মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একগুঁয়েমির কারণে পাকিস্তানে ইরান-আমেরিকা আলোচনা ভেঙ্গে গেছে। সারা বিশ্বের দৃষ্টি ছিল পাকিস্তানের রাজধানীর দিকে নিবদ্ধ। ইরান যুদ্ধের কারণে সারা বিশ্বই বলতে গেলে ধুঁকছে। বিশ্ববাসী চেয়েছিল সেখান থেকে নিষ্কৃতি। কিন্তু আলোচনা ব্যর্থ উল্লেখ করে পাকিস্তান ছাড়েন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। যা জানা যাচ্ছে, মার্কিন পরম মিত্র ইসরাইল নাকি চায়নি এ শান্তি আলোচনা সফল হোক। বিশ্বের দুষ্ট ক্ষত ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর এক ফোন কলেই নাকি ভেঙ্গে যায় আলোচনা।
এ পর্যায়ে নতুন খবর শোনা যাচ্ছে, যুদ্ধবিরতির মধ্যেই আবার সংলাপে বসতে চায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান। মঙ্গলবার এ খবর দিয়ে আল জাজিরা জানায়, দ্বিতীয় দফা সংলাপের সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবেও পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদকে বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠক ফলপ্রসূ না হলেও কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে উভয় পক্ষই আগ্রহী। চলমান ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগেই আবারো সরাসরি সংলাপে বসতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। প্রতিবেদন প্রকাশের পর পাকিস্তানী কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে এএফপি। তারা জানান, দু’দেশের সাখে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং কূটনৈতিক উপায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার মতপার্থক্য নিরসনের চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ৬ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি টানা ২১ দিন দুই দেশের মধ্যে সংলাপ চললেও সমঝোতা ছাড়াই তা শেষ হয়। পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হঠাৎ নারকীয় হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র । একই সময়ে ইসরাইলও অভিযান শুরু করে। ইরানের পাল্টা হামলায় যুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করলে ৭ এপ্রিল যুদ্ধের ৩৯তম দিনে ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। সে ধারাবাহিকতায় ১১ এপ্রিল দু’দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রায় ২১ ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো চুক্তি ছাড়াই তা শেষ হয়। তবে জানা যাচ্ছে, প্রথম দফা আলোচনা চুক্তি ছাড়াই শেষ হলেও মাঠপর্যায়ে থাকা কারিগরি দল এবং বিষয়-বিশেষজ্ঞরা নিজ নিজ অবস্থানেই ছিলেন। তাঁরা আলোচনা, নোট বিনিময় এবং কথোপকথন চালিয়ে গেছেন। এরই ফলস্বরূপ এবং সে সাথে পাকিস্তান সরকারের মধ্যস্থতায় এখন উভয় পক্ষকে দ্বিতীয় একটি বৈঠকের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। জেডি ভ্যান্স স্বীকার করেছেন যে অগ্রগতি হয়েছে, এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিশ্চিত করেছেন যে অপর পক্ষ একটি চুক্তি করতে চায় এবং তাঁর সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে।
সুতরাং এ পরিস্থিতি, হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান তেল বিক্রি করে রাজস্ব আয় করায় তাদের হতাশা এবং তেহরানের প্রতিশোধমূলক হামলার হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে এবং এ বৃহস্পতিবারের মধ্যেই সম্ভাব্য পরবর্তী আলোচনার প্রস্তাবও দিয়েছে দেশটি। ইরান যুদ্ধ শুরুর পরই গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। ইসলামাবাদ আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত সোমবার সেখানে অবরোধ আরোপ করেন। ফলে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে। বুধবার ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেছেন যে যুদ্ধ “প্রায় শেষ” এবং আগামী দিনগুলোতে পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা মুখোমুখি আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তার কথাতে দ্বিতীয় দফা আলোচনার ইঙ্গিত মিলল। তবে যুদ্ধ বন্ধ হবে কি না বিশ্লেষকরা তার কথায় আশ্বস্থ হতে পারছেন না।
