চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রথম তিন মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানের কথা বলা হলেও হত্যাকান্ড, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, ধর্ষণ, ছিনতাই এবং দলীয় নেতাকর্মীদের দ্বারা বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে। রাজধানীসহ সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি চোখে পড়েনি বলে সাধারণ মানুষের অভিযোগ। আওয়ামী লীগের টানা সাড়ে ১৫ বছরের পর বিএনপি সরকার গঠন করায় সাধারণ মানুষ প্রত্যাশিত পরিবেশ ফিরে পায়নি বলে অনেকের মন্তব্য। অপরাধীদের বেপরোয়া অবস্থা, মাদককারবারি, চুরি-ডাকাতি বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যাপকভাবে বেড়েছে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা।
সাধারণ মানুষের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই এসব ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান এবং প্রশংসিত তৎপরতা চোখে পড়ছে না। সরকার অপরাধ দমনে “শূন্য সহনশীলতা” বা জিরো টলারেন্স নীতির দাবি করলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। যদিও বিগত দুই মাসে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’ উদ্যাপন উপলক্ষে ‘প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কল্যাণ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির পাশাপাশি আরো উন্নত করতে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলছে বলেও উল্লেখ করেছেন।
পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত তিন মাসে ৮৫৫ টি হত্যাকাণ্ড হয়েছে। ফেরুয়ারিতে ২৫০, মার্চে ৩১৭টি ও এপ্রিলে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে অন্তত ২৮৮টি। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, এপ্রিলে এক মাসেই ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় কমপক্ষে ১৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় হত্যাকাণ্ড হয়েছে ৪টি। খুলনা মেট্রোপলিটনে ২টি, বরিশাল মেট্রোপলিটনে ২টি, সিলেট মেট্রোপলিটনে ৩টি, রংপুর মেট্রোপলিটনে ১টি, গাজীপুর মেট্রোপলিটনে ৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মেট্রোপলিটন ছাড়াও ঢাকা রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৬৪টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের তালিকায় এ সংখ্যা উল্লেখ করা হলেও বাস্তবে এ সংখ্যা আরও বেশি হবে। এসবের মধ্যে রাঙ্গামাটিতে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে ধর্মসিং চাকমা নিহতের ঘটনাটি ছিল চাঞ্চল্যকর। এসময় বিরোধী দলের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছেন। গণপিটুনি, চাঁদাবাজি নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে সরকারি দলেরও বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী খুন হয়েছে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে সহিংস ঘটনা ঘটেছে। অনেক ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শক্ত অবস্থান দেখা যায় নি।
এদিকে শীর্ষ সন্ত্রাসীর অপতৎপরতায় অস্থির হয়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশ। একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে খুনি-সন্ত্রাসীরা। চাঁদার দাবিতে করছে গোলাগুলি। টেন্ডার দখলকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি ক্যানসার হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আহমদ হোসেনকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটেছে। এসবের নেপথ্যে রয়েছে জামিনে বেরিয়ে আসা শীর্ষ সন্ত্রাসীরা। তাদের নেতৃত্বাধীন চক্রের সদস্যরা প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে। এসব ঘটনায় মাঝেমধ্যে খুনের মতো ঘটনা ঘটে। এই অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দফায় দফায় বৈঠক করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট ইউনিট। সমন্বয় সভা হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও। সূত্র জানায়, ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের পর জামিন পাওয়া সন্ত্রাসীদের অনেকেই দেশের বাইরে পালিয়ে যায়। বিএনপি সরকার গঠনের পর তাদের কেউ কেউ এরই মধ্যে দেশে ফিরেছে। অনেকেই চেষ্টা চালাচ্ছে দেশে ফেরার। কেউ কেউ কারাগারে বসেই নির্দেশনা দিচ্ছে দেশকে অস্থিতিশীল করার। জামিনপ্রাপ্ত সন্ত্রাসীদর মধ্যে সরকারের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী আছে অন্তত ছয়জন। জামিনে বেরিয়ে এসে যারা আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-কিলার আব্বাস, পিচ্চি হেলাল, সানজিদুল ইসলাম ওরফে ইমন, খন্দকার নাঈম আহমেদ ওরফে টিটন (সম্প্রতি নিহত) ও খোরশেদ আলম ওরফে রাসু ওরফে ফ্রিডম রাসু। ইতোমধ্যে এসব সন্ত্রাসীর আধিপত্য বিস্তারকে ঘিরে বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রায়েরবাজারে দুই যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় নাম উঠে এসেছে পিচ্চি হেলালের। মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, এলিফ্যান্ট রোডসহ আশপাশের এলাকার অপরাধজগতে পিচ্চি হেলালের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইমন। এরই মধ্যে নিউমার্কেট এলাকায় প্রতিপক্ষের গুলিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন নিহত হয়।
