‘দেশি পশুতেই চাঙা কুমিল্লা’। এটি মফঃস্বলের একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম। প্রতিবেদনটি মফঃস্বলের হলেও জাতীয় জীবনে এর গুরুত্ব রয়েছে। এখানে যে বার্তা রয়েছে তা শুধু অর্থনৈতিক দিক থেকে নয়, জাতির সম্মানের দিক থেকেও আনন্দের। এক সময় বলা হতো, আমরা নাকি প্রতিবেশী দেশের পশুসম্পদের ওপর নির্ভরশীল, তাদের গরু না হলে নাকি আমাদের ঈদ হয় না। কিন্তু এখনকার বাস্তবতা কেমন? প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ভারতীয় গরুর প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে কঠোর নজরদারি ও প্রশাসনের সক্রিয়া অবস্থানে স্বস্তি ফিরেছে কুমিল্লার খামারিদের মাঝে। তাদের আশা, ঈদ পর্যন্ত এমন নজরদারি বজায় থাকলে এবারের কুরবানি হাটে দেশি পশুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যানিুযায়ী, কুমিল্লার ১৭ উপজেলায় এবার কুরবানির জন্য প্রায় দুইলাখ ৬০ হাজার গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। এর বিপরীতে জেলার চাহিদা দুই লাখ ৪৭ হাজারের কিছু বেশি। ফলে জেলার চাহিদা মিটিয়েও ১২ হাজারের বেশি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে, যা দিয়ে প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী অন্য জেলার চাহিদা পূরণ করা যাবে। কুরবানির ঈদ সামনে রেখে জেলার ছোট-বড় খামারিরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন পশুর পরিচর্যায়। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজা করা হচ্ছে গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ। এবার কুমিল্লায় কুরবানির জন্য প্রস্তুত করা পশুর মধ্যে রয়েছে-গরু এক লাখ ৯৯ হাজার, মহিষ পৌণে দুই হাজার, ছাগল প্রায় ৫৫ হাজার, ভেড়া সোয়া তিন হাজার এবং অন্যান্য পশু প্রায় ২০০। খামারি ও গৃহস্থরা জানান, চাহিদার তুলনায় বেশি পশু থাকায় জেলার বাইরেও বিক্রির পরিকল্পনা করছেন তারা। এ জন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও পশু বিক্রি শুরু হয়েছে। লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, গ্রাহকদের চাহিদার দিকে লক্ষ্য রেখেছেন খামারিরা। এ কারণে কুরবানির পশুর রকম ও সংখ্যায় লক্ষ্য করা যাচ্ছে বৈচিত্র্য। আর যুগের হাওয়া লেগেছে মফঃস্বলেও। প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পশু বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছেন খামারি ও গৃহস্থরা।
তবে কিছু অভিযোগও রয়েছে খামারিদের। তারা জানান, পশুখাদ্যের দাম বাড়লেও সে অনুপাতে মাংসের দাম বাড়েনি। এমন পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চললে অনেকেই খামার ব্যবসা থেকে সরে যেতে পারে বলে আশংকা রয়েছে। জেলার প্রায় আড়াই হাজার খামারি এবারের ঈদকে কেন্দ্র করে পশু লালন-পালন করেছেন। পাশাপাশি অনেক গৃহস্থ পরিবারও নিজেদের উদ্যোগে গরু, ছাগলসহ বিভিন্ন পশু মোটাতাজা করেছেন। হাটে দেশি গরুর পাশাপাশি পাওয়া যাবে ব্রাহমা, ফ্রিজিয়ান ও শাহিওয়াল জাতির গরুও। খামারিরা বলেছেন, বাজারে ভারতীয় গরু না এলে আমরা লাভবান হবো। এদিকে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলেন, সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় কুমিল্লায় ভারত থেকে যাতে অবৈধভাবে কোনো পশু প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য বিজিবি, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সমন্বয়ে কাজ করা হচ্ছে। বিজিবি থেকে বলা হয়, সরকারের নির্দেশনা অনুায়ী ভারতীয় গরু বাংলাদেশে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। গরু চোরাচালান বন্ধে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। আর এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পশু সম্পদে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠেছি।