সাইফুল ইসলাম তানভীর
২০২৪ জুলাই বিপ্লবে বাসা থেকে ওযু করেই বের হতাম। কারণ এটা বুঝতে পারতাম যেকোনো সময় শহীদ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যারা আন্দোলনে যোগদান করেননি, রাস্তায় ঘোরাঘুরি করেছেন কোন প্রয়োজনে অথবা বাসার বেলকুনিতে ছিলেন তারাও অনেকে শহীদ হয়েছেন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন। শাহজাদপুরে আমাদের অফিসের নিকটে এরকম কয়েকজন শহীদ হয়েছেন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন। শাহজাদপুরে ভিতরের রাস্তায় দোকানে কিছু কিনতে যাওয়া নিরীহ একজন শিক্ষক গুলিতে চরম গুরুতর আহত হয়েছেন। জুলাইয়ে দিল্লীর এজেন্ট লেডি লেন্দুপদর্জি শেখ হাসিনার লোকজন যেভাবে অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করেছিল তা ভয়াবহ একটি যুদ্ধের ন্যায়। এটা ভেবেই বাসা থেকে বের হতাম আমি যুদ্ধের ময়দানে বের হচ্ছি। আমার স্ত্রী এবং একমাত্র শিশু কন্যা সন্তান আমাকে বাসা থেকে বের হতে দিতে চায় নি। আমার একমাত্র কন্যা-শিশু সন্তান আমার কাছে একটি পৃথিবী। আমার কলিজার টুকরা কন্যা-শিশু সন্তানকে বিদায় দিয়ে বাসা থেকে বের হওয়া ছিল আমার কাছে বেশ কঠিন। কিন্তু বের হয়েছি দেশ রক্ষার উদ্দেশ্য। আমার সন্তান এবং দেশের আরো লাখ লাখ শিশুর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই বের হয়েছি। ২৮ অক্টোবর ২০০৬ সালের পর আমার ঠিকমত ঘুম হয় না। খুব টেনশনে থাকি। নিজের ব্যবসা আয় ইনকামের থেকে বেশি চিন্তা দেশ জাতিকে নিয়ে। ভারতীয়রা আমাদের মুসলিম বাংলাদেশকে একদম সহ্য করতে পারে না। হায়দারাবাদের কথা আমরা জানি। কাশ্মীরের কথা জানি। আমরা এটাও বুঝতে পেরেছি ২০০৬ এর ২৮ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশ ভারতের কব্জায় চলে গেছে। আমরা এটাও জানি অবিভক্ত ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা যখন তখন মুসলিমদের বর্বর ভাবে হত্যা করত। নারী শিশু বৃদ্ধ বৃদ্ধা সকলের ওপর বর্বরতা চালানো হত। সেই হিন্দুত্ববাদীদের এজেন্ট বিকৃত চরিত্রের হাসিনা। উল্লেখ্য হাসিনার নাম সম্মানজনক শব্দ ব্যবহার করে আমি সহজেই কখনও নিতে পারিনি। ২০১১ সালে আমার দেশ পত্রিকায় একটি কলাম পাঠিয়েছিলাম-সেখানে একটি বাক্য এমন ছিল হাসিনাকে অভিনয়ের জন্য কমপক্ষে এক হাজার বার অস্কার দেয়া দরকার। তখন আমার দেশ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক শ্রদ্ধেয় শাহ আহমদ রেজা ভাই বললেন একজন প্রধানমন্ত্রীকে এভাবে লেখা যায়? আসলে আমি হাসিনাকে কখনও প্রধানমন্ত্রী মনে করিনি! আমি মনে করেছি হাসিনা দিল্লীর এজেন্ট-আ’লীগ হচ্ছে ভারত কর্তৃক পরিচালিত একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। বাংলাদেশকে নির্ভয়ে ইচ্ছেমত লুটপাট করার এবং হিন্দুত্ববাদী করনের মাস্টারপ্ল্যানে ২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি আমাদের দেশপ্রেমিক সামরিক অফিসারদের হত্যা করে তারা।
জুলাইয়ের রাতে খবর দেখার সময়ে আমার বাচ্চা ঠিকই বলে উঠতো বাবা এই শয়তান আসছে! অসভ্য বর্বর হাসিনা কত শিশুকে হত্যা করেছে। কত শিশুর পিতাকে হত্যা করেছে। রিয়া গোপের কথা মনে পড়লে আমার এখনও কান্না আসে। কত ছোট্ট শিশু ছিল সে। তাকে হাসিনা বাহিনী হত্যা করল। আমার শাহজাদপুর অফিস মেইনরোড থেকে সামান্য ভিতরে। আমাদের অফিসের বেলকুনিতে প্রচুর গুলি এসে পড়েছিল। শাহজাদপুরের প্রতিটি রাস্তায় হাসিনা+ইন্ডিয়া বাহিনী গুলি করে ঝাঁজরা করে দিয়েছে। আমাদের অফিসে রাতে একটা ছেলে ঘুমাত। সে একসময় পাবনা এলাকায় ছাত্রলীগ করত। ছাত্রলীগ বাদ দিয়ে সে বিদেশে যাওয়ার নিয়ত করল। সে বলল ওদের মত আমি মাস্তানি চাঁদাবাজি করতে পারি না। ৩৬ জুলাইয়ের শেষের কয়েকদিন বাসা থেকে বের হতাম এই মনে করে আমি হয়ত আর বাসায় ফিরবো না। জুলাইয়ে একদিন সকালে বাসা থেকে বের হচ্ছি পথে দেখা এলাকার এক আ’লীগের নেতার সাথে। সে মুরব্বি টাইপের। লম্বা দাড়ি মাথায় টুপি। এলাকার সবচেয়ে বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি তিনি। মসজিদের কমিটি এবং আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তার দখলে। তিনি আমার রাজনৈতিক পরিচয় বা আদর্শ সম্পর্কে জানেন না। মাঝে মাঝে দেখা হয় সালাম বিনিময় হয়। তো তিনি জিজ্ঞেস করলেন কোথায় যাচ্ছেন? আমি বললাম অফিসে। এরপর তিনি খুশি হলেন। অর্থাৎ আন্দোলনে যাতে দেশ অচল না হয় হাসিনাকে বিদায় না নিতে হয় সেটা তাদের কামনা। তিনি নিজেই কারফিউর কথা বললেন। বললেন কারফিউ শুরু হলে জামায়াত শিবির আর টিকবে না। আমি বললাম এরকম কারফিউ তো এরশাদও দিয়েছিল। তাতে দমন করে রাখা সম্ভব হয়নি। তিনি বললেন এটা এরশাদের কারফিউ নয়, এটা আ’লীগের কারফিউ। একটা জামায়াত শিবিরও রাস্তায় টিকবে না। তিনি ছাত্রদের কথা উল্লেখ না করে বারবার জামায়াত শিবির বলতে থাকলেন। আরো বললেন এসব করতেছে জামায়াত শিবির। ওরা পাকিস্তানি। পাকিস্তানিদের এদেশে রাজনীতি করতে দেয়া হবে না। আরো অনেক বাজে মন্তব্য করলেন। আমি বললাম এবার মনে হচ্ছে সরকার আন্দোলন দমন করে রাখতে পারবে না। রাস্তা ঘাটের অবস্থা ভালো না। কেমন যেন লাগছে। এই আলাপের পরও তিনি আমার ওপর ক্ষেপেন নি! উল্লেখ্য এই আ’লীগ নেতা এক সময়ে জাতীয় পার্টি করত এবং বিএনপিও করত। বিএনপির এক নেতার তিনি পিএস ছিলেন (১৯৯১-১৯৯৫) যিনি প্রতিমন্ত্রী ছিলেন (২০০১-২০০৬)। মুদ্রার এপিট ওপিট।
এই ঘটনার কিছুদিন পূর্বে জুলাইয়ের শুরুর দিকে যখন রাস্তায় গাড়িও চলে আন্দোলনও চলতে থাকে। তখন ধানমন্ডি এলাকায় পাবলিক বাসে ভ্রমণের সময়ে আমার পাশের সিটে শিক্ষিত এক বয়স্ক ব্যক্তি ছিলেন। তিনি সরকারি চাকরি থেকে রিটায়ার করেছেন। আন্দোলন নিয়ে তিনিও বাজে মন্তব্য করলেন। এবং জামায়াত শিবির বার বার উচ্চারণ করলেন। বললেন-কিসের ছাত্র? এসব করছে জামায়াত শিবির। জঅই এবং পুলিশ প্রয়োজনে ৫০০/১০০০ জামায়াত শিবির গুলি দিয়ে মেরে ফেলবে তারপরও রাস্তায় আন্দোলন চলতে দেয়া হবে না।
