জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার পর চলমান আন্দোলনকে প্রত্যাখ্যান করে নতুন আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন একদল নারী শিক্ষার্থী। তারা দাবি করেছেন, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ভিন্ন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও অসততার কারণে ভিকটিমের ন্যায়বিচার ও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিতে টেকসই আন্দোলন গড়ে ওঠেনি।


সোমবার (১৮ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ঘোষণায় তারা জানান, দলীয় ব্যানার বা রাজনৈতিক এজেন্ডা নয়; শুধুমাত্র ভিকটিমের ন্যায়বিচার ও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার দাবিতে দীর্ঘমেয়াদে কাজ করবেন তারা।


এ লক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনে শিক্ষার্থীদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে বলেও জানানো হয়।


ঘোষণায় শিক্ষার্থীরা বলেন, “জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছে এই ক্যাম্পাস কতটা অনিরাপদ। এই ঘটনার পর সুযোগ তৈরি হয়েছিল ভিকটিমের ন্যায়বিচার ও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিতে একটা টেকসই আন্দোলন গড়ে তোলার। কিন্তু ভিন্ন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও অসততার কারণে সেই সুযোগ কাজে আসেনি।”


তাদের ঘোষিত দাবির মধ্যে রয়েছে— দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করা, প্রশাসনের গৃহীত পদক্ষেপ নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জানানো, ক্যাম্পাসে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তার শূন্য পদ পূরণ, নারী নিরাপত্তারক্ষীসহ পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ, নিরাপত্তা অবক্ষয়ের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা, ক্যাম্পাসের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের টেন্ডার দ্রুত প্রকাশ, বহিরাগত নিয়ন্ত্রণে পাসকার্ড ব্যবস্থা চালু, কুইক রেসপন্স টিম গঠন এবং ভিকটিমদের আর্থিক ও আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করা।


শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, “প্রতিটি দাবির দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলবে।”