মোঃ ইউনুছ ভূঁঞা
ঢাকাতে একজন মুসল্লী ফজরের আযান দেয়ার পর যখন অজু করে মসজিদে দিকে এগুতে থাকে দেখতে পায় কতগুলো কুকুর ঘেউ ঘেউ করছে কোথাও কোথাও লাইট জ্বলছে আবার কোথাও অন্ধকার, একপাশে আবার দেখা যায় সিটি কর্পোরেশন লোকজন রাস্তা পরিষ্কর করছে পাশেই তারের খুটির সাথে হেলান দিয়ে বসে জড়ো হয়ে আছে কতগুলো তরুন। মুসল্লী বুঝতে পারে নেশা করছে। বারান্দা থেকে নিচের তিকে তাকালে গলির মধ্যে দেখা যায় মাদক গ্রহণ করছে, টিনশেড বাড়ির উপর বসে নেশা করছে, গাছের ঝোপড়ি মধ্যে বসে নেশা করছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর আঙিনায় সন্ধ্যার সাথে সাথে মাদক গ্রহণকারীদের আনাগোনা বেড়ে যায়, গ্রামে-গঞ্জে, শহরে, রাস্তাঘাটে, প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে, বাড়ির মধ্যে সবজাগায় মাদকগ্রহণকারীরা মাদক গ্রহণ করছে। সারাদেশে এসব মাদক বিক্রেতা ও ক্রেতার মধ্যে থাকে ভাল নেটওয়ার্ক। তাদেরকে কেউ কিছু বলারও সাহস রাখে না। কেউ আবার সাহস করে প্রতিবাদ করলে তার জন্য হয়ে যায় মহাবিপদ। মাদক গ্রহণ করে শেষ হয়ে যাচ্ছে আমাদের দেশের তরুন-তরুণীরা। শেষ হচ্ছে তাদের ভবিষ্যৎ। মাদক গ্রহণের টাকা সংগ্রহ করতে পরিবারের লোকজনদের উপর চাপ সৃষ্টি করে থাকে। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইতের সাথে জড়িয়ে যাচ্ছে মাদকসেবী ও মাদককারবারীরা যা সমাজের সকল মানুষের উপর প্রভাব পরছে। মাদকের কারণে ভেঙে যাচ্ছে বহু ঘর সংসার। মাদকের জন্য নিজের মা, বাবা, ভাই, বোন স্ত্রী তাদেরকেও হারাতে হয় প্রাণ। প্রভাতের সূর্য যখন উদীত হয় তখন থেকেই দিন তারপর রাত আবার দিন সপ্তাহ মাস বছর চলে যাচ্ছে আমাদের মাঝ থেকে কিন্তু মাদকের হিংস্র থাবা থেকে মুক্তির কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না। চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) পরিচালিত একটি দেশব্যাপী সমীক্ষা অনুসারে, বাংলাদেশে আনুমানিক ৮২ লাখ মানুষ বর্তমানে মাদক ব্যবহার করে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪.৮৮ শতাংশ। একজন গড় মাদক ব্যবহারকারী প্রতি মাসে ৬,০০০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করে এবং মাদক ব্যবহারকারীদের অধিকাংশই তরুণ। আমাদের দেশে প্রায় ৩৩% মাদক ব্যবহারকারী ৮ থেকে ১৭ বছর বয়সে প্রথম মাদক গ্রহণ শুরু করে এবং প্রায় ৫৯% ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সে শুরু করে। এই হলো দেশের মাদক ব্যবহারকারীদের পরিসংখ্যা।
যে সকল মাদক ব্যবহার করা হয় : তামাকজাত নেশাদ্রব্য—সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুল, ই-সিগারেট বা ভ্যাপ (কিছু মানুষ ব্যবহার করে)। অ্যালকোহলজাত পানীয়— বিয়ার, ওয়াইন, হুইস্কি, স্থানীয়ভাবে তৈরি চোলাই মদ। গাঁজাজাতীয় মাদক— গাঁজা। আফিমজাত মাদক—আফিম, হেরোইন, ফেনসিডিল, বিভিন্ন প্রেসক্রিপশন ব্যথানাশক ওপিওয়েডের, ইয়াবা, আইস ঘুমের ওষুধ, আঠা ইত্যাদি। বর্তমানে বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জব্দের তথ্য ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি আলোচিত ও ব্যবহৃত অবৈধ মাদকগুলোর মধ্যে রয়েছে: ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন, ফেনসিডিল ও আইস। মাদক উৎপাদনকারী দেশ : পৃথিবীতে মাদক উৎপাদনকারী উল্লেখ্যযোগ্য প্রথম সারিতে আছে যেসব দেশ এর মধ্যে কলম্বিয়া, মেক্সিকো, মায়ানমার (বার্মা) ও আমেরিকা। মেক্সিকো আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী কার্টেলগুলো কার্যক্রমের জন্য ব্যাপকভাবে পরিচিত; এখানে উৎপাদন, পাচার ও বিতরণসহ সবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমেরিকা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অবৈধ মাদকের বড় বাজার রয়েছে। কলম্বিয়া বিশ্বের অন্যতম প্রধান কোকেন উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে পরিচিত। ভাগ্যক্রমে আমাদের প্রতিবেশী দেশ হলো বার্মা এই বার্মা থেকে আফিম এবং সিনথেটিক মাদক উৎপাদিত হয়। যা বাংলাদেশের অবৈধ মাদক বাজার সয়লাব করে দিয়েছে। এরকম পৃথিবীর সেরা মাদক উৎপাদনকারী প্রতিবেশী আমাদের এই দেশ। তাছাড়া ভারত থেকেও মাদকের চোরাচালান বাংলাদেশে আসে। প্রশাসন মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে অনেককে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার করার পর আবার কিছুদিন পর জামিনে বের হয়ে আবার সেই আগের মতোই মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়ে। মাদকের ব্যাপারে প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে। অপরাধী জামিনে বের হয়ে আসে তার জন্য সরকারের উদ্যোগ নিতে হবে কি করলে অপরাধীরা জামিনে বের হয়ে আসতে পারবে না। প্রয়োজন হলে নতুন করে আইন তৈরি করা যায় কিনা সেটাও ভেবে দেখতে হবে। মাদক যে একটি ভয়াবহ ব্যক্তি, সমাজ, দেশ ক্ষতি মধ্যে নিমজ্জিত সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের কাছে প্রচার করে সচেতনতা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে অভিভাবক, রাজনীতিবিদদের এগিয়ে আসতে হবে। আর এই মাদকের কারণে দেশে বেকার সংখ্যাও দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। কারণ মাদককারবারীরা ব্যবসা/বাণিজ্য, চাকরি অথবা বৈদিশক রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে কাজ করতে পারে না। যা দেশের অর্থনীতির উপর চাপ সৃষ্টি হয়।
লেখক : মিডিয়াকর্মী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর।