স্টাফ রিপোর্টার
মতিঝিলের ঐতিহাসিক শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকা- ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সাবেক সদস্য আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি টিম। এরমধ্য দিয়ে বহু আলোচিত শাপলা চত্বর মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যুক্ত হলো। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
তাকে গ্রেফতারের বিষয়টি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
এরআগে এদিন শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সিএমএম আদালতে হাজিরা শেষে সাংবাদিকদের আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, আপনারা (সাংবাদিকেরা) জানেন কি না জানি না, আমাকে আজ সকালে জানানো হলো, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটা মামলা হয়েছে। শাপলা চত্বরে হেফাজত ইসলামের সমাবেশের ওই মামলা। তিনি আরও বলেন, আমি জানি আজ যদি না আসি, তাহলে মনে করা হবে আমি বোধ হয় আত্মগোপনে চলে গেছি। আমি সাধারণত আত্মগোপন করি না। আমি সবসময় আত্মপ্রকাশ করতে চাই। সেজন্য আজ এসেছি। এখন পুলিশ যদি আমাকে গ্রেফতার না করে তাহলে আগামী রোববার বা সোমবার আদালতে গিয়ে নিজেকে সমর্পণ করব। মামলাটিতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা আগামী ৭ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক ক্ষমাতচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সেই সঙ্গে শেখ হাসিনাসহ পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। গত সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।
আলোচিত এ মামলায় মোট ৪১ জনকে আসামী করা হয়েছে। তারা হলেন- শেখ হাসিনা, ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, শামসুল হক টুকু, হাসানুল হক ইনু, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ড. আব্দুর রাজ্জাক, মাহবুবউল আলম হানিফ, হাসান মাহমুদ চৌধুরী, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, মৃনাল কান্তি দাশ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডা. দীপু মনি, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ওমর ফারুক চৌধুরী, সালাউদ্দিন মাহমুদ ও ডা. ইমরান এইচ সরকার। অন্য আসামিরা হলেন- শাহরিয়ার কবির, মোজাম্মেল বাবু, ফারজানা রুপা, হাসান মাহমুদ খন্দকার, এ কে এম শহীদুল হক, জাবেদ পাটোয়ারী, বেনজীর আহমেদ, মোখলেসুর রহমান, জেনারেল আজিজ আহমেদ, জিয়াউল আহসান, মজিবুর রহমান, আব্দুল জলিল মন্ডল, শেখ মো. মারুফ হাসান, মাহবুব হোসেন, মনিরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, মুহা. আশরাফুজ্জামান, এস এম মেহেদী হাসান, হারুন-অর-রশীদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সৈয়দ নুরুল ইসলাম, মো. আসাদুজ্জামান, এস এম শিবলী নোমান ও বি এম ফরমান আলী।