‘জুলাই মানে নতুন সকাল, জুলাই মানে স্বপ্নমাখা দিন, লাল জুলাইয়ের রক্ত মেখে, শুধতে হবে শহীদ-গাজীর ঋণ।’ হ্যাঁ। এই জুলাইয়ের কাছে ঋণী আমরা। ঋণী বাংলাদেশের নতুন সরকার, সরকারি দল বিএনপি, সংসদে বিরোধী দলে থাকা রাজনৈতিক দলসমূহ এবং সংসদের বাইরে থাকা সকল দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল এবং মুক্তিকামী জনসাধারণ।

নির্বাচনের পূর্বে বিএনপির চেয়ারপার্সন প্রায়শই বলতেন, ২০২৪ সালের আন্দোলন কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর ছিল না। দল-মত-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় গণতান্ত্রিক মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। সেদিনকার প্রতিটি ছবি তার সাক্ষ্য দেয়। তিনি আরো বলতেন, ‘আমি বলি, ১৯৭১ সাল ছিল স্বাধীনতা অর্জনের বছর আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলন। এই আন্দোলনের চেতনাকে সুসংহত করতে হলে দেশের প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।’ আমরা তাঁর এই বক্তব্যে দারুণভাবে আশায় বুক বেঁধেছিলাম।

বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি। এটি অবশ্যই একটি নির্বাচিত সরকার এবং এককভাবে ২১১টি আসন নিয়ে দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ-সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠের সরকার। বিরোধী দলেও ৭৭। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর ৬৮, এনসিপির ৬। যদিও তারা দাবি করে, আরও কয়েকটি আসন তারা পেতেন। ব্যালট পেপার টেম্পারিং করে তাদের আসন ছিনিয়ে নিয়েছে বিএনপি। জামায়াতের দাবি যাই হোক না কেন, বিএনপি মেজরিটি পেয়ে সরকার গঠন করছে এতে কোন সন্দেহ নেই।

জামায়াত সংস্কারের বিষয়টিকে আইনি ভিত্তি দিতে জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোটের দাবি করছিলো। এনসিপি সেখানে আরো একধাপ এগিয়ে গণপরিষদ গঠন করে নতুন সংবিধান লেখার দাবি জানিয়েছে। তারা মনে করেন, যে সংবিধান ফ্যাসিবাদ তৈরি করেছিল সে সংবিধান বাদ দিয়ে নতুন বন্দোবস্তে সংবিধান লিখতে হবে। জুলাই অভ্যুত্থান নিছক একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সংঘটিত হয়নি; বরং দীর্ঘ দিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা নিরসনে ব্যাপকমাত্রায় সংস্কার প্রয়োজন। দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ তাদের এ চিন্তার সাথে একাত্ম বলে মনে হয়। অন্তর্বর্তী সরকারও তাই চেয়েছিলো। কিন্তু বিচার ও সংস্কার প্রক্রিয়া একটি ধারাবাহিক কর্মযজ্ঞ। তা দ্রুত গতিতে করা ঠিক হবে না বলে বিএনপি এটাকে ধীর গতিতে এগিয়ে নিয়ে জাতীয় নির্বাচনের পরে করার জন্য প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে।

নির্বাচনের পূর্বেই জুলাই নিয়ে নানামুখি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছিলো বিএনপি। তারা একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শেখ হাসিনা সরকারের পতন পর্যন্ত ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের পরিক্রমা তুলে ধরে জুলাই অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্রের খসড়া চূড়ান্ত করে। ফ্যাসিবাদ যাতে আর ফিরে না আসে, এ বিষয়ে ঘোষণাপত্রে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। পাশাপাশি শেখ হাসিনা সরকারের শুরু থেকে ক্ষমতাচ্যুতি পর্যন্ত গুম, খুনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচার নিশ্চিতের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পায়। এ ছাড়া ন্যূনতম সময়ে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং জাতীয় সংসদে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারে মানুষের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরা হয়। এই ঘোষণাপত্রকে ‘প্রোক্লেমেশন’ না বলে ‘ডিক্লারেশন’ বলে উল্লেখ করে দলটি। খসড়া ঘোষণাপত্র নিয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতও গ্রহণ করে তারা। জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতেই এই ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করতে চেয়েছিলো তারা।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ জুলাইয়ে নেতৃত্ব প্রদানকারী ছাত্র সংগঠনসমূহ নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রকাঠামোর প্রয়োজনীয় সংস্কার দাবি করেছিলেন। অন্যদিকে বিএনপি ন্যূনতম সময়ে জাতীয় নির্বাচন এবং নির্বাচিত জাতীয় সংসদে সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের জনগণ ন্যূনতম সময়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশের মানুষের প্রত্যাশা, বিশেষত তরুণ প্রজন্মের আকাক্সক্ষা অনুযায়ী আইনের শাসন ও মানবাধিকার, দুর্নীতি ও শোষণমুক্ত বৈষম্যহীন সমাজ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।

