গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন কন্যাসন্তান ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যার আলোচিত ঘটনায় চারদিন অতিবাহিত হলেও প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, প্রযুক্তিগত ও মাঠপর্যায়ের সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তারে জোরালো অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে কাজ করছে জেলা পুলিশ, ডিবি, সিআইডি, পিবিআইসহ একাধিক সংস্থা।

গত ৯ মে কাপাসিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাউৎকোনা পূর্বপাড়া গ্রামের একটি ভাড়া বাসা থেকে পাঁচজনের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন ফোরকান মোল্লার স্ত্রী শারমিন খানম, তিন কন্যাসন্তান মীম, মারিয়া ও ফারিয়া এবং শ্যালক রসুল মোল্লা। এ ঘটনায় নিহত শারমিনের বাবা শাহাদাৎ মোল্লা বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনার পর থেকেই মোবাইল ফোন ও সিম বন্ধ করে আত্মগোপনে রয়েছে ফোরকান। সে দীর্ঘ পরিকল্পনা করে হত্যাকা- ঘটিয়েছে বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিভিন্ন স্থানে সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্তে প্রযুক্তিগত নজরদারির পাশাপাশি ম্যানুয়াল সোর্সও ব্যবহার করা হচ্ছে।

কাপাসিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ শাহীনুর আলম বলেন, ‘অভিযুক্ত ফোরকান বর্তমানে প্রযুক্তিগত ট্র্যাকিংয়ের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। মোবাইল ও সিম ফেলে দিয়ে আত্মগোপনে রয়েছে। তারপরও আমরা প্রযুক্তিগত ও ম্যানুয়ালি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। পুলিশসহ কয়েকটি সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। খুব শিগগিরই ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে এবং আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।’

তিনি আরও জানান, ঘটনার আলামত, উদ্ধার হওয়া কাগজপত্র, মাদকসামগ্রী এবং পারিবারিক বিরোধের বিভিন্ন তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে পেলে তদন্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলবে।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোঃ শরিফ উদ্দীন বলেন, ‘এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও স্পর্শকাতর একটি হত্যাকা-। জেলা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি, সিআইডি, পিবিআইসহ বিভিন্ন ইউনিট সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আমরা আশা করছি, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই ঘটনার পূর্ণ রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’