বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) মেডিকেল সেন্টারের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলে শারীরিক ও আর্থিক ক্ষতির দাবি করা শিক্ষার্থী এখনো কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ ও দাবি উত্থাপন করা হলেও বিষয়টি নিয়ে এখনো কার্যকর কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগী অহনা জেবিন ইরা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী। কিছুদিন আগে পড়ে গিয়ে তার পায়ে সামান্য আঘাত ও ক্ষত হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ড্রেসিং ও এটিএস (অ্যান্টি-টিটেনাস সিরাম) নেওয়ার পরামর্শ দেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ড্রেসিং করানোর জন্য মেডিকেল সেন্টারের এক কর্মচারীর কাছে গেলে তিনি ক্ষতস্থানে যথাযথভাবে ড্রেসিং না করেই ব্যান্ডেজ করে দেন। পরবর্তীতে ওই ক্ষতস্থানে ইনফেকশন দেখা দেয় এবং ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। একপর্যায়ে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। এতে তার প্রায় ১ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানান তিনি।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। পাশাপাশি আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এসব দাবি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
ভুক্তভোগী অহনা জেবিন ইরা বলেন, তাকে একদিন উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে যেতে বলা হয়েছিল। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে সেদিন তিনি যেতে পারেননি। পরদিন যাওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর কোনো সাড়া পাননি। এদিকে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরু হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা আর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি বলেন, “মেডিকেল সেন্টারের ডাক্তার সবাইকে আমি ডেকেছিলাম। তারা তো বলে যে, ও একবার এসেছিল, তারপর আমরা ডেকেছি, ও আর আসেইনি। তাও এটা এক মাস আগে মনে হয় কথা হয়েছে। ওই সময় ওকে নাকি ডাক্তাররাও পায়নি—কে বলেছে, কে করেছে, কে আসতে দেয় না ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার তো আমার কাছে এসে বলে গেছে।”
তিনি আরও বলেন, “এটা আমার সঙ্গে কথা বলার আগে মেডিকেল সেন্টারের সঙ্গে কথা বলো, ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলো। তারা এ ঘটনাটা ভালো জানে।”