প্রথম দফা আলোচনা ব্যর্থ হলো যেভাবে : ৪৭ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনাটি ছিল দু’দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের আলোচনা। ১৯৮৯ সালে ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পর এই প্রথম কোন আমেরিকান ভাইস প্রেসিডেন্ট ইরানের কোন নেতার সাথে আলোচনায় বসেন। যুদ্ধ বিরতি চলা অবস্থায় এ আলোচনার মানে ছিল কোন কারণে তা ভেঙ্গে গেলে আবার যুদ্ধ শুরুর ঝুঁকি। শেষ পর্যন্ত সেটাই হয়েছে। ১১ এপ্রিল আলোচনা শুরু হলে পরদিন আলোচনা ব্যর্থ উল্লেখ করে দেশটি ত্যাগ করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনার পরও কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব না হওয়ায় স্থবির হয়ে পড়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা। রোববার সকালে ইসলামাবাদ থেকে ‘এয়ার ফোর্স টু’ বিমানে করে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা দেন ভ্যান্স। ভ্যান্স বলেন, “আলোচনায় যে ঘাটতিগুলো রয়ে গেছে, তার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করা যাবে না। তারা আন্তরিকভাবে আমাদের ও ইরানের মধ্যে দূরত্ব কমাতে কাজ করেছে। আমরা প্রায় ২১ ঘণ্টা আলোচনা করেছি এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়েছে এটাই ইতিবাচক দিক।” পারমাণবিক ইস্যু প্রসঙ্গে ভ্যান্স বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ছিল একটি দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা ইরান শুধু এখন নয়, ভবিষ্যতেও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। কিন্তু আমরা এখনো সে প্রতিশ্রুতি পাইনি, যদিও ভবিষ্যতে তা পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।”
ভ্যান্সের ভাষ্য, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র নমনীয়তা দেখিয়েছে এবং সমঝোতায় পৌঁছাতে আন্তরিক চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন “প্রেসিডেন্ট আমাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন সৎ উদ্দেশ্যে আলোচনা করে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে। আমরা সেটাই করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে কোনো অগ্রগতি হয়নি”। আলোচনায় মার্কিন দলে ছিলেন স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার মাঝেই দাবি করেন, ইরানী নেতাদের হত্যা ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ‘যুদ্ধক্ষেত্রে জয়ী’ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘চুক্তি হোক বা না হোক, তাতে আমার কিছু যায় আসে না কারণ আমরা জিতেছি।’ তার এ যুদ্ধংদেহি মনোভাব আলোচনাকে ভুল পথে চালিত করে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
ফার্স নিউজ-এর বরাতে জানা গেছে, হরমুজ প্রণালী, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মতপার্থক্যের কারণেই আলোচনা ভেঙে গেছে। ইরানী প্রতিনিধি দলের একটি সূত্র জানায়, “হরমুজ প্রণালী ও ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রকল্পসহ বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাকাক্সক্ষী শর্তই আলোচনার ব্যর্থতার মূল কারণ। যুদ্ধে তারা যা অর্জন করতে পারেনি, আলোচনার মাধ্যমে তা আদায় করতে চেয়েছে।” ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘আমাদের সদিচ্ছা ছিল, কিন্তু আগের যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কারণে আমরা প্রতিপক্ষকে বিশ্বাস করতে পারছি না।’ ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা চলাকালে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কাছে একটি ফোন আসে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওই ফোনকলের পর পুরো পরিস্থিতি পাল্টে যায় বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে দাবি করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, মাত্র এক রাউন্ডের আলোচনায় সব মিটে যাবে, এমনটা ভাবা অবাস্তব। কিছু বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হলেও দুই-তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনও গভীর মতভেদ রয়েছে। আলোচনায় ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
