গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ১৮তম কর্পোরেশন সভা শনিবার (২৩ মে)নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক, মোঃ শওকত হোসেন সরকার।
সভায় নগরীর সার্বিক উন্নয়ন, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত অগ্রগতি এবং চলমান বিভিন্ন কার্যক্রমের বাস্তবায়ন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ করে নগর পরিকল্পনা, উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। নগরবাসীর প্রত্যাশা ও প্রয়োজনকে সামনে রেখে একটি বাস্তবমুখী, জনবান্ধব ও উন্নয়নকেন্দ্রিক বাজেট প্রণয়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিভিন্ন প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন।
এ সময় প্রশাসক মোঃ শওকত হোসেন সরকার বলেন, 'গাজীপুরকে একটি পরিচ্ছন্ন, আধুনিক, পরিকল্পিত ও নাগরিকবান্ধব নগরীতে রূপান্তর করতে সিটি কর্পোরেশন নিরলসভাবে কাজ করছে। উন্নয়ন কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে আমরা বদ্ধপরিকর। নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে প্রতিটি বিভাগকে আরও আন্তরিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা, সড়ক উন্নয়ন, ড্রেনেজ সংস্কার এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে একটি টেকসই নগর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনকে একটি মডেল সিটিতে পরিণত করা সম্ভব।'
সভায় গত কর্পোরেশন সভার কার্যবিবরণী আলোচনা ও অনুমোদনের পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প, ডিপিপি বিষয়ক কার্যক্রম, রাজস্ব, স্বাস্থ্য, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সম্পত্তি সংক্রান্ত কার্যক্রম এবং বিবিধ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সবাই গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সোহেল হাসান, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সচিব মোঃ সানিউল কাদের, সদ্য যোগদানকৃত প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আব্দুল বারেক,অতিরিক্ত প্রদান প্রকৌশলী সুদীপ বসাক, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ হারুন আর রশিদসহ জেলা প্রশাসন পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধি ও সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উপস্থিত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ নগরীর চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন, সেবার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব গাজীপুর গড়ে তুলতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।