বাসায় আমার স্ত্রীকে বুঝাতে অনেক কষ্ট হতো। আন্দোলনে রাজপথে বের হব এটা জেনে আমার স্ত্রী টেনশন করতেন মারাত্মক ভাবে। আমি বারবার কাশ্মীর হায়দারাবাদ সিকিম ফিলিস্তিন সম্পর্কে বুঝাতাম। আমার স্ত্রী সমাজ বিজ্ঞানের ছাত্রী ছিলেন। ইতিহাস খুব জানেন না। বললাম যদি বসে থাকি আন্দোলনে না যাই তাহলে হয়ত আমাদের দেশের অবস্থা কাশ্মীর ফিলিস্তিন হায়দারাবাদ সিকিমের মত হতে পারে। আমি হয়ত পৃথিবী থেকে বিদায় নিব আমার সন্তান এবং মুসলিম দেশের লক্ষ লক্ষ শিশুরা মা বোনেরা কি পরিস্থিতির মধ্য পড়বে? দেশ স্বাধীন নেই। দেশ দিল্লীর আন্ডারে। দেশকে স্বাধীন করতেই হবে। ওযু করে বাসা থেকে বের হওয়ার পূর্বে বাচ্চার গায়ে সূরা ফাতেহা সূরা ইখলাস পড়ে ফু দিয়ে, চুমু দিয়ে বের হতাম। আ’লীগের আদর্শটা আমার কাছে ছোটবেলা থেকেই নোংরা লাগতো। আমার দাদা আ’লীগ করতেন। শৈশবে দাদার সাথে এটা নিয়ে বিতর্ক করতাম। তবে দাদা শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর আ’লীগ করতেন। না বুঝে তিনি শেখ মুজিবেরও ভক্ত হয়েছিলেন। এমনকি আমার বড় চাচা আ’লীগ কর্মী, মেঝ চাচাও আ’লীগ কর্মী। আব্বা দাদার তৃতীয় ছেলে। ছোট দুই চাচা আ’লীগ করেন না। আব্বা শৈশব থেকেই আমাকে আ’লীগের বিষাক্ত আদর্শ সম্পর্কে বুঝিয়েছেন। আব্বা বলতেন এটা ভারত কেন্দ্রিক উগ্র একটি দল। ব্যক্তিগত ভাবে ১৯৯৯ সাল থেকে রাজপথে আ’লীগ হাসিনার বিরুদ্ধে রাজপথে আছি। ১৯৯৯ সালে চারদলীয় জোট হয়। সেসময় থেকে রাজপথে বড় বড় আন্দোলনে অংশগ্রহণ করি। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর। ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সহ বড় বড় আন্দোলন গুলোতে যোগদান করেছি। সেসব আন্দোলনের বহু মানুষ শহীদ হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন। জেলে গিয়েছেন। মহান আল্লাহ আমাকে সেই পরিস্থিতিতে ফেলেননি। রাজপথে আন্দোলনে থাকার প্র্যাকটিস থাকায় জুলাই বিপ্লবে মোটেও বিচলিত হইনি। খারাপ লেগেছে রাজনৈতিক দলের অনেক ভাইদের ভীরুতা কাপুরুষতায়। তাদের অনেকে ঝুঁকি নিতে চাননি। পরিস্থিতি দেখেছেন। ঝুঁকিমুক্ত পরিবেশে তাদের অনেকে রাস্তায় নামতে চেয়েছেন। যেমন আমার বাসার পাশের এক মুদি দোকানদারকে বারবার বললাম আন্দোলনে যোগ দিতে। তিনি বিএনপি ওয়ার্ড কমিটির একজন সদস্য। মুদি দোকানদার হলেও কিছু লেখা পড়া জানেন। স্থানীয়। কমপক্ষে দুইশ কোটি টাকার জমির মালিক তিনি। তার এই ব্যবসা ছাড়াও অন্যান্য আরো ব্যবসা আছে। তাকে বহুবার বুঝিয়েছি আপনার দোকানে ইন্ডিয়ান পণ্য রাখিয়েন না। তখন ইন্ডিয়ান পণ্য বর্জন চলছিল। কিন্তু তিনি সেটা তো করলেনই না। উল্টো সমালোচনা করলেন। বললেন এসব পণ্য বর্জন করে কি হবে। ইন্ডিয়ান পণ্য না হলে দেশ চলবে? ইত্যাদি। জুলাই আন্দোলনে তিনি যোগ দেয়ার কথা বলেও যোগ দেননি। আমি বারবার জামায়াতের নেতাদের সাথে যোগাযোগ করলাম। জানতে চাইলাম বড় করে সরকার পতনের আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি আছে কিনা। সকলের সাথেই কথা বলা সম্ভব হয়নি। অনেকেই বললেন আমাদের ছাত্রসংগঠন ছাত্রশিবির এই আন্দোলনে যথাযথ ভূমিকা রাখছে। এবং জামায়াতের লোকজনও রাজপথে আছে বিচ্ছিন্নভাবে। নিজ নিজ দায়িত্বে। ১৭ জুলাই আমার বন্ধু ইঞ্জিনিয়ার জিকরুল ইসলাম ইমরানকে নিয়ে বাড্ডার রাস্তায় আন্দোলনে অংশগ্রহণ করলাম। সেদিন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের ভূমিকা দেখে অভিভূত হয়েছি। বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদেরও দেখলাম। সেদিন জঅই হেলিকপ্টার নিয়ে বাড্ডার রাস্তার