গাজা উপত্যকায় ইসরাইল আরোপিত অবৈধ অবরোধ ভাঙার সক্ষমতা কি বর্তমান সভ্যতা ও বিশ্বব্যবস্থার নেই? এমন প্রশ্ন ওঠার সঙ্গত কারণ রয়েছে। ইসরাইলের অবরোধ ভাঙতে গত এপ্রিল মাসে ত্রাণ সরবরাহ নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার নতুন নৌবহর। কিন্তু ২৯ এপ্রিল গাজা থেকে বহু দূরে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমাতেই তা আটকে দেয় ইসরাইলি সেনারা। ত্রাণবহরে থাকা কর্মীদের মারধর ও যৌন হয়রানি করার অভিযোগও উঠেছে। শুক্রবার গাজামুখী ত্রাণবহরের অন্যতম আয়োজক সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল কমিটি টু ব্রেক দ্য সিজ অন গাজার’ প্রধান ইউসুফ আজিসার পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এ অভিযোগ করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, নৌবহরে অংশ নেওয়া কর্মীরা তাদের ওপর চালানো ইসরাইলিদের নির্যাতনের সাক্ষ্য দিয়েছেন। মুক্ত হয়ে আসা কর্মীরা জানান, ইসরাইলি সেনারা তাদের লক্ষ্য করে মারধর, টানাহেঁচড়া, এমনকি যৌন হয়রানিও চালিয়েছে। এছাড়া দীর্ঘ সময় তাদের হাত ও চোখ বেঁধে ফেলে রাখা হয়েছে।
ইসরাইলি সেনাদের আচরণকে মানবিক সম্মানের ভয়াবহ লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন ইউসুফ আজিসা। এ ধরনের সহিসংসতা ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের সঠিক প্রকৃতি তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে অপরাধপ্রবণতা, নিষ্ঠুরতা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের ক্ষেত্রে তাদের ভয়াবহতা এর মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। বিবৃতিতে ইসরাইলি হামলার জেরে বিশ্বের দুর্বল প্রতিক্রিয়ায় ক্ষোভ জানান তিনি। আজিসা বলেন, ‘জায়নবাদী কর্তৃপক্ষ যা করেছে, তাতে বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া ও নিন্দা জানানোর স্বল্পতায় আমরা হতবাক হয়েছি। তিনি বলেন, ‘ইসরাইলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া এখন জরুরি, কেননা যথার্থ জবাবদিহির অভাবে তারা সহিংসতার সীমা ছাড়িয়েছে।’
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার অংশ হয়ে ইসরাইলের হাতে আটক ব্রাজিলের অধিকার কর্মী থিয়াগো আভিলা ও স্পেনিশ-সুইডিশ নাগরিক আবু কুশককে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ইউসুফ আজিসা। উল্লেখ্য, প্রায় ১৯ বছর ধরে ইসরাইল ২৪ লাখ মানুষের বাসস্থান গাজায় কঠোর অবরোধ বজায় রেখেছে এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ভয়াবহ আগ্রাসন শুরু করেছে। আগ্রাসনের ভেতর অবরুদ্ধ উপত্যকার সীমানায় আরো কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে দখলদার ইসরাইলিরা। ইসরাইলের আগ্রাসনে গাজায় ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। ইসরাইলের আগ্রাসন ও যুদ্ধাপরাধের ঘটনা নতুন কোনো বিষয় নয়। বছরের পর বছর ধরে এই অপরাধ চলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সভ্যতার শাসকরা তা মেনে নিচ্ছেন কেমন করে? বর্তমান সভ্যতাকে তো এর জবাব দিতে হবে।