ফ্যাসিবাদ রাজনীতির একটি মন্দ বিষয়। তবে এটি বিশেষ কোনো দলের বিষয় নয়; বিষয়টি রাজনৈতিক দর্শন ও দৃষ্টিভঙ্গির সাথে জড়িত। আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদের সাথে বাংলাদেশের মানুষ পরিচিত। তার ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষ লড়ে গেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হাসিনার ফ্যাসিবাদের পতন ঘটেছে। নতুন বাংলাদেশের আকাক্সক্ষায় মানুষ ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। নির্বাচন উৎসবমুখর হলেও ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়ায় ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। তবে মানুষ হতবাক হয়েছে জাতীয় সংসদে সরকারি দলের ভূমিকায়।
জুলাইয়ের অঙ্গীকার, বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ এবং গণভোট নিয়ে সরকারি দলের ভূমিকা মানুষকে হতাশ করেছে। নির্বাচনের আগে তারা কি বললো এবং এখন কী করছে-মানুষ হিসেব মিলাতে পারছে না। হিসেবের গড়মিল শুধু সংসদে নয়, শিক্ষাঙ্গনে এবং রাজনীতির ময়দানেও সেই গড়মিল স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ক্ষমতায় গেলে কি ওয়াদা-অঙ্গীকারের কথা সহজে ভুলে যাওয়া যায়? তাই বলছিলাম ‘ফ্যাসিবাদ’ বিশেষ কোনো দলের বিষয় নয়। বিষয়টি এখনো লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
২৫ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিকের শিরোনামে লেখা হয়, ‘জামায়াতের এমপিকে অবরুদ্ধ করে ভাঙচুর করা হলো গাড়ি’। পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় গিরিপথ ফিলিং স্টেশনে যান নেত্রকোনা ৫ আসনের সংসদ সদস্য জামায়াত নেতা মাছুম মোস্তফা। এ সময় পাম্পে তেল দেওয়া বন্ধ ছিল। সেখানে গাড়ি রেখে একটি কক্ষে নামায পড়তে যান তিনি। এর কিছুক্ষণ পর ১৪-১৫টি মোটর-সাইকেলে প্রায় ২৫ জন যুবক পাম্পে এসে মোটর সাইকেলে তেল নিতে চান। সেখানে হট্টগোল সৃষ্টি করেন তারা। এক পর্যায়ে তারা এমপি মাছুম মোস্তফার গাড়িতে ভাঙচুর চালান। মাছুম মোস্তফা নামায শেষে বের হলে ওই যুবকরা তাকে ধাওয়া করে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পাম্পটিতে আগে থেকেই কয়েকজন পুলিশ সদস্য থাকলেও তারা পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে থানায় বিষয়টি জানান। প্রায় আধাঘন্টা পর পূর্বধলা থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে এমপি মাছুম মোস্তফাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান। রাতে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আমি পাম্পে তেল নিতে গিয়েছিলাম। এ সময় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা আমার গাড়ি ভাঙচুর করে আমার ওপর হামলা চালিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। আমার কর্মী-সমর্থকরা এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয়। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেব।’ উল্লেখ্য, নেত্রকোনা ৫ আসনে জামায়াত প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন পূর্বধলা উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক আবু তাহের তালুকদার। নেত্রকোনা পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংসদ সদস্যকে পুলিশ উদ্ধার করেছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আটকের চেষ্টা চলছে। চেষ্টার ফলাফল কেমন হয় সেটাই এখন দেখার বিষয়। কারণ ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে এসব প্রচেষ্টার ফলাফল তেমন সুখকর হয়নি। বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা সুবিচার পায়নি। ১৫টি মোট সাইকেলে করে এক দঙ্গল যুবকের সন্ত্রাসী অভিযান আমাদের আওয়ী ফ্যাসিবাদের কথা মনে করিয়ে দেয়। প্রশ্ন জাগে, বিএনপিও কি সেই পথে হাঁটছে? সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রদলের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডও প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ফ্যাসিবাদের পায়ের আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে।