দাউদকান্দি (কুমিল্লা) সংবাদদাতা: দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি অংশে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ পরিবেশ দূষণ। উপজেলার মাইজপাড়া সংলগ্ন মহাসড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে পুরো এলাকাটি এখন যেন এক অস্থায়ী ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারী ও যাত্রীরা।সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের পাশে থাকা একটি ছোট ডোবা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলে প্রায় ভরাট করে ফেলা হয়েছে।

বর্তমানে সেই আবর্জনা ডোবার সীমানা ছাড়িয়ে মহাসড়কের পাশ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। দুর্গন্ধে আশপাশের পরিবেশ অসহনীয় হয়ে উঠেছে। চলাচলকারী যাত্রীদের অনেকেই নাক চেপে ওই এলাকা অতিক্রম করছেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অবাধে ময়লা ফেলার কারণে পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে এটি স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশনে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মদনপুর, কাঁচপুর ও চিটাগং রোড এলাকায় রাস্তার পাশে বর্জ্যের স্তূপ বহুদিনের পরিচিত দৃশ্য। এখন একই চিত্র দাউদকান্দিতেও দেখা দেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, এক এলাকার অব্যবস্থাপনা ধীরে ধীরে অন্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ছে, যা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৃষ্টির সময় এসব আবর্জনা ধুয়ে মহাসড়কে ছড়িয়ে পড়লে সড়ক পিচ্ছিল হয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন জমে থাকা বর্জ্য থেকে বিভিন্ন রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সামাজিক ও পরিবেশকর্মীরাও।

দাউদকান্দির সমাজকর্মী সাইফুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ বিষয়ে একটি পোস্ট দিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, “আমরা আর কবে সভ্য হবো?” তিনি লিখেছেন, রাস্তার পাশের পরিবেশ এভাবে নষ্ট হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতারও প্রয়োজন রয়েছে। তার ওই পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মহাসড়কের পাশে অবাধে বর্জ্য ফেলা বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করেছেন। সচেতন মহলের মতে, সমস্যা সমাধানে দ্রুত নির্দিষ্ট ডাম্পিং জোন নির্ধারণ, মহাসড়কের পাশে ময়লা ফেলা বন্ধে কঠোর নজরদারি এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। তাদের দাবি, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ককে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হওয়ার আগেই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পৌর প্রশাসক রেদওয়ান ইসলাম জানান,আমরা জায়গা খুজতেছি অচিরেই যেন দাউদকান্দি পৌরসভার ক্রয়কৃত নিজস্ব জায়গায় একটা ডাম্পিং স্টেশন করা যায়। এটা পাওয়া গেলে আশাকরি এই সমস্যা আর থাকবে না।