বাংলাদেশে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার এপ্রিল মাসে আবারো ঊর্ধ্বমুখী। এ হার বেড়ে ৯.০৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে বলে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জানাচ্ছে। জানা যায়, গত এপ্রিল থেকে সার্বিক মূল্যস্ফিতি বেড়েছে। এর চাপটা পড়েছে ভোক্তাদের মধ্যে, বিশেষত অস্বস্তি বেড়েছে খাদ্য মূল্যস্ফিতি ও খাদ্য বহির্বূত মূল্য স্ফিতিতেও। বিবিএস এর হালনাগাদ এ তথ্য গত বুধবার প্রকাশ করেছে। মার্চে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮.৭১ শতাংশ। তবে খাদ্য বহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতির হার সর্বোচ্চ ৯.৫৭ শতাংশে পৌঁছেছে। বিবিএসের প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা গেছে, গত ২০২৫ সালে দেশে মূল্যস্ফীতির হার একই সময়ে ৯ শতাংশের বেশি ছিল। হালনাগাদ এপ্রিলের তথ্য মতে, এখন সে পথেই যাচ্ছে মূল্যস্ফীতির হার। খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতির হার জাতীয়ভাবে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে মার্চের তুলনায় বেড়ে ৮.৩৯ শতাংশ হয়েছে। মার্চে ছিল ৮.২৪ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের এপ্রিলে ছিল ৮.৬৩ শতাংশ।

গ্রামের মানুষও মূল্যস্ফীতির চাপে পড়েছে। খাদ্যশস্য উৎপাদনকারী গ্রামের সাধারণ কৃষকও ভালো নেই। হাওরের পরিস্থিতি তাদের একটি অংশকে কাবু করেছে। মূল্যস্ফীতির চাপে তারাও পিষ্ট হচ্ছেন। গ্রামেও মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে জাতীয়কে অতিক্রম করেছে। খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতির হার মার্চের ৮.০২ শতাংশ থেকে বেড়ে এপ্রিলে ৮.২৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা ২০২৫ সালের এপ্রিলে ছিল ৮.৪০ শতাংশ। আর খাদ্য বহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি এখন সর্বোচ্চ ৯.৮১ শতাংশ, যা মার্চ মাসে ছিল ৯.৩৮ শতাংশ। ২০২৫ সালের এপ্রিলে এ হার ছিল ৯.৮৬ শতাংশ বলে বিবিএসের তথ্য থেকে জানা গেছে।

মূল্যস্ফীতির যাঁতায় রয়েছে শহরের মানুষগুলোও। এপ্রিল মাসে শহরে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯.০২ শতাংশ। যা গত মার্চে ছিল ৮.৬৮ শতাংশ এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলে ছিল ৯.৫৯ শতাংশ। খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতির হার এপ্রিলে বেড়ে হয়েছে ৮.৮১ শতাংশ। যা মার্চে ছিল ৮.৭৮ শতাংশ। ২০২৫ সালের এপ্রিলে ছিল ৯.১৩ শতাংশ। অন্য দিকে, খাদ্য বহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে এপ্রিলে ৯.১৫ শতাংশ হয়েছে। গত ২০২৫ সালের এপ্রিলে এই হার ছিল ৯.৮৮ শতাংশ বলে বিবিএস জানায়।

বিবিএসের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, চলতি বছর এপ্রিল মাসে জাতীয় পর্যায়ে মজুরি হার (সাধারণ) কিছুটা বেড়ে ৮.১৬ শতাংশ হয়েছে। তবে এ মজুরি হার মূল্যস্ফীতির হারের নিচেই চাপা পড়ে আছে। মার্চ মাসে এই হার ছিল ৮.০৯ শতাংশ। আর ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ছিল ৮.১৯ শতাংশ। এপ্রিলে তিনটি বৃহৎ খাতে কৃষি, শিল্প এবং সেবা খাতে মজুরি হার পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে বেড়েছ। কৃষি খাতে ৮.১৯ শতাংশ, শিল্প খাতে ৮.০৯ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৮.৩১ শতাংশ হয়েছে। যা চলতি বছর মার্চ মাসে ছিল কৃষিতে ৮.১১ শতাংশ, শিল্পে ৮.০২ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৮.২৩ শতাংশ। অন্য দিকে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসের তুলনায় অনেক কমেছে। পরিসংখ্যান ব্যুরো বলছে, দেশের ৬৪টি জেলা হতে নির্ধারিত সময়ে এপ্রিল ২০২৬ মাসের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহপূর্বক প্রাপ্ত উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এপ্রিল ২০২৬ মাসের মজুরি হার সূচক প্রস্তুত করা হয়েছে। এপ্রিল ২০২৬ এ মজুরি হার সূচক সাধারণ/জাতীয়পর্যায়ে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে শতকরা ৮.১৬ ভাগ নিরূপিত হয়েছে।

জ¦ালানি মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন খরচ বাড়ে। আর এর ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। ফলে ভোক্তাদের আগের চেয়ে বেশি দামে পণ্য কিনতে হয়। মূল্যস্ফীতি তখন ঘটে, যখন সময়ের সঙ্গে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে। ফলে টাকার মান কমে যায়। এ জন্যই চাল কিংবা অন্য যেকোনো পণ্য এখন আগের তুলনায় বেশি দামি লাগে। তখন টাকা আগের মতো জিনিস কিনতে পারে না।

মূল্যস্ফীতি বাড়লে সীমিত ও মধ্য আয়ের মানুষের কষ্ট বাড়ে, কারণ আয় না বাড়লে সংসার চালানোর খরচ বেড়ে যায়। মূল্যস্ফীতির তুলনায় আয় বা মজুরি কম বাড়লে প্রকৃত আয় কমে যায়, ফলে ধারদেনা করতে হয় বা প্রয়োজনীয় খরচ কমাতে হয়। আর মূল্যস্ফীতি কমা মানে দাম কমা নয়, বরং দাম বৃদ্ধির হার কিছুটা কমা। আমরা মনে করি মূল্যস্ফিতি বৃদ্ধির এই ধারা বন্ধ করতে হবে, লাগাম টেনে ধরতে হবে। তা না হলে মধ্যত্তি ও নিম্ববিত্তের কষ্টের সীমা থাকবে না। সরকার ও সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কাছে এ বিষয়ে যথাযথ উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানাই।