রৌমারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা : ‘ওয়াহিদ, কাদের, মাহফুজ বীর শহীদ আমরা তোমাদের ভুলি নাই’ এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে ১৮ এপ্রিল বড়াইবাড়ি দিবসের ২৫ তম বর্ষ পালিত হয়েছে। কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বড়াইবাড়ি সীমান্তে বিডিআর বর্তমান বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ বিজিবি ও বিএসএফ’র সংঘর্ষের বর্ষপূর্তির ২৫ বছর পূর্তি হলো। এ উপলক্ষে বড়াইবাড়ি দিবসটি মেজর (অবঃ) হুমায়ুন ও মেজর (অবঃ) জামাল হায়দার আলীর আয়াজনে কর্মসূচীটি পালন করা হয়। সকাল ৯টায় বর্ণাঢ্য র্যালি, বীর শহীদদের প্রতি বড়াইবাড়ি স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন, বারবান্দা সূর্য্য সংঘ, বারবান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কলাবাড়ি বিবিসি উচ্চ বিদ্যালয়, অবসর প্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাগণ, বিভিন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন, শহীদ পরিবার, বারবান্দা ও চুলিয়ারচর গ্রামবাসি। দুপুর ১২টায় সাবেক সংসদ সদস্য রুহুল আমিন এর সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি’র বক্তব্য রাখেন সোহেল হোসাইন কায়কোবাদ প্রশাসক জেলা পরিষদ ও সদস্য সচিব জেলা বিএনপি কুড়িগ্রাম। প্রধান আলোচক হিসাবে ছিলেন, মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা আহায়ক জেলা বিএনপি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন,অধ্যাপক মো. হাসিবুর রহমান হাসিব বিশিষ্ট সাংবাদিক ও যুগ্ম আহায়ক জেলা বিএনপি, মোখলেছুর রহমান আহবায়ক উপজেলা বিএনপি রাজিবপুর।
, মেজর (অবঃ) আনিছুল, মেজর (অবঃ) ডেল এইচ খান সাধারণ সম্পাদক জনতাদল, বিগ্রেডিয়ার জেলারেল (অবঃ) নাসিমুল গনি, মেজর (অবঃ) তাওহীদ, সাবেক জয়েন সেক্রেটারি শহিদুজ্জামান, সাবেক অর্থনৈতিক উপদেষ্টা জাহিদুল গণি, সাবেক লেঃ কর্ণেল মোস্তাফিজ, সাবেক চেয়ারম্যান জাতীয় তরুন সংঘ মোঃ ফজলুল হক।
বক্তব্য বলেন, দেশের মাটি রক্ষা করতে গিয়ে তিন বিডিআর জোয়ান নিহত হয়েছেন। শহীদ ল্যান্স নায়েক ওয়াহিদ আলী, শহীদ সিপাহী মাহফুজ ও শহীদ সিপাহী আব্দুল কাদের তাদের প্রাণের মাধ্যম আমাদের দেশের লাল সবুজের পতাকা অক্ষুন্ন রাখতে পারছি। এ জন্য তিন শহিদ বিডিআরকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি করছি।
২০০১ খ্রিস্টাব্দর ১৮ এপ্রিল এই দিন ভোরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বড়াইবাড়ি গ্রামে ঢুকে নারকীয় তান্ডব চালায়। অকুতভয় বিডিআর ও গ্রামবাসীদের মিলিত প্রতিরাধে পর্যদুস্ত হয় আগ্রাসণকারী ভারতীয় বিএসএফ। ভারতীয় বিএসএফ পিছিয়ে যাওয়ার আগে বড়াইবাড়ি গ্রামের প্রায় ২শত ৫০ টি বাড়ি নৃসংশভাবে পুড়িয়ে দিয়ে যায়।
এতে ভারতীয় পক্ষে নিহত হয় ১৬ বিএসএফ সদস্য। সেই থেকে ঐতিহাসিক এই দিনটি পালিত হয় ‘বড়াইবাড়ী দিবস’ হিসেবে।