‎জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হল নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলে জকসুর (হল সংসদের) উদ্যোগে বৈশাখী ক্রীড়া উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছে হলের আবাসিক নারী শিক্ষার্থীরা।

‎আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) হলের অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এ খেলার আয়োজন। যা ১০ টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর পর্যন্ত চলে।পহেলা বৈশাখে ক্যাম্পাসে দুইদিন ব্যাপী অনুষ্ঠান থাকায় হলের আয়োজন পিছিয়ে আজকের তারিখ দেওয়া হয়েছিল।

‎এসো হে বৈশাখ! স্মৃতির পটে প্রাণের টানে, শৈশব ফিরুক খেলার ছলে।"বৈশাখী ক্রীড়া উৎসব - ২০২৬'' এই শিরোনামে খেলাধুলা আয়োজন করেছে জকসু হল সংসদ। যেখানে বালিশ খেলা,হাড়ি ভাঙা,পুকুর-পাড়ে

‎ও সুই-সুতা দৌড়ের মতো শৈশবের সব মজাদার খেলার আয়োজন করা হয়েছে। বিজয়ীদের জন্য ছিল আকর্ষণীয় পুরস্কার।

হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রিতু বলেন,খুবই আনন্দিত হয়েছি বৈশাখ উপলক্ষে এত সুন্দর খেলাধুলার আয়োজন দেখে। সাধারণত মেয়েরা ক্যাম্পাসে খেলাধুলার আয়োজন থাকলেও অংশগ্রহণ করতে চায় না।এই আয়োজন যেহেতু হলের মধ্যে সেহেতু  সব মেয়েরা থাকবে তাই সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছে।'

‎হল সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক সাবিকুন্নার সুলতানা বলেন, আমাদের খুব ইচ্ছে ছিল অনেক বড় পরিসরে এই আয়োজনটি করার। কিন্তু বাজেট এবং জায়গার সীমাবদ্ধতার কারণে আমরা আপাতত স্বল্প পরিসরেই শুরু করেছি।তবে আয়োজন ছোট হলেও আমাদের প্রাণের টান কিন্তু অনেক বড়।সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখে তা বোঝা যাচ্ছে।'

নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল সংসদের ভিপি জান্নাতুল উম্মি তারিন বলেন,‎পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল শৃঙ্খলা, সৌহার্দ্য ও বাঙালিয়ানা ঐতিহ্যের অপূর্ব মেলবন্ধন। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, আন্তরিকতা ও সহযোগিতার ফলেই আমরা এত সুন্দরভাবে আয়োজনটি সম্পন্ন করতে পেরেছি। ‎হল সংসদের পক্ষ থেকে সকল অংশগ্রহণকারী, স্বেচ্ছাসেবী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

ক্রীড়া উৎসবে হাড়ি ভাঙ্গা খেলায় প্রথম পুরষ্কার পান সিরাজুম আরেফিন কনা, দ্বিতীয় পুরষ্কার পান তনুশ্রী। বেলুন পপিং খেলায় প্রথম পুরষ্কার লাভ করেন কাজি সাদিয়া,দ্বিতীয় পুরষ্কার পান নাদিয়া আফরিন কেয়া ও তৃতীয় হন জান্নাতুল ফেরদৌস খুশি। বালিশ খেলায় প্রথম পুরষ্কার লাভ করেন সাদিয়া জাহান ইতি,দ্বিতীয় পুরষ্কার পান লাবনী আক্তার এবং তৃতীয় হন সাদিয়া নাজনীন। এছাড়া 'পুকুড়-পাড়ে' খেলায় প্রথম পুরষ্কার লাভ করেন আমরিন,দ্বিতীয় মিতু ও তৃতীয় স্মৃতি আক্তার।