ইরান যুদ্ধের কারণে জ¦ালানি সংকটের কারণে ধরে বাজারে সব জিনিসের দাম লাগাম ছাড়া। বলতে গেলে দ্রব্যমূল্যের অসহনীয় চাপে খেটেখাওয়া মানুষ। জ¦ালানি তেলের দাম আপাতত বাড়ানো হবে না বলে সরকারের তরফ থেকে বারবার বলা হলেও শেষ পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে। এর কারণে বাড়ানো হয়েছে বাস ও লঞ্চভাড়া। ফলে দ্রব্যমূল্যে তার চাপ পড়ছে। এখন জানা যাচ্ছে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক চাপ সামাল দিতে এবার বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির পথে এগোচ্ছে সরকার। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করাও হয়েছে ইতোমধ্যে। গণশুনানি শেষে দাম বাড়ানো হবে।
পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, দেশে বিদ্যুতের ঘাটতির লোকসান কমাতে পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়াতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বরাবর আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) করা ওই আবেদনে বিদ্যুতের দাম কমপক্ষে ১৭ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ২১ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। বুধবার বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ পিডিবির আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আমরা পিডিবির প্রস্তাব পেয়েছি। সেখানে পাইকারি বিদ্যুতের দাম ১৭ শতাংশ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। কারিগরি কমিটি পিডিবির প্রস্তাব পর্যালোচনা করবে।
খবরে আরো বলা হয়েছে, এর আগে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সবশেষ বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিল। এ সময় খুচরা পর্যায়ে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল বিদ্যুতের দাম। এতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের পাইকারি দাম গড়ে ৬ দশমিক ৭০ টাকা ৩৪ পয়সা থেকে বেড়ে ৭ দশমিক ৪ টাকা হয়েছিল। বর্তমানে পিডিবির আবেদনে ১৭ থেকে ২১ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দাম বাড়ানো হলে বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের দাম ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৪৮ পয়সা বাড়বে।
জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল বিদ্যুতের দাম পর্যালোচনা করে দাম বৃদ্ধির সুপারিশ করতে ৬ সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। পিডিবির প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে পাইকারি ট্যারিফ ইউনিটপ্রতি ৫০ পয়সা বাড়ালে সরকারের ভর্তুকি ৫ হাজার ২৪৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা কমবে। পাশাপাশি ১ টাকা বাড়ালে ১০ হাজার ৪৮৯ কোটি ১৬ লাখ টাকা এবং ১ টাকা ২০ পয়সা বাড়ালে ভর্তুকি কমতে পারে ১২ হাজার ৫৮৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সাথে যুক্ত আছে অনেক কিছু। বাসভাড়া, লঞ্চভাড়া ও বিদ্যতের দাম বাড়ার সম্মিলিত ফল কি হতে পারে তা ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন। এর ফলে পাইকারী পর্যায়ে তো বটেই ভোক্তা পর্যায়েও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাবে আর এ মূল্য বৃদ্ধি সমাজে ক্রেতা সাধারণের মধ্যে একটি অসহনীয় পরিস্থিতিরি সৃষ্টি হবে। বিগত স্বৈরাচারী আওয়ামী আমলে বিদ্যুৎ খাতে কুইক রেন্টাল প্রকল্পের নামে লুটপাট হয়েছে। সুকৌশলে সেগুলো করা হয়েছে, আর দেশ ফোকলা হয়েছে। জানা যায়, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০’ এর আওতায় উন্মুক্ত দরপত্র বা ক্রয় প্রক্রিয়া ছাড়াই বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের অযাচিত প্রস্তাব অনুমোদনের নামে অন্যায্য সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। আর এর ফলে হয়েছে যথেচ্ছা লুটপাট। গত ১৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের (পাবনা-৫) এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে বিদ্যুৎমন্ত্রীর কথাতে তা উঠে এসেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু লিখিত জবাবে জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০’ জারি করা হয়। এ আইনের আওতায় কোনও ধরনের উন্মুক্ত দরপত্র বা ক্রয় প্রক্রিয়া ছাড়াই বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের অযাচিত প্রস্তাব অনুমোদনের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।
আমরা জানি, তার পর থেকে চলছে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির এই ধারা। এ দুষ্ট চক্রের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এক দিকে সীমাহীন লোড শেডিং অন্য দিকে বিদ্যুতের এই মূল্য বৃদ্ধি মানুষকে বিপন্ন করে তুলছে। আমরা মনে করি বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারকে বিশেষ বিবেচনা বোধ থেকে দেখতে হবে। কারণ এর প্রভাবে দ্রব্যমূল্য আরো বৃদ্ধি পাক আমরা তা চাই না। তেমনিভাবে চাই না বিদ্যুতের অযাচিত মূল্যবৃদ্ধি। এ ক্ষেত্রে জনসাধারণের কথাও ভাবতে হবে।