সংকটটি হলো সংবিধান বনাম জনগণের ইচ্ছা বা সার্বভৌমত্ব। বিএনপি বলছে, নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। অতএব এ পার্লামেন্ট যেখানে রয়েছে, সেখানে সংস্কার পরিষদের কোনো অস্তিত্ব নেই। এ মুহূর্তে আজ আমরা কোনো সুনির্দিষ্ট মতামত প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকলাম। তবে এটুকু বোঝা যাচ্ছে, বিষয়টি আর পার্লামেন্টে থাকছে না। আশা করা হয়েছিল, আগামীতে হয়তো সংসদেই রাজনৈতিক বিরোধের ফয়সালা হবে। কিন্তু তার সম্ভাবনা দিনের পর দিন ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে সরকার কতগুলো আইন পাশ করেছে। আর ইন্টারিম সরকারের ২০ অর্ডিন্যান্স হয় বাতিল করেছে, না হয় সেগুলো অকার্যকর হয়ে গেছে। গণভোট, সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি নিয়োগ, সুপ্রিমকোর্টের স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, গুম অধ্যাদেশ, মানবাধিকার ও দুদক অধ্যাদেশ ইত্যাদি হয় বাতিল, না হয় অকার্যকর হয়েছে। আবার ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইন পাশ করা হয়েছে। এগুলো নিয়ে শুধু যে বিরোধী দলগুলোই সমালোচনা করছে তা নয়, বরং সুধীসমাজের অনেকে এবং মূলধারার সংবাদপত্রের সিংহভাগ সমালোচনায় মুখর হয়েছে।

এমতাবস্থায় বিএনপি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে স্পষ্টত বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশের রাজনৈতিক দল এবং সচেতন জনগণ। তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রধান লক্ষ্য ছিল স্বৈরতন্ত্রের স্থায়ী বিলোপ। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে সংবিধানে থাকা স্বৈরতন্ত্রের সুযোগগুলো রহিত করতে এবং ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে অন্তর্বর্তী সরকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ জারি করেছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পথ মাড়িয়ে ক্ষমতায় আসা বিএনপির প্রতি প্রত্যাশা ছিল, তারা ছাত্র-জনতার রক্তের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে এই অধ্যাদেশগুলো সংসদে অনুমোদন করিয়ে নেবে। কিন্তু জনতার রক্তের সাথে বে-ইনসাফি করে বিএনপি স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় প্রতিবন্ধক হতে পারে এমন সকল অধ্যাদেশ বাতিল ও সংশোধনের প্রস্তাব করেছে। এর মাধ্যমে বিএনপিও পতিত স্বৈরতন্ত্রের পদাঙ্ক অনুসরণ করল।

তারা আরো মনে করেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠা ও তাদের প্রথম মেয়াদের ক্ষমতা সংহত হয়েছে গণভোটের মাধ্যমে। এবারের গণভোটের সিদ্ধান্তও বিএনপিকে সাথে নিয়েই করা হয়েছে। তারেক রহমান নিজেও গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। সেই বিএনপি এখন অতি-সাংবিধানিকতা দেখিয়ে গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের দুর্বলতার সুযোগে পতিত স্বৈরাচার জাতির ওপরে নির্মম নির্যাতন করেছে। মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করে জারি করা অধ্যাদেশও বিএনপি অনুমোদনের জন্য সংসদে না তুলে পদ্ধতিগতভাবে বাতিল করে দিচ্ছে। একইভাবে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশও বিলোপ করার পথে হাঁটছে বিএনপি। সত্যিকার অর্থে, দুর্নীতি দমন কমিশনের দুর্বলতার সুযোগে পতিত ফ্যাসিবাদী সরকার দেশটা অন্তরসারশূণ্য করে ফেলেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করার অধ্যাদেশও লোপ করছে বিএনপি। আর বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কার্যকর করে জারি করা অধ্যাদেশগুলো সরাসরি বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। অথচ বিএনপি নিজেও পতিত স্বৈরতন্ত্রের নিপীড়নের শিকার। বিষয়টি দেশবাসীতে অবাক করেছে বৈকি!

২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার ২০১১ সালে কেয়ারটেকার সরকার পদ্ধতি বাতিল করেন। এরপর থেকেই দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম দল জামায়াতে ইসলামী বহুবার বলে, এ সংবিধান তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। বেগম জিয়া ওই সংবিধান ছুঁড়ে ফেলে দেবেন, এমন অনেক ভিডিও বক্তৃতা এখনো ইউটিউবে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের পতন হলে নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জুলাইয়ের বিপ্লব বা গণঅভ্যুত্থান বর্তমান সংবিধান মেনে হয়নি। আর সে কারণেই বিপ্লবের অব্যবহৃত পর সরকার গঠন নিয়ে জটিল সংকটের সৃষ্টি হয়।

তৃতীয়ত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ৮ আগস্ট রাত ৮টা পর্যন্ত দেশে কোনো সরকার ছিল না। তবে ৬ আগস্ট শেখ হাসিনার তথাকথিত জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়; কিন্তু শেখ হাসিনার মনোনীত ও নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট রয়ে যান। জাতীয় সংসদ ভেঙে দিলেও শেখ হাসিনার সংবিধান বাতিলও করা হয়নি বা স্থগিতও করা হয়নি।

চতুর্থত, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট রাত ৮টায় ড. ইউনূসের নেতৃত্বে যে অন্তর্বর্তী বা ইন্টারিম সরকার গঠিত হয়, সংবিধানে তারও কোনো প্রভিশন নেই। ৬ আগস্ট নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেওয়া হয়। কে তাকে নিয়োগ দিলেন? সংবিধান মোতাবেক তো প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশে তার নিয়োগ পাওয়ার কথা। সংবিধান এবং ইন্টারিম সরকার ও পরবর্তী ১৮ মাস এবং নির্বাচন নিয়েও অনেক প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে।

পঞ্চমত, ইন্টারিম সরকার নিয়োজিত ঐকমত্য কমিশনও সংবিধানে নেই। ওই কমিশন ৯ মাস ধরে ম্যারাথন সেশনের পর যে জুলাই সনদ প্রণয়ন করে, সেই সনদের বাস্তবায়নের জন্য প্রেসিডেন্ট একটি বিশেষ অর্ডারের অধীনে নির্বাচন এবং সংস্কার পরিষদ অধ্যাদেশ জারি করেন। প্রেসিডেন্টের এ অধ্যাদেশটিকে বাস্তবায়ন আদেশ বলা হচ্ছে। আদেশে বলা হয়েছে, যারা নির্বাচিত হবেন, তারা দুটি শপথ গ্রহণ করবেন। একটি হলো, জাতীয় সংসদ-সদস্য হিসাবে। অন্যটি সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসাবে। এ অধ্যাদেশে জুলাই সনদের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। গণভোট ও এমপি নির্বাচন একই দিন অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটের পক্ষে ৬৯ শতাংশ ভোট পড়েছে; কিন্তু গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সদস্যরা এমপি হিসাবে শপথ নিয়েছেন, কিন্তু সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসাবে শপথ নেননি। পক্ষান্তরে, বিরোধী দলের ৭৭ জন সদস্য দুটি শপথই নিয়েছেন। আর এখান থেকেই শুরু হয়েছে নতুন জটিলতা, নতুন সংকট। বিএনপি বলছে, ওই ধরনের আদেশ দেওয়ার কোনো ক্ষমতা সংবিধান প্রেসিডেন্টকে দেয়নি। আর বিরোধী দল বলছে, ওই আদেশ ছিল বিপ্লব থেকে উৎসারিত জনগণের ইচ্ছা ও সার্বভৌমত্বের প্রকাশ। গণভোটে ৬৯ শতাংশ ভোট দিয়ে জনগণ পুনর্বার তাদের আশা-আকাক্সক্ষা ও সার্বভৌম ক্ষমতা আবারও প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার ওপর সংবিধান নয়; বরং সংবিধান জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার অধীন। বিষয়টি এখনো প্রশ্নের উর্ধে উঠতে পারেনি।

মূলত, ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান সামনে নিয়ে আসে। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের ভূমিকায় উল্লেখ করেছিলো, ‘জনগণের রায়ে দায়িত্ব পেলে বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবে, যেখানে ভোটের মর্যাদা থাকবে; সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও বৈষম্যের অবসান হবে; আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকবে না এবং প্রতিটি নাগরিক গর্ব করে বলতে পারবে, সবার আগে বাংলাদেশ।’ এ প্রেক্ষাপটে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিয়ে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়েছে। চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের মূল কথা ছিল বৈষম্যের অবসান। সবার আগে বাংলাদেশ বলতে বিএনপি দুর্নীতি, বৈষম্য ও সন্ত্রাসের অবসান ঘটানোর কথা বলেছে। গণতান্ত্রিক কাঠামো সুদৃঢ় করার কথা বলেছে। আমরা প্রত্যাশার আলো নিয়ে আশাবাদী হলেও ইতোমধ্যে বিএনপি জনমনে সংশয় তৈরি করেছে। দুর্নীতি, বৈষম্য, সন্ত্রাস এবং চাঁদাবাজির নোংরা খেলায় মেতে উঠেছে তাদের স্বার্থবাদী কিছু নেতাকর্মী। অন্যদিকে গণভোটকে অবমূল্যায় করার কারণে তাদের বিরুদ্ধে এমনও মন্তব্য শোনা যাচ্ছে যে, ‘সরকার জনগণকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ভুলিয়ে দিতে চায়। বিএনপি গণভোট আগে হোক এর পক্ষে সম্মত ছিলো না, তখনই সন্দেহ জেগেছিল বিএনপি নির্বাচনের পরে কোনো দুরভিসন্ধি আঁটবে। আজ সেই সন্দেহ বাস্তবে পরিণত হলো।’ এ অবস্থা থেকে উত্তোরণের পথ সরকারকেই তৈরি করতে হবে।