আরো যা জানা যাচ্ছে, প্রথম দফার আলোচনা ছয়টি মূল ইস্যুতে গভীর মতপার্থক্যের কারণে কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছে । কুয়েতভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল-জারিদা জানায়, আলোচনায় লেবাননে যুদ্ধবিরতি, জব্দকৃত ইরানী সম্পদ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এবং যুদ্ধজনিত ক্ষতিপূরণ, এ ছয়টি বিষয়কে কেন্দ্র করে মূল বিরোধ তৈরি হয়। প্রথমত, লেবাননে হিজবুল্লাহসহ ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়ে তেহরান স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দাবি জানালেও যুক্তরাষ্ট্র জানায়, ইসরাইলসহ তৃতীয় পক্ষের বিষয়ে তারা নিশ্চয়তা দিতে পারবে না। দ্বিতীয়ত, জব্দকৃত ইরানী অর্থ ছাড়ের বিষয়ে তেহরান দ্রুত পদক্ষেপের দাবি তুললেও ওয়াশিংটন তা বৃহত্তর চুক্তির অংশ হিসেবে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের শর্তে যুক্ত করার প্রস্তাব দেয়। তৃতীয়ত, ইরানের অভ্যন্তরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে স্থানান্তরের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অবস্থান নেয়। তবে তেহরান এটিকে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে প্রত্যাখ্যান করে। চতুর্থত, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কর্মসূচির পরিসর সীমিত করার মার্কিন প্রস্তাবও ইরান প্রত্যাখ্যান করে, এটিকে প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দেয়। পঞ্চমত, হরমুজ প্রণালী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তাব দিলেও ইরান এটিকে নিজের সার্বভৌম অধিকারের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করে। ষষ্ঠত, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের ক্ষতির জন্য কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকৃতি জানায় যুক্তরাষ্ট্র। বরং ভবিষ্যৎ দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চয়তার প্রস্তাব দেয় তারা।
হরমুজ প্রণালীতে ইরানের সাথে উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানী বন্দরগামী জাহাজে নৌ অবরোধ শুরু করেছে, হামলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে। সোমবার থেকে অবরোধ কার্যকর শুরু হয়ে গেছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরানের ‘হামলাকারী জাহাজ’ যদি যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কাছাকাছি আসে, তাহলে সেগুলো ‘ধ্বংস করে দেয়া হবে।’ তবে হরমুজ প্রণালী অবরোধের পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দিচ্ছে না সামরিক জোট ন্যাটো। ন্যাটো সূত্রে জানা গেছে, চলমান সংঘাত অব্যাহত থাকা অবস্থায় হরমুজ প্রণালীতে কোনো ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপে জড়াতে চায় না সদস্য রাষ্ট্রগুলো। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আমরা এই অবরোধকে সমর্থন করছি না। যত চাপই আসুক, আমরা সরাসরি এই যুদ্ধে জড়াব না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এ অবরোধ গুটিকয়েক জাহাজের ওপর প্রভাব ফেলবে, যেগুলো এখনো এই সমুদ্রপথ দিয়ে চলাচল করছে। এর ফলে কেবল হাতেগোনা কিছু জাহাজের চলাচল বন্ধ করবে। সামগ্রিক পরিস্থিতির বিচারে এতে খুব একটা পরিবর্তন আসবে না। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর প্রথম তিন দিনে মাত্র কয়েকটি জাহাজ এ পথ দিয়ে যাতায়াত করেছে। মেরিন ট্রাফিক থেকে পাওয়া জাহাজ চলাচলের তথ্যের বিশ্লেষণ বলছে, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ১৯টি জাহাজকে এ প্রণালী অতিক্রম করতে দেখা গেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে ঘোষণা দেয় যে, শত্রুদের কোনো জাহাজ এই পথ ব্যবহার করতে পারবে না। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ এই নৌপথ দিয়ে হয়। ফলে এই অবরোধ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে এই সরাসরি সামরিক অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
একদিকে আলোচনা পুনরায় শুরুর সম্ভাবনা অন্য দিকে হরমুজ অবরোধের নামে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধংদেহি মনোভাব ভাল বার্তা দিচ্ছে না বলে বিশ্লেষকদের অভিমত। তারা বলেন, এখন পাকিস্তানের দ্বিতীয় দফা আলোচনার উদ্যোগ কতখানি সফল হয় তা দেখার অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক।