গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা। ছাত্র জীবনের প্রথম পাবলিক পরীক্ষা হিসেবে এসএসসির গুরুত্ব অপরিসীম। এই পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ছাত্রছাত্রীর জীবনের বাকি পথ নির্ধারিত হয়। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১০টি বছর অধ্যয়নের পর ছাত্রছাত্রীরা এই পরীক্ষায় বসার সুযোগ পায়। বাবা মায়েরও অনেক স্বপ্ন থাকে একে ঘিরে। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিল ২৫ হাজার ৪০৮ জন পরীক্ষার্থী। আর ছয়জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শিক্ষার্থীর এতো অধ্যবসায়, এতো পরিশ্রম এবং অভিভাবকদের বিশাল অর্থ খরচের পথ ধরে আসে এসএসসির মতো গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষা। অথচ জীবনের এই প্রথম পরীক্ষায় অংশ না নেয়ার মধ্যদিয়ে প্রথম ধাক্কাটি খায় শিক্ষার্থীরা। যে শিক্ষার্থী এসএসসি পর্যায়ের পাবলিক পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকে। শুধু প্রথম দিনেই নয়, অতীতে দেখা গেছে, পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতেও কিছু কিছু পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকে। বিগত বছরগুলোতেও অনুরূপ চিত্র দেখা গেছে। পরিসংখ্যান বলছে ২০২৫ সালেও ২৭ হাজার শিক্ষাত্রী অনুপস্থিত ছিল। এ বছরও এত অনুপস্থিতির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সকলকে ভাবিয়ে তুলেছে। খবরটি গুরুত্বসহ অনুধাবন করা প্রয়োজন।
খবরে আরো বলা হয়েছে. কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের একজন পরিদর্শকও বহিষ্কার হয়েছেন। গতকাল বিকেলে এসব তথ্য দিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। বোর্ড সূত্র জানায়, প্রথম দিনে এসএসসিতে বাংলা প্রথম পত্র, দাখিলে কুরআন মাজিদ ও তাজভিদ পরীক্ষা এবং এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনালে বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এদিন এসএসসি, দাখিল এবং এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনাল পরীক্ষায় ১৫ লাখ ৯ হাজার ৬ জন পরীক্ষার্থীর অংশ নেয়ার কথা থাকলেও অংশ নেন ১৪ লাখ ৮৩ হাজার ৫৯৮ জন। বাকি ২৫ হাজার ৪০৮ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। দেশজুড়ে ৩ হাজার ৮৭৫টি পরীক্ষা কেন্দ্রের তথ্য দিয়েছে কমিটি। সূত্র আরো জানায়, প্রথম দিনে সাধারণ ৯ শিক্ষাবোর্ডের মধ্যে ঢাকা ও দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডে দুই পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মাদরাসা বোর্ডের অধীনে ৪ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
প্রথম দিনে কয়েকটি কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকের কাছে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, আমি কিছু কিছু জায়গায় মনিটরে বসে দেখেছি, কিছু জায়গায় রুমে গিয়ে দেখেছি। ক্যামেরার লোকেশন কি সেটা দেখেছি। প্রথম দিনে এসএসসি পরীক্ষা সুন্দর হয়েছে। পরীক্ষার প্রথম দিনেই দুই জেলায় পাঁচ কেন্দ্রে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন শিক্ষা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিনে রাজধানীর কয়েকটি কেন্দ্রের সার্বিক পরিবেশ, শৃঙ্খলা ও প্রস্তুতি পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন। সকালে তিনি পরিদর্শন করেন ধানমণ্ডি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, শেরেবাংলানগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং গণভবন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্র। কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে ড. মাহদী আমিন তার এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘পরীক্ষার্থীরা অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
বিপুল পরীক্ষার্থীর অনুপস্থিতির পেছনে শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের অসচেতনতা এবং অর্থনৈতিক কারণ থাকতে বলে মনে করেন কোনো কোনো মূল্যায়ন-বিশেষজ্ঞ। তারা বলছেন, অভিভাবকদের অর্থনৈতিক কারণেও অনেক পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকতে পারে।
আমরা মনে করি অনুপস্থিতির কারণ অনুসন্ধান প্রয়োজন। জীবনের প্রথম পাবলিক পরীক্ষায় এ অনুপস্থিতি জণিত সমস্যাটির সুরাহা প্রয়োজন যাতে এই সংখ্যা কমিয়ে আনা যায়। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ও সংশ্লিষ্টদেরকে এ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা উচিৎ। আর প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। যাতে কোনো পরীক্ষার্থীকে অনুপস্থিত থাকতে না হয়।