সোহরাব হোসেন সৌরভ, রাজশাহী ব্যুরো : জীবনের শেষ প্রান্তে এসে অনেকেই যখন বিশ্রামে যান, তখনও থামেননি সোফির উদ্দিন। বয়স ৮৪ হলেও জীবিকার তাগিদে প্রতিদিনই তাকে দেখা যায় রাজশাহী নগরীর ফুটপাতে বসে নিজ হাতে প্রস্তুতকৃত গৃহস্থালী পণ্য বিক্রি করতে।
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট গ্রামের এই প্রবীণ মানুষটি গত প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে নগরীর বিভিন্ন মোড়ে বসে হাতপাখা, ঝুঁড়ি, ডালা ও বাঁশের তৈরি নানান সামগ্রী বিক্রি করে জীবনযাপন করছেন করে আসছেন। প্রতিদিন সকালেই বাড়ি থেকে রওনা হয়ে নগরীতে আসেন। উপশহর নুর মসজিদের সামনে কিংবা আশপাশের এলাকায় ফুটপাতে বসে নিজের পসরা সাজান। এরপর শুরু হয় অপেক্ষা কখন আসবেন ক্রেতারা। কখনো বিক্রি ভালো হয়, আবার কখনো সারাদিন বসেও তেমন আয় হয় না। তবুও থেমে নেই তার পথচলা। সোফির উদ্দিন জানান, “বয়স তো অনেক হয়েছে, কিন্তু বসে থাকলে চলবে না। নিজের খরচ নিজেকেই চালাতে হয়।” জীবনের দীর্ঘ সময় জুড়ে তিনি এই পেশার সঙ্গে জড়িত। নানা প্রতিকূলতা, শারীরিক কষ্ট আর বয়সের ভার সবকিছুকে উপেক্ষা করেই প্রতিদিন কাজে বের হন। দিন শেষে পাখিদের নীড়ে ফেরার মতো তিনিও ফিরে যান আপন ঠিকানায়। এই তার নিত্য জীবনের গল্প।
স্থানীয়রা বলেন, এমন বয়সেও তার কর্মস্পৃহা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। অনেকেই তার কাছ থেকে পণ্য কেনার পাশাপাশি সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেন। তবে স্থায়ী কোনো সহায়তা বা নিরাপত্তা না থাকায় তার মতো প্রবীণদের জীবন এখনও অনিশ্চয়তায় ভরা। রাজশাহী নগরীর উপশহর নুর মসজিদের সামনে তোলা একটি ছবিতে ফুটে উঠেছে এই সংগ্রামী মানুষের বাস্তব জীবনচিত্র একটি ছোট পসরা, পাশে বসে থাকা এক বৃদ্ধ, আর সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। সোফির উদ্দিনের এই নিরলস সংগ্রাম আমাদের সমাজের এক বাস্তব চিত্র তুলে ধরে যেখানে বয়স নয়, জীবিকার তাগিদই সবচেয়ে বড় সত্য।