আল পারভেজ

ইতিহাসের অমোঘ নিয়ম এই যে পরিবর্তন কখনো বিনা আহ্বানে আসে না। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশের রাজপথ যখন তরুণ প্রাণের তপ্ত রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল, সেটি শুধু স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটানোর লড়াই ছিল না। সেই লড়াই ছিল একটি জাতির আত্মপরিচয় পুনরুদ্ধারের মহাকাব্য। আজ ২০২৬ সালের জুলাইয়ে দাঁড়িয়ে যখন আমরা পেছনের দুই বছরের সংস্কার ও রূপান্তরের খতিয়ান খুঁজি তখন স্পষ্ট বোঝা যায় যে, সেই রক্তপাত বৃথা যায়নি। রক্ত যখন মাটিতে মেশে তখন তা কেবল মাটিকে সিক্ত করে না উল্টো এক নতুন রাষ্ট্রচিন্তার বীজ বপন করে। জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা আমাদের শিখিয়েছে যে, জনআকাঙ্ক্ষাকে অবজ্ঞা করে কোনো শক্তিই টিকে থাকতে পারে না। বিশ্ব ইতিহাসে বিপ্লব পরবর্তী সময়ে নতুন সামাজিক চুক্তির যে প্রয়োজন তৈরি হয় বাংলাদেশ আজ সেই সন্ধিক্ষণ পার করছে। এই মহাজাগরণের প্রতিটি মুহূর্ত আমাদের মনে করিয়ে দেয়, স্বাধীনতা অর্জন করা যতটা বীরত্বের তার চেয়ে বেশি কঠিন সেই স্বাধীনতার সুফল ঘরে তোলা।

প্রেক্ষাপট ও ইতিহাসের আলোয় জুলাই অভ্যুত্থানকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের শেকড় এই রাষ্ট্রের গভীরে প্রোথিত ছিল। বছরের পর বছর ধরে চলা সুপরিকল্পিত নিগ্রহ নাগরিক অধিকারকে পদদলিত করেছিল। ড্যারন আসেমোগলু এবং জেমস এ রবিনসন তাঁদের ‘হোয়াই নেশনস ফেইল’ গ্রন্থে দেখিয়েছেন যে, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো যখন কেবল একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থে কাজ করে তখন রাষ্ট্রের পতন অবধারিত হয়ে ওঠে। বাংলাদেশেও আমরা দেখেছি কীভাবে প্রতিটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় সম্পদে পরিণত করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের এই সময়কাল পর্যন্ত রাষ্ট্রের সংস্কার প্রক্রিয়ায় যে প্রাপ্তিগুলো আমাদের সামনে এসেছে তা কম হলেও, অভূতপূর্ব। ভয়ের সংস্কৃতি জয় করে মানুষ এখন তার অধিকার নিয়ে কথা বলতে শিখেছে। বিচার বিভাগ ও প্রশাসনিক কাঠামোতে যে সাংবিধানিক শূন্যতা ছিল তা পূরণে কাজ চলছে, অনেক পথ চলা এখনো বাকি আছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর রাষ্ট্রগঠনের যে ভুলগুলো আমাদের পিছিয়ে দিয়েছিল ২০২৪ পরবর্তী এই নতুন বাংলাদেশ সেই ভুলগুলো সংশোধনের একটি স্বর্ণালী সুযোগ পেয়েছে। পূর্ববর্তী শাসনামলে ক্ষমতার যে একক কেন্দ্রিকতা তৈরি হয়েছিল তা আজ এক বহুত্ববাদী গণতন্ত্রের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

বিশ্ববিপ্লবের পাঠ আমাদের এই রূপান্তরের পথে পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করে। ১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লব পুরাতন আমলাতন্ত্র ও সামন্ততান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে নতুন নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল। সেই বিপ্লব আমাদের শিক্ষা দেয়, বিপ্লব যেন তার নিজের সন্তানদের গিলে না খায়। রুশো তাঁর ‘দ্য সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট’ গ্রন্থে জনগণের সম্মতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র গঠনের যে দার্শনিক ভিত্তি দিয়েছিলেন জুলাই বিপ্লব সেই দর্শনেরই এক আধুনিক প্রকাশ। ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব নতুন রাজনৈতিক অর্থনীতির সৃষ্টি করলেও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার অভাবে তা পুনরায় একনায়কত্বে রূপ নিয়েছিল। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে যেন জুলাইয়ের এই অর্জন কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা স্বার্থান্বেষী মহলের হাতে বন্দি না হয়। ২০১১ সালের আরব বসন্ত কেন অনেক দেশে ব্যর্থ হয়েছিল সেই কারণগুলো আমাদের গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। মিশরে বিপ্লবের পর ব্যবস্থার রূপান্তর না হয়ে কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন হয়েছিল ফলে সেখানে পুনরায় সামরিক শাসনের ছায়া নেমে আসে। বাংলাদেশ আজ সেই ব্যর্থতার পথ এড়িয়ে ব্যবস্থার মৌলিক রূপান্তরের পথে হাঁটছে। ক্রেন ব্রিনটন তাঁর ‘দ্য অ্যানাটমি অফ রেভল্যুশন’ গ্রন্থে বিপ্লবের যে ধাপগুলোর কথা বলেছেন বাংলাদেশ বর্তমানে তার কাঠামোগত সংস্কারের ধাপে অবস্থান করছে।

চিন্তার রূপান্তর ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারই এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা আজবসময়ের দাবি। বিচার বিভাগ যখন নির্বাহী বিভাগের আজ্ঞাবহ হয়ে পড়ে তখন সাধারণ মানুষের শেষ আশ্রয়স্থলটুকু ধ্বংস হয়ে যায়। আমলাতান্ত্রিক মানসিকতার আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে একে জনগণের সেবকের ভূমিকায় ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি। আলেকজান্ডার হ্যামিল্টন ও জেমস ম্যাডিসন তাঁদের ‘ফেডারেলিস্ট পেপারস’ গ্রন্থে শাসনব্যবস্থায় ক্ষমতার ভারসাম্যের যে কাঠামোর কথা বলেছেন তা আমাদের সংবিধান পুনর্গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো প্রধানমন্ত্রী বা একক ব্যক্তি স্বৈরাচার হয়ে উঠতে না পারে সেজন্য ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। রাজনৈতিক অর্থনীতির পুনর্গঠন ছাড়া এই স্বাধীনতা স্থায়ী হবে না। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ধনবৈষম্য দূর করা এবং বাজার সিন্ডিকেট বিলোপ করার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। তরুণ প্রজন্মের মেধাকে কাজে লাগিয়ে একটি স্বনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলাই হবে জুলাইয়ের শহিদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।

জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত অর্জিত পরিবর্তনগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ। মানুষ এখন কেবল ভোটের দিনের নাগরিক নয় উল্টো তারা প্রতিদিনের শাসনপ্রক্রিয়ায় নিজেদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরছে। ভয়ের দেয়াল ভেঙে যাওয়ার ফলে সৃজনশীল রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তিমোথি স্নাইডার তাঁর ‘অন টাইরানি’ গ্রন্থে দেখিয়েছেন, নাগরিকরা কীভাবে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। বাংলাদেশের তরুণরা সেই প্রতিরোধের এক জীবন্ত উদাহরণ তৈরি করেছে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে যে সুপারিশগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে তা নাগরিক অধিকারকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের পথ চিরতরে বন্ধ করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথে এক বিরাট পদক্ষেপ। ব্যাংক খাতের সংস্কার এবং লুণ্ঠিত অর্থ পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হচ্ছে। ডিজিটাল যুগের তরুণরা তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ ব্যবহার করে যেভাবে রাষ্ট্রযন্ত্রের দুর্নীতি ফাঁস করে দিচ্ছে তা আগামী দিনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।

ক্ষমতার মনস্তত্ত্ব ও স্বৈরাচারের পতনের একটি বড়ো শিক্ষা হলো জনবিচ্ছিন্নতা। জর্জ অরওয়েলের ‘নাইনটিন এইট্টি ফোর’ এবং ‘অ্যানিমেল ফার্ম’ উপন্যাস দুটি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখায় কীভাবে ভাষা ও চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করে ক্ষমতার দম্ভ বজায় রাখা হয়। বাংলাদেশেও আমরা দেখেছি কীভাবে ইতিহাসকে বিকৃত করে এবং ভিন্নমতকে স্তব্ধ করে এক অবাস্তব বয়ান তৈরি করা হয়েছিল। জুলাইয়ের অভ্যুত্থান সেই মিথ্যে প্রচারণার মায়াজাল ছিঁড়ে ফেলেছে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে আজ অনুধাবন করতে হচ্ছে, তারা কোনো ব্যক্তি বা দলের সেবক নন তারা কেবল সংবিধান ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ। ২০২৬ সালের এই জুলাই মাসে আমরা যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি সেখানে প্রতিটি নাগরিকের জীবনের মূল্য সমান হবে। কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা গুমের ভয় মানুষকে তাড়া করবে না। আইনের চোখে রাজা ও প্রজা হবে সমান এবং ন্যায়বিচার প্রাপ্তি হবে সহজলভ্য।

