॥ মোঃ রাশেদুল ইসলাম রাশেদ ॥
ভারতে সম্প্রতি প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে। পরবর্তীতে জনতা ও বিশিষ্টজনদের অংশগ্রহণে ভারত জুড়ে এই ক্ষোভ বিস্তৃত হয়। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে তেলাপোকা জনতা দল (সিজেপি) এর আহ্বানে আন্দোলন দিলীøর যন্তর মন্তর ছাড়িয়ে মুম্বাইসহ রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। অবস্থান, বিক্ষোভ, পুলিশি ধরপাকড়, স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তা সব মিলিয়ে আন্দোলন বিস্তৃত হয়। জেন-জি তথা ছাত্র-জনতার আন্দোলনে কেঁপে উঠে নরেন্দ্র মোদির দিলীøর মসনদ। আন্দোলন থামাতে তোড়জোর শুরু করে কট্টর হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার। আন্দোলনকারীদের সাথে কয়েকদফা বৈঠকে মিলিত হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি পূরণের জন্য দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে পিছু হটে কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার। যন্তর মন্তরে তেলাপোকা জনতা দল (সিজেপি) এর নেতৃত্বে হওয়া আন্দোলন ধীরে ধীরে ভারতের অন্যান্য শহরেও ছড়িয়ে পড়লে সার্বিক পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ও আন্দোলনকে দমাতে ব্যর্থ হয়ে বিক্ষোভকারী ছাত্র-ছাত্রী ও জনতার ক্রমাগত চাপে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি সফল হয়। ছাত্র-জনতা আন্দোলনে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে বিজেপি সরকারের নৈতিক পরাজয় হয়। অন্যদিকে কট্টর হিন্দুত্ববাদী সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার বিজয় নিশ্চিত হয়।
ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর সম্প্রতি সক্রিয়কর্মী ও বেকার যুবকদেরকে “তেলাপোকা” ও “সমাজের পরজীবী” বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে জনতা পার্টি বা তেলাপোকা জনতা দল (সিজেপি) ২০২৬ সালের ১৬ মে আম আদমী পার্টির সাবেক সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যম কৌশলবিদ অভিজিৎ দিপকের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত একটি আন্দোলন। আন্দোলনটি অনলাইনে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে, আন্দোলনটি গঠনের এক সপ্তাহের মধ্যে বিভিন্ন রাজ্যে অফলাইন প্রতিবাদ ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রম আয়োজন করে দলটি ভারতীয় যুবকদের প্রভাবিত করে। ছাত্র-জনতা সরকার বিরোধী কার্যক্রম হিসেবে বৃহত্তর সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে প্রচারণা চালায়।
তেলাপোকা জনতা দলে (সিজেপি) ইতোমধ্যে সম্পৃক্ত হয় ভারতের পরিবেশবিদ ও শিক্ষা সংস্কারক সোনম ওয়াংচুক, অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস’ ফেডারেশন (এআইএসএফ) ও অল ইন্ডিয়া ইয়ুথ ফেডারেশন (এআইওয়াইএফ)-এর মতো অন্যান্য বামপন্থী ছাত্র সংগঠন। সক্রিয়কর্মী-আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ, সমাজকর্মী অঞ্জলি ভরদ্বাজ, বিশিষ্ট মানবাধিকার আইনজীবী সাদ কাসিস-মোহাম্মদ। কংগ্রেসের সাংসদ শশী থারুর, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও ককরোচ জনতা পার্টির প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন। দলের মুখপাত্র ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন যে সিজেপি “একটি ভালো লড়াই লড়ছে” এবং আন্দোলনটিকে ভারতে যুব উদ্বেগ ও অনলাইন রাজনৈতিক ভিন্নমতের একটি প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করেন। সিজেপি এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই সাংসদ মহুয়া মৈত্র ও কীর্তি আজাদকে স্বাগত জানিয়েছিল, যারাও সমর্থন প্রকাশ করেছিলেন। সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদবও সিজেপির সমর্থনে কথা বলেন। ভারতীয় চলচ্চিত্র ও কৌতুক শিল্পের বেশ কয়েকজন ব্যক্তিত্বও সোশ্যাল মিডিয়ায় আন্দোলনের সমর্থন করেন বা এর সাথে যুক্ত হন, যেমন চলচ্চিত্র নির্মাতা অনুরাগ কাশ্যপ, কৌতুকশিল্পী কুণাল কামরা এবং অভিনেত্রী কঙ্কনা সেন শর্মা, ফাতিমা সানা শেখ, দিয়া মির্জা ও ঈশা গুপ্তা। ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিও সমর্থন প্রদান করেন। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরাও আন্দোলনের সমর্থনে হ্যাশট্যাগ দিয়ে পোস্ট করেন।