ওপর দিয়ে সন্ত্রাস করছিল। ইঞ্জিনিয়ার জিকরুল ইসলাম ইমরান বনানী থানার যুব জামায়াতের বিভাগের প্রধান। তিনি কিছুক্ষণ বাড্ডার রাস্তায় থেকে মহাখালী চলে গেলেন আন্দোলনে। আমি রাত পর্যন্ত থাকলাম। রাজপথের আন্দোলন থেকে রাতে বাসায় এসে ঘুমাতে পারিনি। এমনিতেই বহু বছর যাবৎ রাতে আমার ঘুম হয় না। কখন আমাদের দেশ ভারতীয় আধিপত্যবাদ থেকে মুক্ত হবে সেই চিন্তায়। ১৮ জুলাই বৃহস্পতিবার ছিল একটি ভয়ানক দিন। সেদিন হাসিনা বাহিনী চরম বর্বরভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটায়। নিরীহ শিক্ষার্থীদের ওপর ভয়াবহ আক্রমণ করে। শুধু গুলির আওয়াজ। সেদিন শাহজাদপুর কনফিডেন্স টাওয়ারের সামনে আন্দোলনে অংশ নিই। পুরো আন্দোলনে লেখক সাংবাদিক হাসান সাইদুলের সাথে আমার নিয়মিত যোগাযোগ থাকে। সে আমার বন্ধু এবং ছোট ভাইয়ের মত। সাংবাদিক হাসান সাইদুল জীবনের রিস্ক নিয়ে আন্দোলনের অনেক ভিডিও করেন। জুলাই বিপ্লবের মাসেই হাসান সাইদুল বিয়ে করে। তার একটা স্বপ্ন ছিল দেশ স্বাধীন হলে বিয়ে করবে। কিন্তু পারিবারিক কারণে তাকে জুলাই মাসেই বিয়ে করতে হয়েছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর হাসান সাইদুল খুব খুশি হয়। আন্দোলনে সাংবাদিকগণও শহীদ হয়েছেন। যেমন সিলেটে নয়া দিগন্তের ব্যুরো প্রধান এ টি এম তুরাবকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই আন্দোলন বিপ্লবে সোশ্যাল মিডিয়ার বড় একটা ভূমিকা ছিল। যদিও হাসিনা বারবার ইন্টারনেট বন্ধ করে রেখেছিল। মাহমুদুর রহমান, পিনাকী ভট্টাচার্য, কনক সরোয়ার, আবুল ফজল আনসারী, ইলিয়াস হোসেন, রেজা আহমেদ ফয়সাল চৌধুরী, নায়েব আলী, মোস্তাফিজুর রহমান টিটু, নাজমুস সাকিব, হাসিনা বেগমসহ অনেকেই ভূমিকা রেখেছেন। তবে তারা কেউ কেউ বিতর্কিত ছিলেন। তারা কেউ কেউ বিভিন্ন বিবাদে জড়িয়েছেন। মাহমুদুর রহমান তুর্কি থেকে বেশ সাহস জুগিয়েছেন। পিনাকী, ইলিয়াসের কথা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
ঢাকা ইউনিভার্সিটির একজন ছাত্রীর সাথে জুলাইয়ে আমার যোগাযোগ থাকে নিয়মিত। তিনি রোকেয়া হলে থাকতেন। তিনি বারবার আমাকে ম্যাসেজ করতেন। জামায়াত শিবিরের সহযোগিতা কামনা করতেন। তিনি অত্যন্ত রিস্কে ছিলেন। তাদের কয়েকজনের নেতৃত্বে রোকেয়া হল থেকে ছাত্রলীগকে গণধোলাই দিয়ে বের করা হয়। এই ছাত্রী ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাস নিয়ে প্রচুর স্টাডি করেন। তিনিও চেয়েছিলেন বাংলাদেশ ভারতীয় আধিপত্যবাদ থেকে মুক্ত হোক।
জুলাইয়ে গাজীপুরের জামায়াত ইসলামের শক্তিশালী ভূমিকা ছিল। তাদের সাথেও আমার যোগাযোগ হয়েছিল। গত সাড়ে পনের বছর হাসিনার সময়ে বহু লোকের সাথে চ্যালেঞ্জ করেছিলাম-যে একদিন আসবে হাসিনা দিল্লিতে পালাবে। তারা আমার এই কথায় হাসত! আলহামদুলিল্লাহ। মহান আল্লাহ আমাদের দেশকে স্বাধীন করেছে। এই স্বাধীনতা ধরে রাখতে হবে আমাদের সকলের। যারা জুলাইয়ের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না তারা ভারতীয় সেবাদাস! এখনও দেখছি তরুণ জেনজিদের গ্রাফিতিতে জুলাইকে স্বাধীনতার মাস হিসেবে উল্লেখ করা। অথচ ভারতীয় এজেন্টরা সেটা মানছে না।