আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকেই গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। শিল্পাঞ্চল হওয়াতে কালিয়াকৈর পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নাম্বার ওয়ার্ডে প্রায় দশ লক্ষাধিক লোকের বসবাস। সেই অনুপাতে পৌর নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ নাগরিক পথচারী ও বসবাসকারী মহল্লাবাসী। পৌরসভার নিজস্ব ড্যাম্পিং ষ্টেশন স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন, পৌরনাগরিকরা।
তবে এই পৌরসভার তিনটি ওয়ার্ডে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে বর্জ্র অপসারণ নিয়ে। বাসা বাড়ির উছিষ্ট ময়লাগুলো বাড়ির সামনে রাখা হলেও কয়েকদিন পর পর নেওয়া হচ্ছে। যারা এই ময়লাগুলো নিয়ে যাচ্ছেন তাদেরকেও মাসে মাসে দেড়শত থেকে দুইশত টাকা করে পরিশোধ করতে হচ্ছে পৌরবাসীকে। ময়লাবহনকারী লোকজন বাসা বাড়ি থেকে ময়লাগুলো তুলে ভ্যান ভরে ওয়ার্ডের যত্রতত্র ফেলে রাখছেন। কালিয়াকৈর পৌরসভার নির্ধারিত ময়লা ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় পরিছন্নকর্মীরা বাসা বাড়ির ময়লা মহাসড়কের পাশে কিংবা সরকারী বনের জমিতে এমননি পানি নিস্কাশনের ড্রেনের উপর ফেলে রাখা হচ্ছে। ফলে ময়লা রাখা সড়ক দিয়ে পথচারীরা যাতায়াত করছেন নাক চেপে না হয় নাকে রুমাল দিয়ে। এসব বিষয়ে সচেতন মহল পৌর কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার বলা হলেও নির্ধারিত ময়লা রাখার ডাম্পিং ব্যবস্থা না থাকায় যেখানে সেখানে ফেলতে হচ্ছে। এতে পরিবেশের যেমন দুষন তেমনি আশপাশের বাসাবাড়ি ও পথচারীরাও নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
শনিবার দিনব্যাপি তিনটি ওয়ার্ডের কয়েকটি পয়েন্টে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে ময়লা ফেলার রাখার দৃশ্য। মাছির ঘ্যান ঘ্যানির শব্দ আর পোকা মাকড়ে ভরপুরসহ পর্চা গন্ধে ময়লা রাখা এলাকার পাশ দিয়ে যাতায়াত করাই মুসকিল হয়ে পড়ছে। পৌরসভার ৭ নাম্বার ওয়ার্ডের হরিণহাটি এলাকার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উত্তরপাশে ফেলে রাখা হয়েছে বাসাবাড়ির ময়লার স্তুপ। এই সড়ক দিয়ে বিভিন্ন পোশাক তৈরির কারখানার শ্রমিকরা মহাসড়কের ফুটপাত দিয়ে সকাল-বিকেল যাতায়াত করছে। এসময় শ্রমিকদের নাকে চেপে কিংবা নাকে রুমাল দিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। স্থানীয় নাগরিকরা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর পৌরসভায় প্রশাসক ও ওয়ার্ডে কাউন্সিলরের পরিবর্তনে সরকারী একজন কর্মকর্তাকে প্রশাসক নিয়োগ করায় সাপ্তাহে একদিন সড়কের উপর ও কয়েকটি স্থানে বাসাবাড়ি হাট বাজারের ময়লা রাখা হলেও পৌর সভার পরিছন্ন কর্মীরা তা অপসারণ করছেন না।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগে প্রতিদিনই বাসাবাড়ি থেকে আনা ময়লা কয়েকটি স্থানে রাখা হলে সকালের দিকে পৌর কর্তৃপক্ষ তা অপসারণ করতেন। এখন মহাসড়কের উপর কিংবা কারোর বাড়ির পাশে দিনের পর দিন ময়লা পড়েই থাকছে। ৮ নাম্বার ওয়ার্ডে সাবেক কাউন্সিলর সারোয়ার হোসেন আকুল সফিপুর-সিনাবহ আঞ্চলিক সড়কের পাশে পূর্বচান্দরা এলাকায় মিনি একটি ময়লার ডাম্পিং করলেও সেখানে সাপ্তাহে একদিনও ময়লা তুলে নিয়ে অন্যত্র নিচ্ছে না পৌর কর্তৃপক্ষ।
পৌর ৭নাম্বার ওয়ার্ডের জোড়াপাস্প এলাকার বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, বাসা বাড়ির জমা ময়লা বর্জ্য আগে পৌরসভার লোকজন প্রতিদিন ময়লার ভ্যানে করে নিয়ে যেত। এখন ১ সপ্তাহ পর পর ময়লা নেয়। এদিকে ময়লার দূর্গন্ধের বাসা বাড়িতে থাকা যায় না। পথ দিয়ে মুখ রুমাল দিয়ে ডেকে চলাচল করতে হয় দুর্গন্ধে কারণে। ময়লার স্তুপে মশার উপদ্রব বেড়েই চলেছে। আগে মশা নিধনের জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে ঔষুধ স্প্রে করা হতো।এখন ঔষুধ স্প্রে করা হয়না।
একই ওযার্ডের হারিনহাটি এলাকার বাসিন্দা বিএনপি নেতা রাজু আহমেদ জানান ঠিকমত ময়লা পরিস্কার না করার কারনে পোকামাকর ও দূর্গন্ধের সৃষ্টি হয়েছে।যার কারনে ভাড়াটিয়ারা থাকতে চায় না বাসায়।এ
পৌর ৮নং ওযার্ডের পূর্ব চান্দরা জালাল গেইট রমেসের টেক এলাকার ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম ও তালেব মিয়া বলেন, সড়কের পাশে পৌরসভা একটি বড় ময়লার ডাস্টবিন তৈরি করেছে। এখানে ৮নং ওয়ার্ডের সমস্ত ময়লা আর্বজান ফেলা হয়। এখান থেকে প্রতিদিন ময়লা নেয়ার কথা থাকলেও সপ্তাহ পর হয়ে যায় ময়লা নেয় না পৌরসভার পরিস্কার কর্মীরা। এদিকে দুর্গন্ধের কারনে দোকনপাট করতে পারি না। দুর্গন্ধের কারণে দোকানে কাস্টমার আসতে চায় না।
৯ নাম্বার ওয়ার্ডের পূর্বপাড়া, পশ্চিমপাড়া ও আহাম্মদ নগর যেখানে সেখানে ময়লার স্তূপ রয়েছে। প্রতিদিনই ময়লা অপসারণ করার কথা থাকলেও তারা নিচ্ছেন না। এবিষয়ে নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলর না থাকায় কাউকে কিছু বলতে পারছেন না। ওয়ার্ডে একজন করে সরকারী কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করলেও তাদের সময়মত পৌর সার্কেল অফিসে খুঁজে পাওয়া যায় না। ফলে ময়লা অপসারণ নিয়ে চরম ভোগান্তিতে রয়েছে ৯ নাম্বার ওয়ার্ড বাসী।
এ ওয়ার্ডের বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম ও সিদ্দিকুর হোসেন বলেন, যেখানে পৌর সেবা হিসাবে সকল নাগরিক সুবিধা পাওয়া কথা থাকলেও কোন নাগরিক সুবিধা পাচ্ছে না। ময়লাগুলো টাকার বিনিময়ে সরাতে হচ্ছে। পানি নিস্কাশনের ড্রেন ময়লায় ভরে গেলেও পরিস্কার করার লোক নেই। বছওে পৌর কর্তৃপক্ষের কেউ দেখেনও না।
৮ নাম্বার ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোঃ সারোয়ার হোসেন আকুল বলেন,আমরা যখন ছিলাম দায়িত্বে তখন ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির খালি জায়গায় ফেলা হতো। এখন ওই ইউনিভার্সিটির কর্তৃপক্ষ সেখানে ফেলতে না দেওয়ায় কয়েকটি ওয়ার্ডের ময়লা পানি নিস্কাশনের যে খাল রয়েছে সেখানে ফেলছেন। ময়লা ফেলে খালটি ভরে ফেলেছেন। তবে বর্ষা আসলে জলাবদ্ধতার শিকার হতে হবে। সেই জলাবদ্ধতায় ভোগাতে নাগরিকদের। ৭, ৮ ৯ নাম্বার ওয়ার্ডের ময়লা বর্তমানে কোথায় ফেলছেন তা আমার জানা নেই।
কালিয়াকৈর পৌর সভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ জাহিদুল আলম তালুকদার বলেন, মাঝে একটু সমস্যা থাকায় নিয়মিত ময়লা সরাতে পারেনি। এখন নিয়মিতই ময়লা সরাচ্ছেন পরিছন্ন কর্মীরা। তবে পৌরসভার নিজস্ব ডাম্পিংয়ের জন্য একটি জমি একর করার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন দিয়েছি। জমিটি একর হয়ে গেলেই এর সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।
কালিয়াকৈর পৌরসভার প্রশাসক কাউছার আহমেদ জানান, ডাম্পিং স্টেশন তৈরির জন্য কাজ চলমান রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই পৌরসভার নিজস্ব ড্যাম্পিং ব্যবস্থা করা হবে। ড্যাম্পিং স্টেশন স্থাপন করা গেলে সড়কের পাশের আর ময়লা ফেলা হবে না। এছাড়াও যাতে সড়কের পাশে ময়লা যাতে ফেলা না হয় দ্রুত বিষয়ে ববস্থা নেয়া হবে বলেও জানান, কাউছার আহমেদ।