বিপ্লব পরবর্তী সময়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো জাতীয় ঐক্যের পুনর্গঠন। বিগত বছরগুলোতে বিভাজনের যে বিষবৃক্ষ রোপণ করা হয়েছিল তা উপড়ে ফেলা সহজ কাজ নয়। আমাদের এমন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে যেখানে ভিন্নমত কেবল সহ্য করা হবে না উল্টো তাকে সম্মান জানানো হবে। ডক্টর রউনক জাহান তাঁর গবেষণায় বাংলাদেশের ক্ষমতার এককেন্দ্রিকতার যে রূপটি দেখিয়েছেন তা থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হলো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা। দলমত নির্বিশেষে মেধার মূল্যায়ন করতে হবে এবং আমলাতন্ত্রকে দলীয়করণের হাত থেকে মুক্তি দিতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে সাজাতে হবে যেন তা কেবল চাকরিপ্রার্থী নয় উল্টো দেশপ্রেমিক ও সুনাগরিক গড়ে তোলে। উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন এবং গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি করার মাধ্যমে আমরা বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব। স্বাস্থ্যখাতে যে নৈরাজ্য ছিল তা দূর করে প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া আজ সময়ের দাবি।

ভবিষ্যৎ রূপরেখায় তরুণদের কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জুলাইয়ের বিপ্লবের অগ্রসেনানী ছিল ছাত্র সমাজ। তারা আজ কেবল রাজপথের নায়ক নয় উল্টো তাদের মেধা দিয়ে দেশ গড়ার কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছে। বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হলে দেশে স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ এবং স্বচ্ছ বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা আবশ্যক। ব্যাংক ও বীমা খাতের বিশৃঙ্খলা দূর করে অর্থনৈতিক প্রবাহ স্বাভাবিক করতে হবে। কৃষি ও শিল্প খাতের সমন্বয় ঘটিয়ে এক নতুন উৎপাদনমুখী অর্থনীতির সূচনা করতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার যে শপথ আমরা নিয়েছি তার শুরু হতে হবে প্রতিটি স্তরের ব্যক্তিগত জবাবদিহিতা থেকে। যারা দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করেছে তাদের শাস্তির মুখোমুখি করা এবং সেই অর্থ ফেরত আনা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।

জুলাইয়ের রক্তকে কেবল স্মৃতি বা আবেগে বন্দি করে রাখা আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। একে নতুন বাংলাদেশ গড়ার চালিকাশক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। জুলাইয়ের এই তপ্ত রক্ত কেবল ব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্যই ঝরেছে, নতুন কোনো স্বৈরাচার সৃষ্টির জন্য নয়। আমাদের মনে রাখতে হবে, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয় কিন্তু মানুষের অধিকার রক্ষা করার সংগ্রাম চিরন্তন। প্রতিটি নাগরিককে একজন প্রহরীর মতো সজাগ থাকতে হবে যেন কোনো অশুভ শক্তি আমাদের এই অর্জনকে নস্যাৎ করতে না পারে। জুলাইয়ের শহিদদের রক্তের প্রতিটি ফোঁটা আমাদের কাছে এক একটি পবিত্র শপথের মতো। সেই শপথ হলো এক বৈষম্যহীন সাম্যবাদী ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার। ইতিহাস আমাদের এই সুযোগ দিয়েছে এবং এই সুযোগ হেলায় হারানো হবে শহিদদের আত্মার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা। ইতিহাসের পথ ধরে আমরা যে যাত্রা শুরু করেছি সেই যাত্রা যেন এক সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের বন্দরে গিয়ে পৌঁছায়। জুলাইয়ের রক্তে যে নতুনের শপথ আমরা নিয়েছি তা আমাদের প্রতিদিনের কাজে ও চিন্তায় প্রতিফলিত হোক। এই মহাজাগরণের চেতনা আমাদের পথ দেখাবে এক শোষণমুক্ত আগামীর পানে যেখানে প্রতিটি নাগরিক তার পূর্ণ মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকবে।

জুলাইয়ের এই মহাবিপ্লব আমাদের শিখিয়েছে যে যখন সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয় তখন কোনো দেওয়ালই তাদের আটকে রাখতে পারে না। আবু সাঈদের হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা কিংবা মুগ্ধর সেই পানির বোতল হাতে এগিয়ে আসা আমাদের হৃদয়ে এক চিরস্থায়ী অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। এই বিপ্লব কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয় উল্টো এটি একটি প্রজন্মের আত্মত্যাগের ফসল। রউনক জাহান তাঁর গবেষণায় বাংলাদেশের ক্ষমতার একক কেন্দ্রিকতার যে ভয়াবহতা ফুটিয়ে তুলেছেন জুলাইয়ের এই অভ্যুত্থান সেই কেন্দ্রিকতা ভেঙে এক নতুন গণতান্ত্রিক দিগন্ত উন্মোচন করেছে। আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে মেধার বাংলাদেশ হবে ন্যায়ের বাংলাদেশ। যেখানে বিচারক তার কলম চালাতে ভয় পাবেন না, পুলিশ জনগণের বন্ধু হবে আর শাসক হবে জনগণের প্রকৃত সেবক। রক্তে ভেজা এই শপথ যেন আমাদের অলস না করে দেয় উল্টো এক নতুন উদ্যমে দেশ গড়ার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করে। সময়ের দাবি পূরণ করাই এখন আমাদের প্রধান দায়িত্ব। আমরা বিশ্বাস করি, জুলাইয়ের সেই নতুনের সূর্য আর কখনো অস্তমিত হবে না। সেই সূর্যের আলোয় আমরা খুঁজে পাব আমাদের কাঙ্ক্ষিত মুক্তি আর সম্মানের জীবন। আমরা যে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ আবাসভূমি গড়ার শপথ নিয়েছি তা পূর্ণ হবে তখনই যখন প্রতিটি শিশু নির্ভয়ে তার ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখবে এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ হবে কণ্টকমুক্ত। নতুনের এই জয়যাত্রায় আমরা সবাই একে অপরের সাথী হয়ে চলব এবং একতাবদ্ধ হয়ে একটি উন্নত সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ে তুলব যা হবে বিশ্ব মানচিত্রে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।

তথ্যসূত্র ও গ্রন্থতালিকা

১. ড্যারন আসেমোগলু ও জেমস এ রবিনসন— ‘হোয়াই নেশনস ফেইল: দ্য অরিজিনস অফ পাওয়ার প্রোস্পারিটি অ্যান্ড পভার্টি’ (২০১২)।

২. ক্রেন ব্রিনটন— ‘দ্য অ্যানাটমি অফ রেভল্যুশন’ (১৯৩৮)।

৩. জঁ-জাক রুশো— ‘দ্য সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট’ (১৭৬২)।

৪. তিমোথি স্নাইডার— ‘অন টাইরানি: টুয়েন্টি লেসনস ফ্রম দ্য টুয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি’ (২০১৭)।

৫. ডক্টর রউনক জাহান— ‘বাংলাদেশ: রাজনীতি সরকার ও শাসননীতি’ (১৯৭২)।

৬. আলেকজান্ডার হ্যামিল্টন জেমস ম্যাডিসন ও জন জে— ‘দ্য ফেডারেলিস্ট পেপারস’ (১৭৮৭-১৭৮৮)।

৭. জর্জ অরওয়েল— ‘নাইনটিন এইট্টি ফোর’ (১৯৪৯) এবং ‘অ্যানিমেল ফার্ম’ (১৯৪৫)।

৮. হানা আরেন্ট— ‘অন রেভল্যুশন’ (১৯৬৩)। ৯. দক্ষিণ এশিয়ার সমকালীন রাজনীতি ও জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সংস্কার কমিশনের খসড়া প্রতিবেদনসমূহ (২০২৪-২০২৬)।

লেখক: শিক্ষক, প্রাবন্ধিক ও কবি।