ইরান যুদ্ধের কারণে দেশে জ্বালানি সংকট চলছে। ফলে বিভিন্ন খাতে দেখা দিয়েছে নানাবিধ জটিলতা। ভোগান্তি পোহাচ্ছে সাধারণ মানুষ। জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে সর্বত্র। পেট্রোল পাম্পে তেল ডিজেলের সংকট। সেখানে দীর্ঘ সারি। তেলের দাম বাড়ানোয় যানবাহনের ভাড়া বেড়েছে। ফলে বাড়ছে দ্রব্যমূল্য। গ্রাম ও শহর সবখানেই চলছে বিদ্যুতের লোড শেডিং। গরমে মানুষের ত্রাহি অবস্থা। কৃষকদের সেচ কাজ ব্যাহত হচ্ছে। জ্বালানি সংগ্রহে তাদের ভোগান্তির সীমা নেই। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে জানা নেই কারো। জনগণের সংকটের কথা ভেবে জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় করণীয় নির্ধারণে সরকার ও বিরোধী দল এক সাথে কাজ করতে চায়। এই লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ১০ সদস্য বিশিষ্ট বিশেষ কমিটি গঠিত হয়েছে। এ উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। সংকট মোকাবেলায় করণীয় নির্ধারণে কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমীর ডা: শফিকুর রহমান। অবশেষে সেই কমিটি গঠিত হলো।
পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি দলের পাঁচজন ও বিরোধী দলের পাঁচজনকে নিয়ে এ কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করলে স্পিকার তা অনুমোদন করেন। কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা ডা: মো: শফিকুর রহমান সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি জাতীয় সমস্যা সমাধানে সংসদ কেন্দ্রবিন্দু হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার বিরোধীদলীয় নেতা একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করেছিলেন। আমরা সবাই আলোচনা করে একমত হয়েছিলাম, কারণ এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। বিরোধীদলীয় নেতা তার বক্তব্যে যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তা যৌক্তিক। তারা প্রস্তাব দিয়েছিলেন যে সরকারি ও বিরোধী দল মিলে একসাথে কাজ করতে পারি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে আমাদের পক্ষ থেকে একটি কমিটির প্রস্তাব করছি। আমরা পাঁচ সদস্যের নাম দিচ্ছি। বিরোধী দলকে অনুরোধ করব তারাও যদি পাঁচটি নাম দেয়, তাহলে এ ১০ জন সদস্য বসে আলোচনা করতে পারে। কোনো পরামর্শ থাকলে এ কমিটির মাধ্যমে সেটি সরকারের কাছেও আসবে। সরকার তা কার্যকর করার উদ্যোগ নিবে। দেশের মানুষের স্বার্থে যেকোনো বিষয়ে, যে কারো সাথে আলোচনার পথ উন্মুক্ত থাকবে। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, কমিটির সুপারিশ যাতে বাস্তবায়নের মুখ দেখতে পারে, সেজন্য জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদকে সভাপতি করার প্রস্তাব করা হচ্ছে। বিরোধীদলীয় নেতা তার প্রস্তাবকে সংসদ নেতা ইতিবাচকভাবে নেয়ায় ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমরা আশা করি এ সংসদ জাতীয় সব সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু হবে।
বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে প্রধান করে গঠিত কমিটিতে সরকারি দলের পাঁচ সদস্যের অন্যরা হলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সরকারদলীয় হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান) এবং সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম খান শান্ত ও মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনাকালে বিরোধীদলের পাঁচ সদস্যের নাম ঘোষণা করেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান। কমিটির সদস্যরা হলেনÑ সাইফুল আলম খান, নুরুল ইসলাম, আবদুল বাতেন, মোহাম্মদ আবুল হাসনাত, মুফতি মাওলানা আবুল হাসান।
আমরা মনে করি সরকারী ও বিরোধীদলীয় সমন্বয়ে এ কমিটি গঠন একটি ভাল উদ্যোগ হিসেবে হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তাদের কার্যক্রমের মধ্যদিয়ে জাতি সংকট উত্তরণের দিশা পাবে। সরকারি ও বিরোধী দলের সম্মিলিত উদ্যোগের ফলে তাদের মধ্যকার সম্প্রীতির বন্ধন জাতীয় জীবনে উপকারে আসতে পারে। অতীতে স্বৈরাচারী আমলে বিরোধীদলের প্রতি কুৎসা রটনায় সরকারি দলকে বেশি ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে সেই ধারা থেকে বের হয়ে আসা উচিত বলে আমরা মনে করি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশের মানুষের স্বার্থে যেকোনো বিষয়ে, যে কারো সাথে আলোচনার পথ উন্মুক্ত থাকবে। আমরা তার এ বক্তব্যকে সাধুবাদ জানাই। যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেয়ার জন্য বিরোধীদলীয় নেতাকেও ধন্যবাদ জানাই। যৌথ কমিটির কাজের মাধ্যমে সংকট মোকাবেলায় সাফল্যও আমরা আশা করি।