মাহমুদ শরীফ, কুমারখালী (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা : গড়াই নদীর বুকে ৫০০ মিটার ধূ ধূ চর। অপরপাশে ৫০০ মিটার নদীতে জমে আছে পানি। সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে সরু বাঁশের সেতু। তার ওপর দিয়ে নিত্য প্রয়োজন মেটাতে কেউ পাঁয়ে হেঁটে। কেউবা মোটরসাইকেল, বাই সাইকেল, ভ্যানে করে চরম ভোগান্তি মাথায় নিয়ে চলাচল করছেন। বাঁশের সেতুর মাথায় টোল আদায়ের ঘর। ওই ঘরের সামনের চরে দাঁড়িয়ে পাকা সেতু নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করছেন কয়েক হাজার নানা বয়সি ও শ্রেণি পেশার মানুষ।
গত সোমবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর কয়া ঘোড়াই ঘাট এলাকায় সরেজমিন গিয়ে এসব দৃশ্য দেখা যায়। এসময় কয়া গট্টিয়া এলাকার ৮০ বছর বয়সি বৃদ্ধ ওয়াজেদ আলী বলেন, ঘোড়াই ঘাট দিয়ে চার ইউনিয়নের ৫০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ কুষ্টিয়া শহরে চলাচল।
বর্ষায় ভরা নদীতে নৌকা আর শুষ্কের সময় চর মাড়িয়ে বাঁশের সাঁকোই চলতে হয়। এই বড়ো বয়সে আর পারিনে। এটা সেতু হলি গাড়িতে চলতি পারতাম।
কুষ্টিয়া আফসার উদ্দিন মাদরাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী সুমাইয়া খাতুন বলেন, অসুস্থ, শিশু ও বৃদ্ধ মানুষ, গর্ভবতী মহিলাদের নৌকায় ও পাঁয়ে হেটে চলতে খুবই ভোগান্তি হয়। আবার শিক্ষার্থীরাও সময়মতো প্রতিষ্ঠানে পৌছাতে পারেনা। এখানে একটি পাকা সেতু নির্মাণ করা হলে সবদিক থেকেই ভাল হয়।
উপজেলার ঘোড়াই ঘাট দিয়ে কয়া, শিলাইদহ, নন্দলালপুর, চরসাদিপুর ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষ কুষ্টিয়া জেলা শহরে নিত্য প্রয়োজন মেটাতে চলাচল করেন। এছাড়াও সদর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের একাংশ চলে এই ঘাট দিয়ে। তবে যুগের পর যুগ চলে গেলেও গড়াই নদীর ঘোড়াই ঘাট এলাকায় সেতু নির্মাণে উদ্যোগ নেয়নি কর্তপক্ষ।
সেতু নির্মাণের জন্য ২৫ বছর ধরে এলাকাবাসী আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন। তিনি বলেন, বহুবার প্রশাসনকে লিখিত ভাবে জানিয়েছি, গণপিটিশন দিছি। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, জনদুর্ভোগ নিরোসনে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হবে।