নিটে প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লীর যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করে ‘ককরোচ’ দল। ৩৭ দিন ধরে চলা সেই বিক্ষোভ কর্মসূচির বিস্তৃতি ছিল ভারতজুড়ে। দীর্ঘ দিন ‘নীরব’ থাকার পর অবশেষে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হয় বিজেপি সরকার। গত সোমবার সিজেপির সংসদ অভিযানের দিনই সৌরভ, আশুতোষদের সঙ্গে একদফা বৈঠক করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাড্ডা। শুক্রবার আবার বৈঠকে বসেছিলেন তিনি। সেই বৈঠকে সিজেপি স্পষ্ট জানায়, ধর্মেন্দ্রকে ইস্তফা দিতে হবেই। একই সঙ্গে আরও দু’টি দাবি কেন্দ্রের কাছে রেখেছিল সিজেপি। এক, নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষা বাতিলের পর আত্মহত্যা করা পড়ুয়াদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। দুই, আন্দোলনরত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত মামলা এবং এফআইআর খারিজ করতে হবে।
কংগ্রেস পার্লামেন্টারি পার্টির চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী দ্যা হিন্দুতে প্রকাশিত এক কলামে বলেন, আজকের আন্দোলন এই আন্ত সম্পর্কিত সংকটগুলোরই স্বাভাবিক পরিণতি। হতাশাপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থা আর মোদি সরকারের চিরচেনা অহংকার, অহংবোধ এবং দায়বদ্ধতাহীন আচরণ তরুণদের দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি অধীনে থাকা পুলিশ বাহিনীর এই হিংস্র আচরণ কিন্তু নজিরবিহীন নয়। ২০২০ সালে সিএএ-এনআরসি বিরোধী আন্দোলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী কীভাবে হামলা চালিয়েছিল, তা সবার মনে আছে। ভারতের নারী কুস্তিগীরদের ওপর যে অন্যায় অত্যাচার করা হয়েছিল, সেই স্মৃতিও মুছে ফেলা সম্ভব নয়। মোদি সরকার যে শুধু ভারতের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে তা-ই নয়; স্বৈরাচারী মনোভাব, আত্মমোহ এবং চরম সংবেদনশীলতাহীন আচরণকে তারা অভ্যাসে পরিণত করেছে। কিন্তু ভারতের তরুণ শিক্ষার্থীরা মোদি সরকারের এই ভ-ামি ধরে ফেলেছেন। আন্দোলনকারী এসব শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করা এখন আমাদের নৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।
ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ভিজিটিং ফেলো ইয়ামিনী আয়ারের ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষা ও শিক্ষা এমন একটি ইস্যু যা জাত, শ্রেণি ও লিঙ্গের বিভাজন অতিক্রম করে বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে একত্রিত করতে সক্ষম হয়েছে। তাই এই আন্দোলনে যোগ দেওয়া মূল অংশটি নির্দিষ্ট কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করছে না। দিলীøভিত্তিক সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের গবেষক রাহুল ভার্মা বলেন, আগের আন্দোলনগুলোর মতো এটি আদর্শগত নয়; বরং সরকারের সুশাসন নিশ্চিত করার সক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তার মতে, এ কারণে আন্দোলনটি ক্ষমতাসীন বিজেপির জন্য ভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তিনি মনে করেন, এই আন্দোলনের কারণে বিজেপিকে তাদের কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে। রাহুল আরও যোগ করেন, আন্দোলনে যারা অংশ নিচ্ছেন, তাদের বড় একটি অংশ বিজেপির স্বাভাবিক বিরোধী পক্ষ নয়। তারা মূলত ভারতের উচ্চাকাক্সক্ষী সেইসব তরুণ-তরুণী ও তাদের অভিভাবক, যারা এই পরীক্ষাগুলোকে তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের পথ মনে করেন। যেহেতু এই ক্ষোভটি কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরুদ্ধে নয় বরং প্রশাসনিক ব্যবস্থার ব্যর্থতার বিরুদ্ধে, তাই বিজেপি চাইলেই নিজেদের সমর্থকদের আগের মতো সহজে একাট্টা করতে পারছে না!