পুলিশের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা সভাগুলোতে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তৎপরতা, পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র এবং চাঁদাবাজিতে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্তদের জড়িত হয়ে পড়াই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বড় কারণ। ওদিকে মব বা দলবদ্ধ সহিংসতার ঘটনাও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না। একটি মানবাধিকার সংস্থার তথ্য মতে- এপ্রিল মাসেও মব সহিংসতায় অন্তত ১৯ জন প্রাণ হারিয়েছে। সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে অপরাধবিষয়ক বিশ্লেষকদের অনেকের কথাতেই আইনশঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি এখনো উঠে আসছে।
জানা গেছে, বাসস্ট্যান্ড, ট্রাকস্ট্যান্ড, ফুটপাত ছাড়াও গার্মেন্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে কিংবা চেষ্টা হচ্ছে বলে খবর আসছে প্রতিনিয়ত। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে এমনকি জেলা পর্যায়েও এসব চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের যে তালিকা পুলিশ করেছে সেখানে রাজনীতিতে জড়িত অনেকের নাম আছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ঢাকার বাইরেও কয়েকটি চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি থানায় গুলিতে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একটি শিশুও গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। খুলনার বটিয়াঘাটায় আজিজুল ইসলাম নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা, শুক্রবার সন্ধ্যায় তার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই খুলনাতেই গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে এমন একজন ব্যক্তিকে গুলি করার পর তাকে ঢাকায় আনার পথে তাকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করেও গুলির ঘটনা ঘটেছে গত ৪ মে রাতে।
২০২৪ সালের অগাস্টে ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পুলিশ বাহিনীর মধ্যে যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তা সামাল দিয়ে উঠলেও পুলিশকে পুরোপুরি কার্যকর এখন করা গেছে কি-না সেই প্রশ্ন আছে অনেকের মধ্যে। হাসিনা সরকারের পতনের আন্দোলন চলার সময় অনেক থানায় হামলা করে যেসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হয়েছে, সেগুলোর সব এখনো উদ্ধার করা যায়নি। এসব অস্ত্র পেশাদার সন্ত্রাসীদের হাতে চলে গেছে কি-না তা নিয়েও উদ্বেগ আছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পুরস্কার ঘোষণার পরও এপ্রিল মাস পর্যন্ত মোট এক হাজারের বেশি অস্ত্র ও প্রায় আড়াই লাখ গোলাবারুদ এখনো উদ্ধার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এগুলো বিভিন্ন থানা থেকে লুট হয়েছিল। পুলিশ সদর দপ্তর ও ঢাকা মহানগর পুলিশের কর্মকর্তা জানান, কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নামে তৎপরতা, আর পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র গোলাবারুদ উদ্ধার করতে না পারাটাও আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে ভূমিকা রাখছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ একটি আলোচনায় বলেছেন যে, সরকারের আড়াই মাসেই পুলিশ বাহিনী সক্রিয় ও কার্যকর হয়ে উঠেছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। একই সাথে জনমনেও আস্থা ফিরে এসেছে। সে কারণেই সেনাবাহিনীকে মাঠ পর্যায় থেকে পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করা হচ্ছে,” বিবিসি বাংলাকে বলেছেন তিনি।
পুলিশ বলছে, চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে গত চব্বিশ ঘণ্টায় শুধু ঢাকাতেই বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ১০০ জনের বেশি ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। সবমিলিয়ে চলতি মাসের প্রথম সাত দিনে আটক হয়েছে ৯০০ জনের বেশি। কিন্তু এরপরেও ছিনতাই চাঁদাবাজির অভিযোগ আসছেই। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে সড়ক মহাসড়কে যানবাহন ঠেকিয়ে বা আটকে বিভিন্ন কায়দায় ছিনতাই ডাকাতির নিত্যনতুন ভিডিও দেখা যাচ্ছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এ এইচ এম শাহাদত হোসাইন বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা আগের চেয়ে অনেক উন্নতি হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার হয়েছে। সন্ত্রাসী- চাঁদাবাজদের তালিকা করে অভিযান চলছে। অনেককে আটক করা হয়েছে। সব মিলিয়ে কিছু অপরাধ থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই আছে, অবনতি হয়নি। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) মো. আলী হোসেন ফকির ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, পুলিশের কিছু যে বিশৃঙ্খলা ছিল তা অনেকাংশে সুশৃঙ্খল করা সম্ভব হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা, এইচআরএসএস-এর তথ্য অনুযায়ী- চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সারাদেশে রাজনৈতিক ও নির্বাচনি সহিংসতায় ১০ জন নিহত ও অন্তত ১ হাজার ৯৩৩ জন আহত হয়েছেন। দলীয় কোন্দল ও অন্তর্কোন্দল, নির্বাচনকেন্দ্রিক সংঘর্ষ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক বিরোধকে ঘিরে এসব ঘটনা ঘটে। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেব্রুয়ারিতে কমপক্ষে ৩৪৬টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন এবং আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১,৯৩৩ জন। জানুয়ারির তুলনায় রাজনৈতিক সহিংসতা ও হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে। জানুয়ারিতে ১৫১টি ঘটনায় ৮ জন নিহত ও ১,২৩৩ জন আহত হয়েছিলেন।
৩৪৬টি ঘটনার মধ্যে বিএনপির অন্তর্কোন্দলে ৯৫টি ঘটনায় ৫৯৯ জন আহত ও ৮ জন নিহত হয়েছেন। জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সংঘর্ষে ১৯১টি ঘটনায় ৯৯৮ জন আহত ও ১ জন নিহত হন। বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষে ৯টি ঘটনায় ২৭ জন আহত ও ১ জন নিহত হন। বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষে ১৪টি ঘটনায় ১৩৮ জন আহত হন। আওয়ামী লীগ-এনসিপি সংঘর্ষে ৩টি ঘটনায় ৫১ জন এবং বিএনপি-অন্যান্য দলের সংঘর্ষে ২৮টি ঘটনায় ৮১ জন আহত হন। এছাড়া বিভিন্ন দলের মধ্যে ১১টি ঘটনায় আহত হয়েছেন ৪২ জন। নিহত ১০ জনের মধ্যে বিএনপির ৮ জন, জামায়াতের ১ জন এবং আওয়ামী লীগের ১ জন রয়েছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনা, সমাবেশকেন্দ্রিক সংঘর্ষ, প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ, হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও চাঁদাবাজি, এসব কারণে অধিকাংশ সহিংসতা ঘটেছে। নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতার তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, ৩৪৬টি ঘটনার মধ্যে অন্তত ২৮৫টি ছিল নির্বাচন সংশ্লিষ্ট। এতে ১,৫৫৫ জন আহত ও ৫ জন নিহত হন।
এদিকে, চলতি বছরের মার্চ মাসে সারা দেশে রাজনৈতিক ও নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় ১৮ জন নিহত এবং ৯১২ জনের বেশি বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে ১১৩টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৮ জন এবং আহত হয়েছেন ৯১২ জন। মার্চ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতা তুলনামূলক কমলেও নিহতের সংখ্যা ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় বেড়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ৩৪৬টি ‘রাজনৈতিক সহিংসতার’ ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন ১০ জন। মার্চ মাসে সহিংসতার ১১৩টি ঘটনার মধ্যে বিএনপির অন্তর্কোন্দলে ৪৫টি ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৫০১ জন ও নিহত হন ৯ জন। ১৬টি বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ১০৯ জন ও নিহত পাঁচজন, ২২টি বিএনপি-আওয়ামী লীগের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ১৫৬ জন এবং নিহত হয়েছেন দু’জন। দু’টি বিএনপি-এনসিপি মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ১১ জন, ২১ টি বিএনপি-অন্যান্য দলের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৩৯ জন। এ ছাড়া, বিভিন্ন দলের মধ্যে সাতটি সহিংসতার ঘটনায় আহত হয়েছেন ৯৬ জন ও নিহত হয়েছেন দু’জন।
এদিকে, মানবাধিকার সংস্থা মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত এপ্রিল মাসে দেশে মব বা গণপিটুনির ঘটনায় ২১ জন নিহত এবং ৪৯ জন আহত হয়েছেন। মার্চ মাসে ৩৬টি মব সহিংসতার ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও ৩১ জন আহত হওয়ার তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে গণপিটুনিতে নিহত হন ১৮ জন, জানুয়ারিতে ২১ জন এবং গত বছরের ডিসেম্বরে নিহতের সংখ্যা ছিল ১০ জন। এভাবে ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের সহিংসতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে কুষ্টিয়ায় গত ১১ এপ্রিল পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীম আল-জাহাঙ্গীরকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মার্চের তুলনায় এপ্রিল মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাও বেড়েছে। এপ্রিল মাসে অন্তত ৩১২টি সহিংসতার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যা আগের মাসের তুলনায় ২৩টি বেশি। এর মধ্যে ৫৪টি ধর্ষণ ও ১৪টি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া এপ্রিলে ৮৯ জন নারী ও শিশু হত্যার শিকার হয়েছেন, যেখানে মার্চ মাসে এই সংখ্যা ছিল ৭৩। তবে রাজনৈতিক সহিংসতায় হতাহতের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। এসময় রাজনৈতিক সহিংসতায় ৩ জন নিহত ও ৩০৩ জন আহত হয়েছেন।