুল অর্থের বিনিময়ে জমি কিনে জমিদারি শুরু করেন।

রামকৃষ্ণ সাহার দুই ছেলে বৃন্দাবন ও রাধাগোবিন্দ। রাধা নিঃসন্তান। তবে বৃন্দাবনের তিন ছেলে ব্রজেন্দ্র মোহন, উপেন্দ্র মোহন ও যোগেন্দ্র মোহন দীর্ঘকাল রাজত্ব করেন। এভাবে পাকুটিয়া জমিদারবাড়ি তিন ভাইয়ের তরফে বিভক্ত থাকলেও, জমিদাররা সবাই ছিলেন প্রজানন্দিত। বৃন্দাবনের মেজ ছেলে উপেন্দ্রকে কাকা রাধাগোবিন্দ দত্তক নেন। ফলে উপেন্দ্র কাকার জমিদারির পুরো সম্পত্তি লাভ করেন।

দৃষ্টিনন্দন পাকুটিয়া জমিদারবাড়িতে প্রতিনিয়ত পর্যটকের ভিড় বাড়ছে। ইতিহাসের সাক্ষী বাড়িটি সংস্কার না হওয়ায় একদিকে যেমন সৌন্দর্য হারাচ্ছে, অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মের কাছে অজানা থেকে যাচ্ছে ইতিহাস। জমিদারবাড়িটি পুরাকীর্তি হিসেবে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে নিয়ে সংস্কার ও সংরক্ষণের দাবি জোরালো হচ্ছে।