তেলাপোকা জনতা দল (সিজেপি) এবং বিরোধী দলগুলোর ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে অবশেষে গত ২৫ জুলাই শনিবার দুপুরের দিকে পদত্যাগ করেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এক্সে দেওয়া পোস্টে ধর্মেন্দ্র লেখেন ‘প্রথম দিন থেকেই আমি এর দায় নিয়েছি এবং পরিস্থিতি থেকে কখনো মুখ ঘুরিয়ে নিইনি।’ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ করে লেখা একটি চিঠি এক্সে পোস্ট করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। সেখানে তিনি লিখেন,‘যন্তর মন্তর এবং সারা দেশে সৃষ্ট পরিস্থিতিকে যেন কোনো রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি কাজে লাগাতে না পারে, জাতীয় ঐক্য যেন অটুট থাকে, কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যেন আইনি জটিলতায় আটকে না যায় এবং আমাদের সন্তানেরা যেন পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার গড়ার কাজে তাদের সময় ব্যয় করতে পারে এসব বিষয় বিবেচনা করে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।’
আন্দোলনের মুখে অবশেষে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র পদত্যাগ এর মধ্য দিয়ে আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি পূরণ হয়, যা প্রধানমন্ত্রী মোদির জন্য একটি বিরল রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ সিজেপির স্পষ্ট জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। সিজেপির তরুণ সমর্থকেরা র্যাপ সংগীত, প্ল্যাকার্ড ও দেয়াললিখনের মাধ্যমে প্রকাশ্যেই মোদিকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করেছেন। কয়েক সপ্তাহ আগেও এমন ঘটনা প্রায় অকল্পনীয় ছিল। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারতের রাজনীতি প্রায় পুরোপুরি মোদিকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছিল। ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষক অমিতাভ তিওয়ারি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস ছিল এই আন্দোলনের একটি তাৎক্ষণিক উদ্দীপক। এটি মূলত তরুণদের মধ্যে থাকা উদ্বেগ, অস্থিরতা, অসন্তোষ, হতাশা ও ক্ষোভেরই প্রতিফলন। লন্ডনের এসওএসএস বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সঞ্জয় শ্রীবাস্তব বলেন, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিপুলসংখ্যক মানুষের মধ্যে আদতে হয়তো তাঁর (মোদির) সমর্থকেরাও ছিলেন এটি অতীতের অন্যান্য বিক্ষোভ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি বিষয়। এই অধ্যাপক আরও বলেন, ‘এটিকে একটি জয় হিসেবে (জেন-জিদের) দেখাও যেতে পারে।’
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে ‘গণতন্ত্রের জয়’ বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তিনি বলেছেন, এটি শান্তি, ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের জয়। রাজপথের আন্দোলন থেকে এই বিজয় এসেছে। গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ওয়াংচুক লেখেন, ‘এটি গণতন্ত্রের জয়, প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের জয়, যা সরাসরি রাজপথ থেকে অর্জিত।’ পরিবেশবিদ সোনাম ওয়াংচুক দাবি আদায়ের জন্য দীর্ঘ ২৬ দিন অনশন করেন। গত ১৮ জুলাই সকালে তাকে দিল্লী পুলিশের একটি দল অনশন মঞ্চ থেকে তুলে নিয়ে তাকে দিলীøর সরকারি সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করান। সরকারের চাপে পড়ে অবশেষে অনশন ভাঙেন ভারতের শিক্ষাবিদ ও পরিবেশ-কর্মী সোনাম ওয়াংচুক। ভারতের অন্যতম দুর্গম অঞ্চল লাদাখে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও পানীয় জলের ব্যবস্থার জন্য একাধিক কাজ করার জন্য সুপরিচিত সোনাম ওয়াংচুক। পরিবেশ ও শিক্ষাক্ষেত্রে তার অবদানের জন্য ২০১৮ সালে তাকে র্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার দেয়া হয়। এই পুরস্কারকে অনেকে এশিয়ার নোবেল বলেও আখ্যা দিয়ে থাকেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের স্লোগান ছিল, ‘৫৬ ইঞ্চির ছোট বান্দর, ভাগ নারেন্দার ভাগ নারেন্দার। এখন প্রশ্ন হলো এটি কি স্রেফ আরেকটি সাধারণ ছাত্র আন্দোলন, নাকি কোনো বড় পরিবর্তনের সূচনা? ইতিহাসের দিকে তাকালে সতর্কবার্তা এবং আশাবাদ উভয় বিষয়ই উঠে আসে। ভারতে ছাত্র আন্দোলন যুগে যুগে রাজনীতিকে বদলে দিয়েছে। সত্তর দশকে গুজরাটের ‘নবনির্মাণ আন্দোলন’ প্রবীণ সমাজতান্ত্রিক নেতা জয়প্রকাশ নারায়ণের হাত ধরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর বিরুদ্ধে এক বিশাল রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এনে দিয়েছিল। তবে এই আন্দোলনের ব্যতিক্রমী দিকটি কেবল এর বিশাল ব্যাপ্তিতে নয়, বরং এর ক্ষোভের প্রকৃতি ও গভীরতার মধ্যেও রয়েছে।
গত এক দশকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে হওয়া বড় বড় আন্দোলনগুলোর (যেমন: নাগরিকত্ব আইন বা কৃষি আইনবিরোধী আন্দোলন) সাথে এর পার্থক্য হলো-এই আন্দোলনটির পেছনে কোনো বিশেষ আদর্শিক ভিত্তি নেই। এটি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা সামাজিক শ্রেণির স্বার্থ রক্ষার্থেও গড়ে ওঠেনি। বরং, এই আন্দোলনটি সরাসরি একটি ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন তুলেছে: যে সরকারি পরীক্ষা ব্যবস্থাকে দেশের কোটি কোটি তরুণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভাগ্য পরিবর্তনের প্রধান উপায় হিসেবে মনে করে।
লেখক : প্রাবন্ধিক।